প্রচ্ছদ তথ্য-প্রযুক্তি প্রাণের খোঁজে লালগ্রহে পাড়ি রুশ মহাকাশযানের ডিজিটাল ডেস্ক

প্রাণের খোঁজে লালগ্রহে পাড়ি রুশ মহাকাশযানের ডিজিটাল ডেস্ক

382
0
SHARE
‘মঙ্গল গ্রহে মানুষ থাকে না৷ বেড়াল থাকে না৷ সিন্ধুঘোটকও থাকে না৷’ কিন্তু কী থাকে? এ নিয়ে বিশ্ববাসীর উৎসাহের শেষ নেই৷ ভারতের ইসরো থেকে আমেরিকার নাসার বিজ্ঞানীরা তত্পর সত্যিটা জানতে৷ এবার ইউরোপের মঙ্গল অভিযানেও এক নতুন পদক্ষেপ৷ ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ বা ইসা) ও রাশিয়ান ফেডেরাল স্পেস এজেন্সি (রোসকসমস) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টেয় মঙ্গলে প্রাণের সন্ধানে রোবটিক প্রোব পাঠাল৷ এক্সোমার্স-২০১৬ মঙ্গল অভিযানে কাজাখস্তানের বাউকনুর কসমোড্রম থেকে রাশিয়ার প্রোটন রকেটটি সাতমাসের মধ্যে লাল গ্রহের মাটিতে পাড়ি জমাতে রওনা দিল সোমবার৷ এই অভিযানের প্রথম ভাগে ট্রেস গ্যাস অরবিটার (টিজিও) ও শিয়াপারেল্লি ল্যান্ডারের মাধ্যমে মঙ্গলের আবহাওয়ার ও গ্যাসের উপস্থিতির পর্যবেক্ষণ করা হবে৷ বিশেষত মিথেনের মতো বিরল গ্যাসের অস্তিত্ব৷ ২০০৩ সালে নাসার গ্রাউন্ড বেসড টেলিস্কোপ এটি জানিয়েছিল৷ ইসার মার্স এক্সপ্রেস স্যাটেলাইটেও ধরা পড়ে মিথেনের অস্তিত্ব৷
ইসার অধিকর্তা বলেন, ২০১৬ সালে পাঁচটি নতুন অভিযানে অংশ নেবে ইউরোপ৷ এর মধ্যে গ্রহের অত্যাশ্চর্য জটিল তত্ত্ব, মঙ্গলে এক্সোমার্সের পৌঁছনো ও ধূমকেতুর উপর রোসেত্তার প্রভাব উল্লেখযোগ্য৷ গ্রানাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাভিয়ের মার্টিন বলেন, মিথেন যেহেতু যে কোনও জৈবিক ক্রিয়ার প্রমাণ, মঙ্গলের মিথেনও সেই একই কাজ করে কি না, এই জটিল তত্ত্ব নিয়ে, মঙ্গলে মিথেনের প্রকৃতি নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা৷ এই অস্তিত্ব প্রমাণিত হলে আগামী ৩০০ বছর সমসত্ত্বভাবেই এই মিথেন থাকার কথা৷
ইসা-রোসকসমস একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, টিজিও-র লক্ষ্য ভৌগোলিক ও ঋতু পরিবর্তন সংক্রান্ত৷ গ্যাসগুলির উপস্হিতির সঙ্গে কোনওরকম ভূতাত্ত্বিক ও জৈবিক যোগ রয়েছে কি না তাও দেখবে টিজিও৷ শিয়াপারেল্লি বেশ কিছু প্রযুক্তিকে নির্দেশ করছে, যা মঙ্গলের মাটিতে নিয়ন্ত্রিত অবতরণে পরবর্তী অভিযানে সাহায্য করবে৷ সাত মাসের এই যাত্রায় ল্যান্ডারটি টিজিও থেকে ১৬ অক্টোবর বিচিছন্ন্ হবে এবং ১৯ অক্টোবর মঙ্গলে পৌঁছবে৷ এরপর মঙ্গলের কক্ষপথে টিজিও প্রবেশ করবে৷ দ্বিতীয় ‘এক্সোমার্স মিশন’ অভিযান ২০১৮ সালে হওয়ার কথা৷এই টিজিও-টি সেই অভিযানের তথ্য সংগ্রহের কাজও করবে৷ এতে একটি রোভার ও একটি সারফেস সায়েন্স প্ল্যাটফর্ম রয়েছে৷ নাসা রোভারের তথ্য সংগ্রহেও যেটি সাহায্য করবে৷
এক্সোমার্স-২০১৬ অভিযানের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞানী পাওলো ফেরি জানান, ‘অনেক বছরের পরিশ্রমে এই জটিল অভিযান সফল হতে চলেছে৷ নকশা তৈরি করা, সেটাকে বানানো, গ্রাউন্ড সিস্টেম পরীক্ষা করা, উড়ান সফলের প্রস্তুতি, বহুদিনের প্রশিক্ষণ পর্ব, সবমিলে বিষয়টি জটিল৷ এটা একটা মাইলস্টোন৷’ ১৭টি মহাকাশযান-সহ ইউরোপস গ্যালিলিও অ্যান্ড কোপারনিকাস প্রোগ্রামের আওতায়, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, আবর্তন বিজ্ঞান, কক্ষপথ পর্যবেক্ষণ-সহ মোট ১২টি অভিযান কার্যত শুরু হয়ে গিয়েছে৷ নয়টি নতুন অভিযানের প্রস্তুতি চলছে৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here