প্রচ্ছদ ফিচার প্রকৃতির বৈরিতার মধ্যেও থেমে থাকেনি সিলেটের ঈদবাজার

প্রকৃতির বৈরিতার মধ্যেও থেমে থাকেনি সিলেটের ঈদবাজার

195
0
সুবর্ণা হামিদ:  আসছে ঈদ; আর মাত্র কদিন পরই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর এই ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারো জমে উঠেছে নগরীর বিপনী বিতান গুলো। প্রকৃতির বৈরিতার মধ্যে থেমে  থাকেনি আনন্দ আয়োজনের প্রস্তুতি ।
খুশির এই দিনে বাজারের সেরা পোশাকটি নিজের করে পেতে কার না ইচ্ছে জাগে। সেই সাথে রয়েছে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কেনাকাটা। তাই তো অনেকেই ইতোমধ্যে সেরে ফেলেছেন এই কাজটি। যারা করেননি তারা ছুটছেন পছন্দসই শপিংমলগুলোতে। যা চলবে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত।

 

বিগত কয়েক বছর থেকে দেখা যাচ্ছে সিলেটের ঈদের বাজার জমে ওঠে রমজানের শেষের দিকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে। তবে বাজারমুখী মানুষের ঢল এখনও ব্যাপকভাবে শুরু হয়নি। দিনে রোদের তীব্রতা ও রাতে বৃষ্টি এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শহরের ক্রেতাদের ঈদের কেনাকাটায় কিছুটা হলেও ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। এছাড়া এখনো মাস শেষ না হওয়ায় চাকুরিজীবিরা বেতন-বোনাস পাননি। আর যারা গ্রামের বাসিন্দা তারাও এবার ঈদের আনন্দ ঐভাবে করতে পারছেন না ধানের মূল্য কম থাকায়। সব মিলিয়ে এবারও রমজানের শেষ ক’দিন ঈদের বাজার জমজমাট থাকবে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে বিপনীবিতান মুখি মানুষের ঢলও তত বাড়বে । তবে বিপণী বিতানগুলোতে সবে জমে উঠতে শুরু করেছে ঈদের কেনাকাটা।
এখন গ্রীষ্মকাল, তাই ঋতুর কথা মাথায় রেখে এবারে ঈদ উৎসবে পোশাক তৈরিতে কাপড় আর ডিজাইনে রয়েছে পার্থক্য। অন্যবারের মতো ভারতীয় কাপড়ের চাহিদা থাকলেও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই দেশি কাপড়ের ব্রান্ডগুলো। আর তাই এই ঈদে ফ্যাশন হাউজ গুলো তাদের নিজস্ব ডিজাইনের কাগড়গুলোও সাজিয়ে রেখেছে ক্রেতাদের পছন্দের অপেক্ষায়।
সরেজমিনে ঈদ বাজার ঘুরে দেখা যায়, নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, নয়াসড়ক,সহ সবকটি সুপার মার্কেটের কাপড়ের দোকানগুলোতে সন্ধ্যার পরে ক্রেতাদের ভিড় শুরু হয়। ক্রেতাদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যাই বেশি, পুরুষ ক্রেতারা সংখ্যায় তুলনামূলক কম । এখনো অধিকাংশ ক্রেতাই কেনার চেয়ে দেখায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের অনেকের সাথে আলাপকরে জানা গেলো প্রথমে ঘুরে ঘুরে দেখছেন ঈদের কালেকশন গুলো, সেই সাথে দামটাও যাচাই-বাছাই করছেন। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে অনেকেই আবার ইন্টারনেট ঘেটে দামও ডিজাইন পছন্দ করে মার্কেটগুলোতে খোঁজ করছেন সেই সব কাপড়।
মোটকথা ক্রেতারা ঈদের বাজারে কোনভাবেই পছন্দের পোষাক ক্রয়ে প্রতারিত হতে চান না। এদিকে ঈদকে সামনে রেখে বাহারি রং ও ডিজাইনের পোশাকের সমাহার ঘটিয়েছেন বিক্রেতারা। ক্রেতা চাদিার কথা বিবেচনার পাশাপাশি হালের নিত্য নতুন সব ডিজাইনের সংযোজন করেছেন তাদের ঈদ আয়োজন। দেশী পোশাকের পাশাপাশি রয়েছে বিদেশে পোশাকের সংগ্রহ।
বতর্মান সময়ের ফ্যাশন সচেতন তরুণ তরুণীদের কাছে স্বাচ্ছন্দ্যে রুচিশীল পোশাকের মধ্যে পাঞ্জাবি ও সালোয়ার কামিজের চাহিদা একটু বেশি। যেহেতু এবারের ঈদে গরম আবহাওয়া বিরাজ করছে, তাই অন্য বারের তুলনায় এবার এই পোশাক গুলোর কদর একটু বেশি। এ ব্যাপারে নগরীর অভিজাত ফ্যাশন হাউজ মাহা’র স্বত্বাধিকারী মাহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম জানান- আমরা বরাবরই ঈদ আয়োজনে একটু আলাদা ও ব্যতিক্রমী সব ডিজাইনের পোশাক রাখার চেষ্টা করি। কারণ এই ঈদে সবাই একটু রুচিসম্মত পোশাক বাঁচাই করে থাকেন। আর এ জন্য ক্রেতাদের চাহিদা বুঝে আমরা এবার বিদেশি কাপড় বেশি রেখেছি।

