প্রচ্ছদ নজরুল ইসলাম বাসনের কলাম যুক্তরাজ্যে এডুকেশন ট্রাস্টগুলো সিলেটে আধুনিক স্কুল করতে পারে

যুক্তরাজ্যে এডুকেশন ট্রাস্টগুলো সিলেটে আধুনিক স্কুল করতে পারে

548
0
নজরুল ইসলাম বাসন : যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিলেটীরা গত ৪/৫ দশক ধরে সিলেটের শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রেখে চলেছেন , তারা বিভিন্ন উপজেলা ভিত্তিক এডুকেশন ট্রাস্ট ও গঠন করে নিজস্ব উপজেলার শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে চলেছেন। জানা যায় কোন কোন এডুকেশন ট্রাস্টের ফিক্সড ডিপোজিটে একাধিক কোটি টাকার ফান্ড ও রয়েছে এই ফান্ড থেকে বার্ষিক বৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে। গত তিন চার-দশক ধরেই সিলেটী প্রবাসিরা এই জনহিতকর কাজটি করে যাচ্ছেন, এতে এলাকার শিক্ষার্থীরা লাভবান হচ্ছেন। একজন মিডিয়াকর্মী হিসাবে তাদের এই জনহিতকর কাজকে আমি সবসময়ই আমার লেখনির মাধ্যমে সমর্থন করে আসছি।তবে এ কথা বলে রাখি  সিলেটের শিক্ষার ব্যাপারে সংগত কারনে আমার খুব বেশি জানা নেই,তবে একজন সংবাদকর্মী হিসাবে আমি যতটুকু খবর রাখি তা থেকে বুঝতে পারছি সরকারি উদ্যেগে খুব বেশি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান সিলেটে গড়ে উঠেনি। বেসরকারি উদ্যেগে বানিজ্যিক ভাবে বেশ কিছু শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এবং এর মধ্যে প্রাইভেট স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি. মেডিক্যাল কলেজ ইত্যাদি রয়েছে। এসব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান থেকে শত শত শিক্ষার্থী ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছেন, প্রতি বছর।এসব ডিগ্রিধারিরা উচ্চতর ডিগ্রি নেয়ার জন্যে ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছেন বলেও জানি।
গত তিন দশক ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে তাদের শিক্ষা-ব্যবস্থা সম্পর্কে সাদা চোখে যা দেখেছি এতে আমার মনে হয় তারা শিক্ষা-ব্যবস্থায় মাঝে মাঝে যুগোপযোগি পরিবর্তন এনে থাকে এবং প্রতিনিয়ত সময়োপযোগি নীতিমালা প্রবর্তন করে। বাধ্যতামুলক শিক্ষার পর যে কেউ কলেজ-ইউভার্সিটি তে যেতে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এরকম পরিবর্তন খুব একটা দেখা যায় না , হলি আর্টিজান বেকারি ও রেস্টুরেন্টে জঙগি হামলার ভয়াবহতার  দেশের ( ধারনা করা হত মাদ্রাসা জংগি তৈরির কারখানা) উচ্চবিত্তদের ছেলে মেয়েদের পছন্দসই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে হৈ চৈ হচ্ছে। স্কলাস্টিকা, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা কেন কেমন করে জঙ্গী হল, এ নিয়ে ভাবনায় পড়েছেন দেশের বিদ্বজনেরা। যাই হোক তারা হয়তো এই সমস্যার সমাধান খুজে বের করবেন। আমার বিষয় কিন্তু সে টা না, আমার বিষয় হল সিলেটে শিক্ষার অংগনে যুক্তরাজ্যে এডুকেশন ট্রাস্ট গুলো কি ভাবে ভুমিকার রাখতে পারে।  যুক্তরাজ্য এডুকেশন ট্রাস্ট গুলো সিলেটে  কি ভাবে নিজের উপজেলায় পাইলট প্রজেক্ট করে জিসিএসই-লেভেল পর্যন্ত স্কুল করতে পারবেন।
এসব স্কুলে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে ভবন নির্মান না করে, স্থানীয় নির্মান সামগ্রি দিয়ে বাশ এবং ছন দিয়ে ঘর নির্মান করে ও  ক্লাশরুমের কাজ চালাতে পারবেন, শিক্ষক হিসাবে উচ্চ শিক্ষিত মহিলাদের নিয়োগ দেয়া যেতে পাওে, এতে মহিলাদেরও ক্ষমতায়ন করা সম্ভব হবে। স্কুল করার জন্যে কেউ যদি ভুমি দান করেন, কেউ যদি ঘর বানিয়ে দেন, কেউ যদি শিক্ষকদের বেতন প্রদান কওে ব্যয় নির্বাহ করেন তাহলে বছরে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এসব স্কুলে যারা লেখাপড়া করবে সেইসব শিক্ষার্থীদের মা -বাবাদের জন্যে এডাল্ট এডুকেশনের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। বেকার অভিভাবকদের হাস-মুরগী পালন ও সবজি চাষ করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে, বেকার অভিভাবকদের সেলাই ইত্যাদি শেখার ব্যবস্থা করাও  যেতে পারে। গ্রাম ভিত্তিক এসব স্কুলকে ঘিরে একটি উন্নয়নমুলক প্রকল্প ও চালু করা যেতে যুক্তরাজ্যের এডুকেশন ট্রাস্টের মাধ্যমে। এডুকেশন ট্রাস্টগুলো নেতৃবৃন্দকে একটু দীর্ঘ মেয়াদী চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।এ ব্যাপারে যারা অভিজ্ঞ তাদেও সাথে তাদেও সাথে আলাপ আলোচনা করে একটা মডেল অনুসরন করা যেতে পারে।
