প্রচ্ছদ নজরুল ইসলাম বাসনের কলাম প্রধান বিচারপতির লন্ডন সফর এবং প্রবাসীদের প্রত্যাশা

প্রধান বিচারপতির লন্ডন সফর এবং প্রবাসীদের প্রত্যাশা

487
0
SHARE
নজরুল ইসলাম বাসন: সম্প্রতি বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা লন্ডন সফর করে গেলেন, তিনি বেশ কয়েকটি কয়েকটি কমিউনিটি সংগঠনের সভায় যোগ দিয়েছিলেন এবং বেশ গুরুত্বপুর্ন বক্তব্য রেখে গেছেন। মাননীয় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার একটি বক্তব্য এখানে প্রনিধানযোগ্য যে তিনি প্রবাসিদের হয়রানি বন্ধে আদালত পাড়ায় অভিযোগ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। প্রবাসিরা যাতে অহেতুক ভাবে হয়রানির শিকার না হন এবং আইনি ঝামেলায় না পড়েন তার জন্যে আদালত এলাকায় এই অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। যেহেতু মাননীয় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এই কথাগুলো বলেছেন তাই একজন সাংবাদিক ও প্রবাসি হিসাবে তার কথা আমি বিশ্বাস করতে চাই ও আস্থা রাখতে চাই। তবে এর আগে আমরা বহুবার সাবেক ও বর্তমান উচুপদের নেতাদের মুখে এ ধরনের আশ্বাস শুনেছি আর পরে এও দেখেছি হিথ্রো বিমান বন্দর থেকে প্লেন ছাড়ার পর পরই নেতা-নেত্রীরা প্রবাসিদের কথা বেমালুম ভুলে যান, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ব্যাপারে এমনটি হবে না বলে আমরা বিশ্বাস করতে চাই কারন তিনি যাদের সান্নিধ্যে এসেছিলেন তারা তার এলাকার মানুষ।
এই সুযোগে বলা রাখা ভাল মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বৃহত্তর সিলেটের অধিবাসি, সিলেটের আলো হাওয়ায় তিনি বড় হয়েছেন, তার লেখাপড়াও সিলেটে ,শুনেছি তিনি সিলেটের মদন মোহন কলেজে লেখাপড়া করেছেন। আমি ও ঐ ঐতিহ্যবাহি কলেজে লেখাপড়া করেছি। সেই সুবাদে তার সাথে আমাদের একটি সম্পর্ক রয়েছে। তার ও সম্পর্ক রয়েছে বৃহত্তর সিলেটবাসির সাথে, তাইতো তিনি বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করার জন্যে লন্ডনে কাটিয়েছেন ব্যাস্ত সময়। বিভিন্ন সমাবেশে তিনি নিজেও বলেছেন, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের বক্তব্যও শুনেছেন, বাংলাদেশে বিষয় সম্পত্তি নিয়ে আইনি জটিলতা ও দীর্ঘসুত্রিতার কথাও মাননীয় প্রধান বিচারপতির নিকট নেতৃবৃন্দ তুলে ধরেছেন, মাননীয় চীফ জাস্টিস এস কে সিনহা এর উত্তরে বলেছেন যে, বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়াকে অনলাইনে নিয়ে আসা হবে যাতে প্রবাসিদের উকিলের পেছনে ঘুরতে হবে না,মামলার তারিখ ও জানা যাবে, ,মামলার ফলাফলও জানা যাবে অনলাইনে, এতে প্রবাসিদের হয়রানি কিছুটা লাঘব হবে।
