প্রচ্ছদ নজরুল ইসলাম বাসনের কলাম বৃটিশ কারি এওয়ার্ড বাংলাদেশ বিমান ও এয়ার এক্সপ্রেসের কক্সবাজার যাত্রা

বৃটিশ কারি এওয়ার্ড বাংলাদেশ বিমান ও এয়ার এক্সপ্রেসের কক্সবাজার যাত্রা

652
0
SHARE
নজরুল ইসলাম বাসন: আজকের কলামের শিরোনাম দেখে চমকে উঠবেন না, ধীরে ধীরে খোলাসা করে বলি কেন এই শিরোনাম দিয়েছি। প্রায় ২০/২১ বছর আগের কথা। সাবেক জাদরেল সচিব ও কবি মোফাজ্জল করিম তখন বাংলাদেশ বিমানের এমডি। লন্ডন এসেছেন সফরে দিলসাদ রেস্টুরেন্টে মিটিং এর আয়োজন করা হয়েছে ট্রেভেল এজেন্সীর নেতৃবৃন্দের উদ্যেগে , আমি তখন সাপ্তাহিক সুরমার সম্পাদক, মিটিং কভার করার জন্যে গেছি স্যারের কাছে, আব্দার করলাম দুটি বিমানের টিকিট। বিমানের এমডি সাহেব জানতে চাইলেন কেন টিকেট দিতে হবে তোমাকে ? স্যার আমাকে স্নেহ করতেন তার লেখার আমি একজন মুগ্ধ পাঠক। কবি মোফাজ্জল করিম ও আমলা মোফাজ্জল করিম দুই সত্বা। সিলেট এমসি কলেজে অধ্যাপনা করেছেন সেই সুত্রে তিনি অগ্রজদের শিক্ষক , পরম্পরায় আমরাও তাকে স্যার সম্বোধন করি।
স্যার জিজ্ঞেস করেছিলেন তোমাকে ফ্রি টিকেট কেন দেবো? বুঝিয়ে বললাম আমরা বৃটেনের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে একটি রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করবো, এই প্রতিযোগিতায় যে প্রথম প্রাইজ পাবে তাকে দুটি বিমানের টিকেট দিতে হবে। রচনার বিষয়বস্তু হবে বাংলাদেশ। দুটি টিকেট চাওয়ার কারন হল যে ছাত্র বা ছাত্রী পুরস্কার বিজয় লাভ করবে বাংলাদেশে যাওয়ার জন্যে তারতো একজন অভিভাবক লাগবে তাই আমি দুটি টিকেট চেয়েছি। স্যার বললেন ততোমাকে আমি একটি টিকেট দেবো। স্যার একটি টিকেট দিয়ে দিলেন, বিমানের তৎকালিন কান্ট্রি ম্যানেজার শিক্ষাবিদ ড: হাসনাত সাহেবকে দিয়ে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করিয়েছিলেন এবং যিনি বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি বিমান থেকে পুরস্কার নিয়ে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন বলে পরে জেনেঠি। এরপর বহু বছর চলে গেছে বাংলাদেশ বিমানের কত এমডি আর কান্ট্রি ম্যানেজার এলেন গেলেন কিন্তু বিমানের ব্যবসা বৃদ্ধির জন্যে ইনোভেটিভ কোন কিছু করছেন বলে চোখে পড়লো না। তবে ইদানিং আমার কাছে বর্তমান কান্ট্রি ম্যানেজার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে একটু ব্যতিক্রম মনে হচ্ছে, তাকে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন সৃজনশীল আইডিয়া নিয়ে কমিউনিটির কাছে আসতে এবং তিনি কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী আর তিনি পার্টনারশীপেও বিশ্বাসী। তার কাজের মাধ্যমে তিনি এটা প্রমান ও করে চলেছেন।
এর প্রমান পেলাম সম্প্রতি বৃটিশ কারি এওয়ার্ড , এয়ার এক্সপ্রেস ও বাংলাদেশ বিমান একজোট হয়ে বৃটিশ বাংলাদেশিদেও কক্সবাজারে ফ্রি ভ্রমনের সুযোগ করে দিয়েছে। তাদের প্রকল্প নিয়ে একটি প্রেস ব্রিফিঙ এর আয়োজন করা হয়েছিল। বৃটিশ কারি এওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা জনাব এনাম আলি এমবিই অনুষ্ঠানে বল্লেন, এখন সময় এসেছে আমাদের নিজের অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়া,তিনি আরো বল্লেন তিনি চান বাংলাদেশকে তুলে ধরতে বিশ্বের কাছে। জনাব এনাম আলি এমবিই এর সাথে সাথে সুর মিলিয়ে এয়ার এক্সপ্রেসের কর্ণধার মজিরুল হক সুমন এবং বাংলাদেশ বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরার অঙ্গীকার করলেন। কথায় কথায় আসে বৃটিশ কারি এওয়ার্ডের আয়োজনে অংশ নিয়ে থাকেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ট্রেভর ম্যাকডোনাল্ড এবং ক্রিস ট্যারান্টের মত