প্রচ্ছদ কমিউনিটি সংবাদ লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব ও সংগঠনের সভাপতিকে নিয়ে মিথ্যাচার সাঈদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে...

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব ও সংগঠনের সভাপতিকে নিয়ে মিথ্যাচার সাঈদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব, বক্তব্য প্রত্যাহারের আহবান

150
0
গত সেপ্টেম্বর মাসে একটি প্রেস কনফারেন্স আয়োজন এবং সে সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব এবং ক্লাব সভাপতি জনাব মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী (এমাদ চৌধুরী) সম্পর্কে সম্প্রতি (২৪ ও ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯) ফেইসবুকে মিথ্যাচার আর বানোয়াট প্রচারণা চালানোর দৃঢ় প্রতিবাদ জানিয়ে জনাব সাঈদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব।

৩ জানুয়ারী শুক্রবার প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সভায় সর্বসম্মতভাবে এই নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের পাশাপাশি সাঈদ চৌধুরীর ফেইসবুকে দেওয়া ব্রিটেনের মর্যাদাশীল এই সংগঠনের সুনাম ক্ষুণকারী সকল বক্তব্য প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে তাকে ভবিষ্যতে ক্লাবের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকার আহবান জানানো হয়েছে। এছাড়া এক্সেলসিয়র সিলেট নিয়ে সংবাদ প্রচারের জন্য সিলেট প্রেস ক্লাবের নয়া সেক্রেটারি দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক সিলেট প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ রেনু ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য অনলাইন পত্রিকা শীর্ষবিন্দু সম্পাদক সুমন আহমদকেও জঘন্য ভাষায় আক্রমণ করেছেন জনাব সাঈদ চৌধুরী। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব তাঁর এই ন্যাক্কারজনক আচরণেরও নিন্দা জানায়।

উল্লেখ্য, এক্সেলসিয়র সিলেট নামের হোটেল এন্ড রিসোর্টের অন্যতম উদ্যোক্তা সাঈদ চৌধুরী। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক্সেলসিয়র সিলেটে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ধরার সেই সংবাদ সম্মেলনের সূত্র ধরে জনাব সাঈদ চৌধুরীর লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব এবং ক্লাব সভাপতি জনাব মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী সম্পর্কে সোস্যাল মিডিয়া তথা ফেইসবুকে নানা আপত্তিকর এবং অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করে তা ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস চালান। সাঈদ চৌধুরীর এই অনাকাঙিক্ষত আচরণ ক্লাব সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার করে। সদস্যরা তাঁর এই আচরণকে ন্যাক্কারজনক আখ্যায়িত করে নিন্দা জ্ঞাপন করে এ ব্যাপারে নির্বাহী কমিটিকে ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান। নির্বাহী কমিটির সভায় সাঈদ চৌধুরীকে এসব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ক্লাবের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দু:খ প্রকাশের আহবান জানিয়ে বলা হয়, তাঁর পদক্ষেপের ভিত্তিতে ক্লাব পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিবেচনা করবে।

ফেইসবুকের প্রচারণায় জনাব সাঈদ দাবী করেছেন, তিনি বিচারাধীন বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ না দিতে ক্লাব সভাপতিকে অনুরোধ করেছিলেন। এছাড়া তিনি অতীতে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু সেই সুযোগ তাকে দেয়া হয়নি! সাঈদ চৌধুরীর এই দাবী শুধু বিভ্রান্তিকর নয় পুরোপুরি অসত্য। কারণ সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দিতে ক্লাব কারো সাথেই বৈষম্যমূলক আচরণ করে না। তাকে সুযোগ না দেয়ায় প্রশ্নই উঠেনা। তবে, যেহেতু কিছু নির্ধারিত দিন ও সময় ছাড়া সাংবাদিকদের উপস্থিতি কম থাকে তাই আয়োজকদের এমনসব সুবিধাজনক দিন ও সময়ের ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয় যাতে সর্বাধিক সংখ্যক সাংবাদিকের উপস্থিত হতে পারেন এবং আয়োজনটা সফল হয়। জনাব সাঈদকেও একই পরামর্শ দেয়া হয়েছে মাত্র। এছাড়া প্রেস ক্লাবে যোগাযোগকারী অন্য সবার মতোই তাকেও নিজের পছন্দের দিনে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে, নিজ উদ্যোগে তা আয়োজন করার পরামর্শও দেয়া হয়। প্রসঙ্গত: তিনি গত ২০১৯ সালের ২৬ জুন একটি সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণও পাঠান, যা পরে তিনি নিজেই স্থগিত করেন। এছাড়া একটি গণতান্ত্রিক সংগঠন হিসেবে প্রেস ক্লাবে সিনিয়র নেতৃত্বসহ নির্বাহি কমিটিতে আরো ১৪ সদস্য রয়েছেন। সত্যিই যদি তাকে সুযোগ দেয়া না হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি তিনি নির্বাহী কমিটির অন্যদের নজরে আনতে পারতেন। তিনি কারো কাছেই তা জানাননি। অথচ একজন সাংবাদিক ও ক্লাবের সাবেক সদস্য হিশেবে এদের যেকারো সাথেই তিনি খুব সহজেই যোগাযোগ করতে পারতেন।

