প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক শহীদ জননীর আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে-ঘাদানিক নিউ ইয়র্ক চ্যাপ্টার

শহীদ জননীর আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে-ঘাদানিক নিউ ইয়র্ক চ্যাপ্টার

545
0
SHARE

আনসার আহমেদ উল্লাহঃ

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মনে প্রানে ধারণ করতে পারলেই বর্তমানে মিমাংসিত বিষয়গুলি নিয়ে অযতা বিতর্ক কিংবা জাতিকে দ্বিধা বিভক্ত করার মত হানাদার পাকিস্তানী ও তাদের দোসর আলবদর আলশামস রাজাকার এবং তাদের এজেন্ট জামাতে ইসলামী ও বিনপি দুঃসাহস দেখাতে পারবে না। তাই আবার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিদের ঐক্যমতে পৌঁছে তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে। আর তা এখনি সময়।

৭১এর  ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৩১শে জানুয়ারী রবিবার নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় স্মার্ট টিউটরিয়ালে সংগঠনের নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সভাপতি ফাহিম রেজা নূরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদ জননী জাহানারা ইমামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে স্মরণ করেন। সভার শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও গণতন্ত্র রক্ষায় যারা দেশমাতৃকার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

সংগঠনের নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়ার সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় সংগঠনের সদস্য হেলাল মাহমুদ বলেন বাংলাদেশকে যারা স্বীকার করেনা, তারা ধর্মকে ব্যবহার করে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের এখনি প্রতিরোধ করতে হবে। সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য গোপাল স্যান্নাল বলেন শহীদ জননীর গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধিদের বিচার হচ্ছে। বাকী যুদ্ধাপরাধীদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওয়তায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে, তাহলেই শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আত্মা শান্তি পাবে। মাহফুজা হাসান বলেন বছরের প্রতি মাসে মুক্তযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের উচিৎ মুক্তিযুদ্ধের কথা নিয়ে অনুষ্ঠান করা, তাহলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রতে থাকবে। বিশিষ্ট আলোকচিত্র শিল্পী ওবায়দুল্লাহ মামুন বলেন সরকার ধীর গতিতে চলছে, যার ফলে মনে প্রশ্ন জাগে এখনো কেন ঘাতকদের বিচার কার্য শেষ হচ্ছেনা। তাই সরকারের প্রশংসার পাশাপাশি সরকারকে চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

সংগঠনের সহসভাপতি নিনি ওয়াহেদ বলেন ১৯৯২ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম যে অসীম সাহসীকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা যেন ছিল আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ। যদিও রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা মাথায় নিয়ে তার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে হয়েছে, তার আদর্শ বেঁচে আছে বলেই আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। আর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সকল ষড়যন্ত্রকে উপক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যি প্রশংসনীয়।

সংগঠনের উপদেষ্টা সুব্রত বিশ্বাস বলেন মহাজোট সরকারের অর্জন অনেক আছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক সাহসের পরিচয়ও দিয়েছেন, কিন্তু সরকারের ভিতরেই রাজাকার রয়েছে যারা এমন এমন কাজ করে যার জন্য সরকারকে বেকায়দায় পরতে হয় এবং ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ পায়। জামাতের নিষিদ্ধের কথা আমরা বার বার শুনি, কিন্ত কার্যত তা হচ্ছেনা। আমি খুব সন্দিহান আদৌ জামাত নিষিদ্ধ হবে কিনা। আর জামাত নিষিদ্ধ হলেও ধর্মীয় রাজনীতি বন্ধ হবে কিনা।

সাপ্তাহিক বাঙালীর সম্পাদক কৌশিক আহমেদ বলেন শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে ন্যায় বিচারের যে আদর্শ তৈরী করে গেছেন, তা আমরা সামনে তুলে না এনে বরং তিনি কি করতে পারেননি তার সমালোচনায় ব্যস্ত। দেশের অর্থনিতিকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এটা আমাদের জন্য একটা বিশাল ব্যাপার। গয়েস্বরের মত লোকদের কথায় কান না দিয়ে, সরকারের পজিটিভ কর্মকান্ডগুলোকে আমাদের তুলে আনতে হবে। আর মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম জীবনের শেষ পর্যায়েও বলে গেছেন দেশের সাধারন মানুষকে বুঝাতে হবে যুদ্ধাপরাধিদের বিচার দাবী কেন করা হচ্ছে।

বিশিষ্ট চলচিত্রকার কবির আনোয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন ক্ষমতায় থাকতে পারেন, সেজন্যেই সরকারের আশে পাশে থেকে সরকারকে যারা বিপদে ফেলতে চায় তাদের তীব্র সমালোচনা আমার করব এবং এই সমালোচনা কোন অন্যায় সমালোচনা নয়। শেখ হাসিনার আশে পাশে আজ অনেক চাটুকার আছে, যাদের কারনে অনেক সময় উনার সরকার চালানো কঠিন হয়ে দাড়ায়। দেশ আজ এম একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে, বিনপি আজ আমাদের মহান নেতাকে অস্বীকার করে, শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে –কেন এত সাহস তাদের? তাই এখনি সময় এসেছে মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ ও বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস বিকৃতি রোধে আইন করার এবং সেই আইনে খালেদা জিয়াকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানোর।

কানাডা থেকে আগত বিশিষ্ট লেখক ও মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক হাওলাদের অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন, আমরা ছ্য় ভাই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি। কিন্তু আজ দেশেমুক্তিযোদ্ধারা ভাত পায়না, কাপড় পায়না। অথচ জামাতীদের হাতে আজ কোটি কোটি টাকা। এর কারন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি আমরা ঐক্যবদ্ধ নই, আর যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি সেই ধর্ম ব্যবসায়ীরা তারা আজ ঐক্যবদ্ধ।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া বলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম যুদ্ধাপরাধীমুক্ত বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেশবাসীকে দেখিয়ে গিয়েছেন সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেওয়ার লক্ষ্যে কেন্ত্রীয় কমিটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের নেতৃত্বে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি দেশে বিদেশে কাজ করে যাচ্ছে।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নিম্নরূপ দাবীগুলো গৃহীত হয়ঃ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত রোধে আইন প্রণয়ন করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য সম্পন্না করা,যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবারের কাছে বিতরণ করা,জামাতে ইসলামী নিষিদ্ধ করা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় সংখ্যালঘু সুরক্ষা মন্ত্রনালয় গঠন করা।

সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি ফাহিম রেজা নুর বলেন, যতদিন পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ শেষ না হবে, যতদিন পর্যন্ত জামাতমুক্ত একটি অসম্প্রদায়ীক ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশ আমরা না পাব ততদিন দেশের মত প্রবাসেও নির্মূল কমিটির কার্যক্রম চলবে।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেলাল বেগ, অভিনেতা জামাল উদ্দিন হোসেন, ডাঃ মাসুদুল হাসান, শরাফ সরকার, মোঃ মনির হোসেন, বোরহান উদ্দীন হাওলাদার, আজিজুর রহমান, শহীদ উদ্দীন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here