প্রচ্ছদ মতামত লণ্ডনে নাইফ ক্রাইম: আতংকিত অভিভাবক দায় কার?

লণ্ডনে নাইফ ক্রাইম: আতংকিত অভিভাবক দায় কার?

318
0
সারওয়ার-ই-আলম: আলিমুজ্জামানের রক্তাক্ত দেহটি চোখের সামনে থেকে সরাতে পারছি না। কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না, দিনে দুপুরে এভাবে প্রাণ হারাবে একটি তরতাজা যুবক।রক্তের ঢল বয়ে যাচ্ছিল যেন! ধমনী ছিঁড়ে বের হওয়া রক্তের স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল আলিমের সমস্ত শরীর। আহা কী সৌম্যকান্তি চেহারা। কেমন মায়াভরা চাহনী। এরকম একটি যুবক কেন প্রাণ হারাবে মাত্র ২৩ বছর বয়সে? কী ছিল তার অপরাধ? সমবয়সী বন্ধুদের মাঝে রেষারেষি কিংবা অমিমাংসীত কোন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য! এরচেয়ে বেশী আর কীইবা হতে পারে?এ বয়সে এরকম মান অভিমান কার না থাকে! তাহলে এরকম তুচ্ছ ঘটনায় কেন সমবয়সী কিছু যুবক নিষ্ঠুর কায়দায় ধারালো ছুরি চালিয়ে হত্যার করবে আরেক যুবককে? কেন তাদের এতটুকু হাত কাঁপবে না! কেন আত্মায় এতটুকু দয়ামায়া থাকবে না। এতো উন্নত দেশে এতসব প্রাচুর্যের মাঝে বড় হওয়া এসব যুবকদের হাহাকারটা কোথায়? কেন তারা এতটা নিষ্ঠুরতা নিয়ে বেড়ে উঠবে?
জানা যায়, পূর্ব মাইল্যান্ডের স্টেপনী ওয়ের সেণ্টপল’স স্কুলের সামনের রাস্তায় গত ২৬ মে রবিবার এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। খবরে এসেছে যাদেরকে এই ঘটনায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ তাদের বয়স আলিমের মতই ২৩, কারো ১৯। বয়সে একেবারেই তরুণ। এরকম বয়সে পড়াশোনায় মনযোগী না হয়ে আমাদের তরুণরা, আমাদের সন্তানরা কেন জঘন্য প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠছে? তাদের অভাবটা কোথায়? কীসে তাদের অপূর্ণতা? কে দেবে এসব প্রশ্নের উত্তর?
কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ যারা দিনরাত সেলফিবাজিতে ব্যস্ত, বিশ পঁচিশটি লিফলেট বিলি করে যারা স্ট্যাটাস দেয় – Woking hard for the community, সেসব আত্মবিকৃত কাউন্সিলরদের কাছে এসব তাজা প্রাণের কি কোন মূল্য আছে? সংঘবদ্ধ নাইফ ক্রাইম বন্ধে তাদের যে ব্যর্থতা, তার দায় কেন নেবে আমাদের কমিউনিটি?
নির্বাচন আসলে কেন জনগণ আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলবে না এসব লেফাফা-দুরস্ত
‘ফেসবুক ফেবারিট কাউন্সিলর’দের? আলিমের রক্তের দাগ কখনো কি মুছে যাবে আমাদের স্মৃতি থেকে?
আসুন আমরা নাইফ ক্রাইম বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মেয়র,কাউন্সিলরদের বর্জন করি সামাজিকভাবে। তাদের ব্যস্ত থাকতে দিই কমিউনিটির সমস্যা সমাধানে। সামাজিক অনুষ্ঠানে শোভা বর্ধনের জন্য তাদের উপস্থিতির কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। জনগনের ট্যাক্সের টাকায় সেলফিবাজী করার কোন অধিকার তাদের কেউ দেয়নি। সভা-সমিতিতে গলায় অলংকার পরা ডেপুটি মেয়র দেখতে চাই না, কমিউনিটির বন্ধু মেয়র দেখতে চাই। টেলিভিশনের টকশোতে কাউন্সিলরদের চাপাবাজি দেখতে চাই না, তাদের দেখতে চাই মানুষের দোরগোড়ায়,মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে। আসুন ফেসবুকে কাউন্সিলরদের বর্জন করি। তাদেরকে বুঝতে দিই আলিমুজ্জামানদের হত্যার দায়, শামীমাদের অধপতনের দায় তাদের। তাদেরকেই নিতে হবে আমাদের নিরাপত্তাহীনতার দায়। টরির বাজেট কর্তনের খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর দিন শেষ হোক!