প্রচ্ছদ ফ্যাশন রিতু কুমারঃ ভারতীয় ফাশনে ঐতিহ্যের প্রবক্তা

রিতু কুমারঃ ভারতীয় ফাশনে ঐতিহ্যের প্রবক্তা

1842
0
নারী ডেক্স, ঢাকা:  ভারতে বুটিক ধারনাটি প্রচলন করেন তিনিই, তার প্রতিটি পোশাকের মধ্যে দিয়ে তিনি তুলে ধরেন ভারতের বিলুপ্তপ্রায়  কারুশিল্প, প্রাচীন ভারতীয় কারিগরি ঐতিহ্যকে আধুনিকতার মোড়কে বহির্বিশ্বে সাহসের সাথে উপস্থাপ্ন করেছেন যে কয়জন ফ্যাশন ডিজাইনার তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন – রিতু কুমার
১৯৬০ সালে আমেরিকা থেকে পড়াশোনা শেষে রিতু ফিরে আসেন দেশে, দেশীয় ঐতিহ্য ও কারুশিল্প সম্পর্কে আরও ভাল করে জানার জন্য। হিস্টলজি তে একটি কোর্স তার কৌতূহল আরও বারিয়ে দেয়। এবং এ থেকেই সুত্রপাত ঘটে কারুশিল্প জগতে তার পথচলা।
প্রথমে তিনি ব্লক প্রিন্টিং সম্পর্কে শিক্ষা নেন এবং কলকাতা জুড়ে বিভিন্ন কারিগরদের সাথে আলাপচারিতা শুরু করেন। ঐ সময় পাওয়া শিক্ষাকে পুজি করেই আজ তার এতদুর আসা। রিতু, ১৯৬৯ সালে তার কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার অদূরেই একটি ছোট গ্রামে মাত্র চার জন ব্লক প্রিন্টার এবং দুইটি টেবিল নিয়ে। আজ তার ব্র্যান্ড এর সারা ভারত জুড়ে রয়েছে সাতাশটি আউটলেট। আজ এই ডিজাইনার ব্র্যান্ড তার রং, কাপড়ের মান, জটিল সূচিকর্ম এবং গৌরবময় সমৃদ্ধ ভারতীয় নান্দনিকতার বহিঃপ্রকাশ এর জন্য খ্যাত। আজ রিতু কুমার ভারতে বৃহত্তম ও সবচেয়ে সম্মানিত ডিজাইনার ব্র্যান্ড।
তিনি ভারতীয় প্রেক্ষাপটে শব্দটি ‘ফ্যাশন’ প্রবর্তিত করেন। হাতে নির্মিত কাপড় যে পণ্য হিসেবে লাভজনক এবং মেশিনে তৈরি কাপড়ের চেয়ে আরও বেশি আকর্ষক, তাই তিনি বারবার তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
প্রাচীন ডিজাইন এবং ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের উদ্ভাবনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে তার চেয়ে বড় সমঝদার খুব কমই আছেন। যেহেতু, এই ব্র্যান্ড মানুষের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত হয়েছ, তাই এটি অনুন্নত এলাকায় কর্মসংস্থান তৈরির একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব সৃষ্টি করেছে।
ব্র্যান্ড হিসেবে রিতু কুমার সারা বিশ্বেই পরিচিত। তার পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে আছেন বহু ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সেলিব্রিটি। যেমন প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানা, অনুশকা শংকর, ঐশ্বরিয়া রাই, প্রিয়ঙ্কা চোপড়া, লারা দত্ত, দিয়া মির্জা প্রমুখ। ১৯৯৪ সাল থেকে, রিতু কুমার মিস ইউনিভার্স, মিস ওয়ার্ল্ড এবং মিস এশিয়া প্যাসিফিক আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিজগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগীর পোশাক ডিজাইন করেছেন।
ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে (চতুর্থ সর্বোচ্চ জাতীয় বেসামরিক পুরস্কার)  ভূষিত করেছে। । এছাড়াও ফরাসি সরকার তাকে “Chevalier des arts et des lettres” নামে এই মর্যাদাপূর্ণ পদকে ভূষিত করেছে।
ছবি: ইন্টারনেট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here