প্রচ্ছদ বৃটেন ৩১শে জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে

৩১শে জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে

92
0
ছবি: ইন্টারনেট।
অনলাইন ডেক্স: ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ‘ব্রেক্সিট’ বিল অবশেষে পাস হলো। আগামি বছরের ৩১শে জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গতকাল শুক্রবার এ লক্ষ্যে আনা বিলটি বড় ভোটের ব্যবধানে পাস করেছেন সেদেশের এমপিরা। বিলটির পক্ষে পার্লামেন্টে ভোট দেন ৩৫৮ জন এমপি। বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৩৪টি।
তবে এই বিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যে অন্তবর্তীকালীন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেটি কোনভাবেই ২০২০ সালের বেশি বাড়ানো যাবে না বলে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ব্রেক্সিট কার্যকর করার পথে ব্রিটেন এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বিলটির বিপক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার দলেরই ছয় জন এমপি তা অমান্য করে বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
বরিস জনসন আশা করছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি ২০২০ সালের মধ্যেই করা সম্ভব। তবে সমালোচকরা এই সময়সীমাকে অবাস্তব বলে বর্ণনা করেছেন। কনজারভেটিভ পার্টি এ মাসের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সহজেই এই বিলটি পাশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। সরকার বলছে, এই বিলটিকে ৩১শে জানুয়ারির আগেই তারা আইনে পরিণত করবেন।
উল্লেখ্য, ব্র্রিটিশ এক্সিট’ নামটিকে সংক্ষেপে ডাকা হচ্ছে ব্রেক্সিট নামে। এটি হচ্ছে ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাবার প্রক্রিয়া। ইইউ হচ্ছে ২৮টি দেশের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক জোট। এই জোটের সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য করে থাকে, এসব দেশের নাগরিকরা জোটভুক্ত যেকোন দেশে গিয়ে থাকতে ও কাজ করতে পারেন।
১৯৭৩ সালে যুক্তরাজ্য ইইউতে যোগ দেয়। ৪০ বছরের বেশি সময় ইইউয়ের সাথে থাকার পর ২০১৬ সালের ২৩শে জুন একটি গণভোট নিয়েছিল যুক্তরাজ্য। সেখানে সেদেশের নাগরিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল – যুক্তরাজ্যের কি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে থাকা উচিত নাকি উচিত না? ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে, আর থাকার পক্ষে ছিল বাকি ৪৮ শতাংশ ভোট। কিন্তু সেই ভোটের ফলাফলের সাথে সাথেই ব্রেক্সিট হয়ে যায়নি। অবশেষে তা ঘটবে আগামী ৩১শে জানুয়ারি।
-বিবিসি