প্রচ্ছদ বাংলাদেশ শিশুদের পোশাকে জমকালো সিলেটের ঈদ বাজার

শিশুদের পোশাকে জমকালো সিলেটের ঈদ বাজার

201
0
সুবর্ণা হামিদ:  ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি, ঈদের দিনে সবার মাঝে নতুন পোশাক পড়ার আমেজ বিরাজ করে। বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে নবজাতক সবার জন্য চাই নতুন পোশাক। আর ছোটদের জন্য ঈদ হলো আরো একটু বিশেষ আকর্ষন। ঈদকে ঘিরে তাদের মনেও থাকে নানা কল্পনা, নানা চিন্তা।
ঈদ বাজারের তালিকায় শিশুদের প্রভাব অন্য সবার চাইতে বেশি।বড়দের পোশাক কেনা হউক বা না হউক, ছোটদের পোশাক কেনা চাই।নয়ত ঈদের আনন্দই যেন মাটি হয়ে যাবে। অভিভাবকরাও সবচেয়ে আকর্ষণীয় সুন্দর পোশাকটি কিনে দিতে চান সন্তানকে। আর ঈদের সময় শিশুদের আনন্দ অন্য সবাইকে হার মানায়। তাই শিশুদের কথা মাথায় রেখে নগরীর সব কটি শপিংমল গুলোকে সাজানো হয়েছে রঙিন সাজে। আর এই আয়োজন থেকে বাদ পড়েনি দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোও। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এসব পোশাকে ডিজাইন ও নামে রয়েছে নানা বৈচিত্র্য। নবজাতক থেকে শুরু করে কিশোর কিশোরী সহ সব বয়সী বাচ্চাদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ফ্যাশন হাউস এবং শপিংমলগুলোতে।
ফ্যাশন হাউস ছাড়াও বিদেশি পোশাকের দোকানগুলোতেও রয়েছে নান্দনিক পোশাকের কালেকশন। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী দের সাথে কথা বললে নগরীর আল হামরা শপিংসিটির ডিজাইন প্লাস’র ব্যবসায়ী রিপন আহমদ জানান- বরাবরের মতো আমরা এবারও শিশুদের জন্য নানা রকমের পোশাক এনেছি,দামও অনেকটা কম রেখেছি যাতে অভিভাবকদের সাধের মধ্যে থাকে। তাদের যাতে বাচ্চাদের চাহিদা মেটাতে হিমশম খেতে না হয়।

 

এবারের ঈদে বাচ্চাদের জন্য বিভিন্ন কার্টুনের নামেও পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। মেয়ে বাচ্চাদের জন্য পার্টি ফ্রক, গ্রাউন থি-পিস, লং ফ্রক, লং কামিজ, ঘাগড়া চোলি, টিউনিক ক্যাপি, ডিভাইডার, লেগিংস ও ওয়েস্টার্ন পোশাকের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। এমনকি পাওয়া যাচ্ছে মেয়ে বাচ্চাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি শাড়িও। মেয়েদের একটু ঘের দেয়া লম্বা কামিজ যেমন চলবে, তেমনি ছেলেশিশুদের পাঞ্জাবিতে এ লাইন কাটের ব্যবহার বেশি এবার। তবে ছেলেদের বিশেষ আয়োজনে রয়েছে জিন্স, টি-শার্ট, ফতুয়া ও পাঞ্জাবি। ঈদটা হবে গরমেই। তাই এ সময় দরকার আরামদায়ক পোশাক।
গরমকে বিবেচনা করে হাতাসহ ও হাতা কাটা দুই ধরনের পোশাকই থাকছে। ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্য থাকবে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট। গরমের কারণে হাল্কা সুতি কাপড়ের প্রাধান্য বেশি থাকলেও জমকালো পোশাকগুলোতে থাকছে টিস্যু, মসলিন ও সার্টিন কাপড়ের ব্যবহার। ডিজাইনেও রয়েছে ভিন্নতা। আর বাচ্চাদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে বরাবরের মতো এবারও গাঢ় উজ্জ্বল রঙের প্রতি বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ক্রেতাদের সাথে কথা বললে স্কুল শিক্ষক সুলতানা সাত্তার জানান – এই ঈদে বাচ্চাদের পোশাকে দাম আমার কাছে একটু বেশি মনে হচ্ছে। বিশেষ করে সুতির কাপড়ের, ঈদ যেহেতু গরমের দিনে তাই সবাই বাচ্চাদের জন্য পাতলা আরামদায়ক পোশাক বাঁচাই করছে। কিন্তু দাম আরো একটু কম হলে সব শ্রেণীর মানুষের জন্য ভালো হতো। সময় বদলেছে,এখন আর বাজারে না গিয়েও বাজার ঘরে চলে আসে। কম্পিউটার বা স্মিট ফোনের সাহায্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইনে ঈদের কেনাকাটা করা যায়।
দেশের প্রায় সবগুলো পোশাক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানই এখন অনলাইনে পোশাক বিক্রি সুবিধা রেখেছে। এ ব্যাপারে অনলাইনে ব্যবসায়ী নাফিসা ইসলাম নোহা জানান- এখন দুনিয়াটা প্রযুক্তি নির্ভর,মানুষ চাইলে ঘরে বসে কেনাকাটা করতে পারে।ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত নাম করা প্রতিষ্ঠান ইলোরা বুটিক হাউজের সহযোগিতায় অনলাইনে সব ধরনে জিনিস বিক্রি করে থাকি। এতে মানুষের ঝামেলাও কম হয় আবার সময়ও বাঁচে।
অনলাইনে কেনাকাটা করেছেন কলেজ ছাত্রী তানজিনা আক্তার আয়শা,কথা হয় তার সাথে তিনি বলেন- বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশ এখন অনেকটা এগিয়ে। আমরা এখন চাইলে ঘরেবসে অনেক কিছু করতে পারি। তাই বাহিরে যাওয়ার ঝামেলা এড়াতে ঘরে বসে ঈদের কেনাকাটা শেষ করেছি। এতে অনেক সময়ও বাঁচে। যানজটেও পড়তে হয় না।