একজন সাধারন প্রবাসি হিসাবে আমরা মনে করি , প্রবাসিদের বিরুদ্ধে তার আত্বীয়-স্বজন বা সম্পত্তি আতœসাৎকারীরা অহেতুক মামলা-মোকদ্দমা করে থাকে, আইনে আছে কেউ যদি মিথ্যা-মামলা কওে থাকে তাহলে তা প্রমানিত হলে এর বিরুদ্ধেও আইনি-ব্যবস্থা আছে। তবে একজন প্রবাসির বিরুদ্ধে মামলা হলে প্রথম যে ধাক্কাটা আসে তাহল পুলিশি নির্যাতন। এই প্রথম ধাক্কাটা সামলানোই মুশকিল হয়ে পড়ে। গরু চুরির অপরাধে জেলে যাওয়ার জন্যে প্রবাসিরা দেশে যান না, এয়ারপোর্টে মার খাওয়ার জন্যে প্রবাসিরা জেল যান না,মানুষ দেশে যায় রিলাক্স করতে। প্রবাসিরা টাকা পয়সা খরচ করে দেশে যায় পরিবার – পরিজন নিয়ে আনন্দ -ফুর্তি করতে কিন্তু দেশে গিয়ে যখন পুলিশি হয়রানির মুখে পড়ে তখন ছেলে-মেয়েরা আর বাংলাদেশের নামও মুখে আনতে চায় না। এ ভাবে অনেক প্রবাসি পরিবার এখন বাংলাদেশ বিমুখ হয়ে পড়েছে। হলিডে প্রিয়ডে শত শত প্রবাসিরা এখন মরক্কো-তিউনিসিয়া-আর মিশরে চলে যাচ্ছে। মাল্টা ও এখন হলিডে করার জন্যে অনেকে গিয়ে থাকেন, তাছাড়া যুক্তরাস্ট্র ও কানাডাও এখন বেড়ানোর জায়গা হয়ে যাচ্ছে। কয়েক বছর আগেও যুক্তরাস্ট্র বা কানাডার সিলেটিরা বাড়ীতে মানে সিলেটে বেড়াতে যেতেন, এখন ভয়ে যান না। প্রবাসি হয়রানি চললে আগামিতে এই সংখ্যা হ্রাস পাবে।
প্রবাসিদের উপর যদি হয়রানি করা হয় তাহলে কারো কিছু যায় আসে না, কারন সবাই চায় অর্থ। টাকা পয়সা ছাড়া কোন কথা নাই। পুলিশ-প্রশাসন-আত্বীয়-স্বজন সবাই মনে করে তুমি বিদেশে থাক সেখানে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছো আমাদেরকে কিছু দিবা না কেনো? আপছে আপছে যদি না দাও তাহলে প্যাচে ফেলে তোমার নিকট থেকে নিয়ে নেবো। এই ভাবে নিয়ে নেওয়া হয়ে থাকে প্রবাসিদের পকেট কেটে পাউন্ড ও ডলার। মাননীয় বিচারপতি সিলেটের লোক তারপর তিনি আইনের পেশায় থেকেছেন দীর্ঘদিন কাজেই এসব কথা তার অজানা নয়। কাজেই তিনি থাকতে থাকতে যদি প্রবাসিদের সহযোগিতা করেন ও আইনি সহযোগিতা পেতে সহযোগিতা করেন তাহলে প্রবাসিরা আবার হয়তো দেশমুখো হবেন।
মাননীয় প্রধান বিচারপতি আরো একটি কাজ করতে পারেন সেটি হল বর্তমানে প্রচুর বাঙালি ব্যারিস্টার-সলিসিটর বিলেতে আইন-পেশায় রয়েছেন। তার মেয়াদকালে তিনি যদি পেশাজীবী আইনজীবীদের দেশের বিভিন্ন কোর্টে অভিজ্ঞতা-অর্জনের জন্যে সুযোগ করে দেন তাহলে অনেক মেধাবি আইনজীবী বাংলাদেশে যেতে আগ্রহি হবেন বলে আশা করা যায়। এদেশ থেকে আইন পেশায় ডিগ্রি নিয়ে অনেকে দেশে গিয়ে আইন ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার যদি কোন প্রকল্প করে তাহলে হয়তো একটা ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ গড়ে উঠতে পারে।
একজন সাধারন প্রবাসি হিসাবে মাননীয় বিচারপতি এস কে সিনহার এই সফরকে আমি কোন রাজনৈতিক দৃষ্ঠিভঙ্গী থেকে দেখতে চাই না। আমরা চাই বিচার বিভাগ ও বিচারপতিরা জনগনের শেষ ভরসাস্থল হিসাবে থাকুন। বিচারপতিদের গায়ে কোন রাজনৈতিক দলের গাউন পরানো উচিৎ নয় এবং কাম্য ও নয়। একজন বিচারপতি যখন তার দায়িত্ব থেকে অবসর নেন তখনও যেন সাধারন মানুষ বিচারপতিকে শ্রদ্ধার আসনে বসিয়ে রাখে। এই প্রত্যাশাই আমরা করি মাননীয় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কাছে।

লেখক: কলামিষ্ট, সাংবাদিক ও গবেষক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here