জনাব সাঈদ লিখেছেন, এমদাদুল হক চৌধুরী এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ এবং সমঝোতা প্রক্রিয়ায় প্রেস ক্লাবকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। এটি হাস্যকর দাবী। কারণ, এমাদ চৌধুরী এ বিষয়ে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন প্রেস ক্লাব প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার বেশ কয়েক বছর আগে। এখানে ক্লাবকে হাতিয়ার করার দরকার নেই তার। আর সাপ্তাহিক সুরমা এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা মিলিয়ে প্রায় ২৫ বছরের সম্পাদক জীবনে তার সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে, গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষেত্রে কমিউনিটিতে আলাদা অবস্থান করে নেয়া। সৎ ও নীতিবান সাংবাদিক ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হওয়ার কারণেই তার এই অর্জন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তাঁর মর্যাদা কোনো চাতুর্যপূর্ণ প্রচারণায় অথবা কারো কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষুণœ হবেনা। এমাদ চৌধুরী শুধু ক্লাব সভাপতি নন, তিনি ২৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বিভিন্ন মেয়াদে ট্রেজারার এবং সেক্রেটারি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে নিয়ে সাঈদ চৌধুরীর অহেতুক, আক্রমণাত্মক এবং হাস্যকর কথাবার্তায় মনে হচ্ছে, তিনি মূলত নীতি-নৈতিকতা আর দায়িত্বশীলতার প্রশ্নে যে সঙ্কটের মুখোমুখি পড়েছেন, তা থেকে সবার দৃষ্টি সরাতে চাইছেন। সংবাদ সম্মেলনের প্রায় তিন মাস পরে এখন কেনো সাঈদ চৌধুরী এ নিয়ে সরব হলেন- এ প্রশ্ন এখন অনেকের।

সভায় বলা হয়, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হক চৌধুরী সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকাসহ যে কোনো সংবাদ মাধ্যমে এক্সেলসিয়র সিলেট বা অন্য যে কোনো বিষয়ে কী ধরনের সংবাদ-প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে তা স্ব স্ব মিডিয়া হাউসের নিজস্ব এখতিয়ার। এর সাথে ক্লাবের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, থাকার কথাও নয়। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনের মাধ্যমে ক্লাব শুধু কোন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের প্রয়োজনীয় বা জরুরী বিষয়ে কথা বলার বা জনগণের কাছে জানাবার সুযোগটা নিশ্চিত করে। তবে সংবাদ সম্মেলনের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটা ধারণা নেয়া হয়। একইভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ক্লাবের কোনো নেতা বা সদস্য কোনো সমঝোতা বা সামাজিক বিচার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলে সেটিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিষয়। তাই এসব নিয়ে জনাব সাঈদের দীর্ঘ রচনা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করার প্রয়োজন আছে বলে ক্লাব মনে করে না।

তবে ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, সত্যিকারের দায়িত্বশীল বিনিয়োগে কমিউনিটিকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে সাবধান করে দেয়ার ক্ষেত্রে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব শুধুমাত্র আহবানই জানাতে পারে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মিডিয়া হাউসগুলোরই।

সব শেষে বলা প্রয়োজন, শুধু এক্সেলসিয়র সিলেট নয়, জনাব সাঈদ চৌধুরী ব্রিটেন থেকে বিনিয়োগে অন্যান্য যেসব প্রকল্পে সক্রিয় ছিলেন সেসব সম্পর্কে বক্তব্য দিতে চাইলেও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে সেই সুযোগ দিতে প্রস্তুত।

নির্বাহি কমিটির সভার এই পর্বে আলোচনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী তাঁর বক্তব্য শেষে ভাইস প্রেসিডেন্টকে বাকী আলোচনায় সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব দিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা চলে। সেক্রেটারী মুহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় এতে ট্রেজারার আ স ম মাসুম, কমিউনিক্যাশন্স সেক্রেটারী আবদুল কাইয়ুম, ট্রেনিং সেক্রেটারী ইব্রাহিম খলিল, আইটি সেক্রেটারি সালেহ আহমদ, ইভেন্ট সেক্রেটারী রেজাউল করিম মৃধা এবং নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে আবদুল কাইয়ূম, রুপি আমিন, পলি রহমান ও শাহনাজ সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি