প্রচ্ছদ ফিচার সাংবাদিকতার কতিপয় প্রথম পাঠ

সাংবাদিকতার কতিপয় প্রথম পাঠ

173
0
ছবি: ইন্টারনেট।
সারওয়ার-ই-আলম: একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে (প্রেস রিলিজ) কখনো কি নিজ্স্ব প্রতিবেদন বা প্রতিনিধির প্রতিবেদন বলে চালিয়ে দেয়া যায়? উত্তর সুস্পষ্ট। না যায়না। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রদত্ত তথ্যের দায় সংগঠনের। আর প্রতিনিধির পাঠানো প্রতিবেদনের তথ্যের দায় ও কৃতিত্ব প্রতিবেদকের।
‘না, আমি আসলে পড়ে দেখার সময় পাইনি, যেভাবে ওরা পাঠিয়েছে সেভাবে ছেপে দিয়েছি’- এসব কথা বলে পেশাদার সাংবাদিক দায় এড়াতে পারেন না। মনে রাখতে হবে মহান পেশার দায়িত্বও মহান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে ‘ডেস্ক রিপোর্ট’ হিসেবে যে সকল সম্পাদক ছাপেন তাদেরও কিন্তু দায়টা নিজেদের কাঁধেই এসে যায়। কারণ ‘ডেস্ক’টা তো আপনার। এক্ষেত্রে খবরের উৎসসূত্র ‘সংবাদ বিজ্ঞপ্তি’ উল্লেখ করে দেয়াটা নিরাপদ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে তথ্য নিয়ে কোন প্রতিবেদক প্রতিবেদন তৈরি করতে চাইলে, অবশ্যই প্রতিবেদনে তার সংগৃহীত তথ্য থাকবে। এক্ষেত্রে ‘সংবাদ বিজ্ঞপ্তি’র তথ্য ব্যবহারের সময় বলে দিতে হবে ‘সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি’ থেকে জানা যায়…..। এটাই সবচেয়ে উত্তম পন্থা।
অন্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন কিংবা প্রবন্ধ অনুমতি ছাড়া নিজেদের কাগজের পাতা ভারী করার জন্য পুণ:প্রকাশ করাটা গর্হিত কাজ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানুক বা না জানুক, এটা অন্যায়। কারণ ‘কণ্টেণ্ট প্রাইভেসি পলিসি’তে সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকে ‘পূর্বানুমতি ব্যতীত কোন কিছু অন্যত্র পুণপ্রকাশ করা যাবে না’।যে সকল কাগজ কিংবা অনলাইন পোর্টাল অহরহ এ কাজটি করছেন তারা সাংবদিকতার চরম ক্ষতি করছেন। কারণ এটা অনৈতিক। কপিরাইট লংঘন। নিজেরা আইন ভঙ্গ করে জাতিকে নৈতিকতার শিক্ষা দেয়াটা একধরনের শঠতা। ‘ওরাতো করছে’ বলে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ নেই। এটা পরীক্ষায় নকল করার মতো অপরাধ। নকলবাজ সম্পাদক ধকলবাজ জোতদারের সমতুল্য। আপনার যদি চারপাতার উপকরণ (কণ্টেণ্ট) থাকে, চারপাতাই ছাপুন। চৌর্যবৃত্তি করে পাতা বাড়ানোর কী দরকার! যারা পূর্বানুমতি নিয়ে ছাপেন তারা এ দায় থেকে নিরাপদ।
বিবিসি, সিএনএন, এপি, এএফপি, রয়টার কিংবা সিনহুয়া থেকে খবর নিয়ে ‘কপি-পেস্ট’ করে নিজের অনলাইন পোর্টালে ‘ডেস্ক রিপোর্ট’ বলে ছেপে দেয়া রীতিমতো অপরাধ। ঢাকায় বসে ডালাসের খবর জানলেন কীকরে? আপনার প্রতিবেদক আছে? না, নেই। তো! আপনার ‘ডেস্ক রিপোর্ট’ হলো কীকরে? এটাতো অন্যের ডেস্ক চুরি করার সামিল। এক্ষেত্রে পরিস্কার ভাষায় বলে দিতে হবে- বিবিসি/ সিএনএন….থেকে জানা যায়।এখানেও শর্ত আছে। এসকল প্রতিষ্ঠানের ‘প্রাইভেসি পলিসি’ দেখতে হবে।
উফ! দু:সহ লাগছে? হ্যাঁ দু:সহই। এ কারণেই এটি মহান পেশা। সৃজনশীল পেশা সবার জন্য উন্মুক্ত। তাই বলে মন চাইলেই ‘কপি এণ্ড পেস্ট’-এর ‘অনলাইন পোর্টাল’ চালু করে রাতারাতি ‘ এডিটর-ইন-চীফ’ কিংবা ‘চীফ এডিটর’ বনে যাওয়াটা রীতিমত অপরাধ।চরম অন্যায়।কার জমির ফসল আপনি কাটছেন? ছিঁড়ে নিচ্ছেন কার বাগানের ফুল? আপনার কি অধিকার আছে? কপি-পেষ্ট করার আগে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন। আপনি নিজের বিবেকই হতে পারলেন না, জাতির বিবেক হবেন কিভাবে?
আপনি সাংবাদিক হতে চান, ভাল কথা। কিন্তু নিজেকে প্রশ্ন করুন- আপনি কি বুঝেন- খবর কী? আপনি কী জানেন কিভাবে খবর লিখতে হয়? এসব প্রশ্নের উত্তর যদি ‘না’ হয়, হতাশ হবেন না। স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ নিয়ে নিন। কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করুন শিক্ষানবীশ হিসেবে। বাজারে, অনলাইনে বিনামূল্যে অনেক বই পাওয়া যায়। সেখান থেকেও স্বশিক্ষিত সাংবাদিক হতে পারেন। এ একটি মহান পেশায় কোন নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু আপনি নিজেকে তৈরি করবেন আপনার নিজের প্রয়োজনেই।
সম্পাদকরা কাগজ বের করার আগে নিজেদের প্রশ্ন করুন- আপনার কি প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রতিবেদক আছে? আপনার খবর সংগ্রহের উৎস কী হবে? বিনিয়োগের সামর্থ্য কি আপনার আছে? আপনি কি সংবাদ সম্পাদনা জানেন? এবং সাংবদিকতার নীতিমালা সম্পর্কে ধারণা? এসব না জেনে সম্পাদক হওয়াটা ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার পরও গাড়ী চালানোর মত অপরাধ। জেনে শুনে কেন অপরাধ করবেন?