এ প্রসংগে টাওয়ার হ্যামলেটসের ঐতিহ্যবাহি মন্টিফিওরি সেন্টারে হ্যামলেটস ট্রেনিং সেন্টারের সত্বাধিকারি জামাল আহমদ এর কথা উল্লেখ করা যায়,  যিনি এক সময় সিলেট এমসি কলেজে অধ্যাপনা করেছেন, লন্ডনে এসে লকেল গভর্ণমেন্টে কাজ করেছেন এখন তার প্রতিষ্ঠিত ট্রেনিং সেন্টার থেকে শত শত ছাত্র-ছাত্রী ইংরেজি শিক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং নিয়ে বৃটিশ সার্টিফিকেট নিতে পারছে। অল্প সময়ের মধ্যে টেলিভিশন ও মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি নতুন ধারার ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তুলতে পেরেছেন।আমি জনাব জামাল এর সাথে সিলেটে সম্ভাব্য পাইলট প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করে জানতে পেরেছি সিলেটে এই ধরনের স্কুলের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সম্পুর্ন ডিজিটেলাইজড পদ্ধতিতে হ্যামলেটস ট্রেনিং সেন্টার থেকে পাঠদান করা ও সম্ভব। এ ব্যাপারে আমি আমার আরেক অগ্রজ প্রতীম এম এন ইসলাম মসনু ভাই এর সাথে সিলেটের শিক্ষা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করি। সিলেটে বেড়ে উঠা ও শিক্ষা লাভ করা মসনু ভাইরা দেখেছেন সিলেটের মানুষরা কিভাবে শিলঙ কনভেন্ট বা স্কুল কলেজ থেকে শিক্ষা লাভ করে সিএসপি হয়ে পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিসে আধিপত্য বিস্তার করেছেন।
এখনও শিলঙ থেকে শিক্ষক এনে সিলেটে ভাল স্কুল করা সম্ভব বলে মসনু ভাই মনে করনে। সিলেটে এখন বেশ কিছু স্কুল আছে যারা বৃটিশ কারিকুলাম অনুসরন করছে এবং বৃটিশ কাউন্সিলও তাদের সহযোগিতা প্রদান করে। সিলেটে ইউকে-বাংলাদেশ এডুকেশন ট্রাস্ট টিচার ট্রেনিং কর্মসুচি করছে, ইংরেজি শিক্ষকদের ট্রেনিং দেয়ার ফলে তারা শিক্ষার্থীদের ভাল পাঠদান করছেন।
একজন মিডিয়াকর্মী হিসাবে আমি দেখেছি ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে গ্রীন স্কুল নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠান করেছেন এক বৃটিশ নাগরিক জন হার্ডি প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটিতে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতে যায়, তেমনি ভারতের এক এতিম যুবক অচ্যুত সামান্থা কে আইআই এস এন্ড কে আই টিটি নামে বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এই শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানটির সফলতা দেখতে বিশ্বের নেতৃবৃন্দ ভারতের ভুবনেশ্বর এ যান, ভারতের বড়লোকদের ছেলে-মেয়েরা এই প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ নেয় তবে তাদের প্রতিযোগিতা করে ভর্তি হতে হয়, গরীব-মেধাবি ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি দিয়ে লেখাপড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। অচ্যুৎ সামন্ত নামের নি:স্ব এই এতিম বালক ৪ বছর বয়সে বাবা হারিয়ে ছিলেন খেতে খামারে কাজ করে আজ বিশ্ব-বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, আর সিলেট , মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জের শত শত প্রবাসী আছে তারা চাইলে প্রতিটি উপজেলায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। বিশ্ব-বিখ্যাত  ব্যাক্তিদের প্রতিষ্ঠিত মডেল অনুসরন করে যুক্তরাজ্যের এডুকেশন ট্রাস্টগুলো সিলেটের শিক্ষাংগনে নতুন ধারার সুচনা করতে পারেন।
২১ শে জুলাই ২০১৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here