ব্যক্তিত্ব। আরো অনেকেই এই আয়োজনের সাথে যুক্ত যাদেরকে বাংলাদেশ সহজেই ব্যবহার করতে পারে,কিন্তু বাংলাদেশে যারা নীতি নির্ধারন করেন তাদেও কি ধারনা আছে দেশের পর্যটন শিল্পকে উন্নত করতে হলে কি করতে হবে। ভারত বা মালদ্বীপ অথবা মরক্কো জানে লন্ডন হচ্ছে ওয়ার্ল্ডেও একটি মিটিং পয়েন্ট, এখানে বছরে পর্যটন বিষয়ে আন্তর্জাতিক এক্সিবিশন হয়ে থাকে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও বিশ্বের অন্যান্য দেশ এতে অংশ নেয়-শুনেছি বাংলাদেশ ও মাঝে মাঝে এতে অংশ নিয়ে থাকে। তবে এখানে বলে রাখা দরকার বাংলাদেশ কে তুলে ধরার জন্যে যেসব সরকারি অফিসার এবং মন্ত্রীদের ব্যবহার করা হয় তারা এ ব্যাপাওে কতটুকু সিরিয়াস বা কমিটেড এ ব্যাপারে পর্যটন ব্যাবসায়িদের মধ্যে হতাশা আছে। বৃটিশ কারি এওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা এনাম আলি এমবিই এই প্রতিবেদককে বল্লেন বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে সেল করা কোন কঠিন বিষয় নয় আমরা যদি সমন্বিত ভাবে চেস্টা করি তাহলে এটা সম্ভব, এ জন্যেই আমি ইনোভেটিভ আইডিয়ার অধিকারি সুমনকে প্রমোট করার উদ্যেগ নিয়েছি। এয়ার এক্সপ্রেস এর কর্ণধার সুমন ইতোমধ্যে গো হাজি – নামের প্রকল্প নিয়ে বৃটিশ এয়ারওয়েজ এর সাথে একটি প্রকল্প শুরু করেছেন, তার জর্দান এয়ার লাইন্সের সাথেও আরেকটি প্রকল্প। তরুন এই ব্যবসায়ির রয়েছে আরো সৃজনশীল পরিকল্পনা।
এখানে একটি কথা বলে রাখা দরকার বৃটেনে বহু সিলেটি বংশোদ্ভুত তরুন আছেন যারা পিতার পদাংক অনুসরণ করে ব্যবসা বানিজ্যে নতুন ধরনের গতি এনেছেন সুমন হচ্ছেন এধরনের একজন তরুন। তার পিতা জনাব আব্দুল হান্নানের হাত ধরে এয়ার এক্সপ্রেসের অগ্রযাত্রাকে তিনি সমুন্নত রেখে চলছেন। তার রয়েছে সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনা, নতুন নতুন পথ তিনি খুজছেন তাকে দেখে আমরা আশান্বিত হই একদিকে , তবে ঘরপোড়া গরু যেমন সিদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায় তেমনি আমার ভয় হয় আমাদের সমাজে একটি চক্র আছে যারা চিন্তা-চেতনার দিক দিয়ে অনগ্রসর নিজেরা কিছু করতে পারবে না অন্য কেউ কিছু করলে তারা জোট বদ্ধ হয়ে পেছনে লাগা শুরু করে। এভাবে নিকট অতীতে অনেক ভাল ভাল প্রকল্পের অপমৃত্যু ঘটিয়েছে এসব লোকেরা। সে যাই হোক তারপরও অদম্য সৃজনশীল মানুষেরা তারা তাদের মতই কাজ করে যান। আর এসব মানুষের কারনেই বৃটেনের বাংলাদেশিরা আজ মাথা তুলে দাড়াতে পারছে, তাদের নিজেদের আছে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, তারা দেশে ব্যাংক, বীমা, এয়ারলাইন্স, ভার্সিটি,কলেজ , স্কুল, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ ছাড়াও তারা চ্যারিটি সংগঠনের মাধ্যমে দেশের মানুষের সেবা করে চলেছেন। সিলেটে আছে হার্ট ফাউন্ডেশন . বিয়ানি বাজার ক্যান্সার হাসপাতাল, গোয়াইঘাটে আছে জাস্ট হেল্প আ্ই হসপিটাল আরো কত নাম বলবো। পরিশেষে বলবো বাংলাদেশ সরকার, কর্পোরেট বিজনেস হাউস, চ্যারিটি সংগঠন, কমিউনিটি সংগঠন ইত্যাদি মিলে অনেক বড় বড় কাজ করা সম্ভব। আর এসব কাজের মাধ্যমে এদেশের ইয়াঙ জেনারেশনের সদস্যদেরও জড়িত করা সম্ভব, আমাদের বৃটিশ-বাঙালিরা বাংলাদেশি ডার্টি পলিটিক্সেও কারনে কমিউনিটিতে জড়িত হতে চায় না। কিন্তু এনাম আলি এমবিই এর মত মানুষ যখন তরুন যুবক সুমনের সাথে গাট ছড়া বাধেন আর তাতে যখন বাংলাদেশ বিমানের মত প্রতিষ্ঠান যোগ দেয় তখন আমাদের মনে আশার সঞ্চার হয়। সেই ছেলে কবে হবে যে কথা নয় কাজে বড় হবে।

 

লেখক: সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও গবেষক।
২৬/১১/১৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here