 

এবারের ঈদ গরমে হওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদা পাঞ্জাবির দিকেই বেশি বলে জানালেন তিনি। তাই আমারা সকল শ্রেণীর ক্রেতাদের কথা বিবেচনা করে এক হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকা পযর্ন্ত পাঞ্জাবির দাম নির্ধারণ করেছি। দরগাহ গেইটস্থ তুলনা ফ্যাশন হাউজের সর্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন জুয়েল জানালেন একই কথা। এবার ঈদে ফতুয়া আর পাঞ্জাবির চাহিদা একটু বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার ঈদে আমরা নিজস্ব ডিজাইন ছাড়াও বিদেশি পোশাক সাজিয়ে রেখেছি। এ ব্যাপারে জিন্দাবাজারস্থ আলহামড়া শপিং সিটির মৈত্রী ফ্যাশনের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন ইমন জানান- এবার ঈদে লং গ্রাউন এবং লং কামিজ বেশি বিক্রি হচ্ছে। আর টিস্যু কামিজের চাহিদাও বেশি। দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন -আমরা ক্রেতাদের কথা বিবেচনা করে এক হাজার টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা পযর্ন্ত দামে এই সব পোশাক বিক্রি করছি ।
নগরীর সামস সুপার মার্কেটের লেডিস কর্নার এর স্বাধিকারী উজ্জল চৌধুরী জানান-এবারের ঈদে দামী পোষাকের চেয়ে আরামদায়ক পোশাকের চাহিদা বেশি। কারণ এখন গরমের সময় তাই সবাই সুতি বা পাতলা আরামদায়ক পোশাক বাঁচাই করছে। বেশির ভাগ সুতি থ্রিপীস আর হালকা কটী ফোরপীসের চাহিদা বেশি দেখা যায়।
বাঙ্গালী নারীর সুন্দরের প্রধান উৎস হলো শাড়ি। শাড়িতেই নারীর সৌন্দর্য্য প্রকাশ পায়। তাই উৎসবের রংয়ে নিজেকে সাজাতে নারীরা ভীড় করছেন বিভিন্ন শপিংমলে। আর তাদের চাহিদা অনুযায়ী নানা ডিজাইনের শাড়ির পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানীরা। সিটি সেন্টারের মোহিনী শাড়ি ঘরের ব্যাবসায়ী লিটন পাল জানান-আমরা প্রতি বছর নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি সংগ্রহ করে থাকি। যাতে করে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারি।তবে এবার সুতির শাড়ির চাহিদা একটু বেশি।

 

স্কুল শিক্ষক সুলতানা সাত্তার জানান- এখন গরম কাল, তাই পাতলা আরামদায়ক শাড়িই সবাই পছন্দ করে। তবে শাড়ির দাম এবার তেমন একটা কম নয়। ঈদ বাজার নিয়ে ক্রেতাদের সাথে কথা বললে স্কুল ছাত্রী নাসরিন আক্তার জানান- এবারের ঈদ বাজারে তেমন পছন্দমতো কোন পোশাক আসেনি, তবে দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম মনে হচ্ছে। আর অতিরিক্ত গরমের কারনে পোশাক বাঁচাই করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ফ্যাশন সচেতন ক্রেতা মো. জাকির হোসেন জানান- এই ঈদে কাপড়ের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই আছে। তবে গরমের জন্য পাঞ্জাবি গুলোই আরাম দায়ক।
প্রতি বছরের মতো এবার ঈদে ও প্রস্তুতির কোন কমতি নেই সিলেটের ব্যবসায়ীদের। ঈদকে কেন্দ্র করে যে যার মতো করে সর্বোচ্ছ চেষ্টা করেছেন ক্রেতা চাহিদা পুরণে। দেশি-বিদেশী পোষাকের সংগ্রহ নিয়ে তারা এখন ক্রেতার অপেক্ষায়। তাদের সবার প্রত্যাশার বিগত বছরের চেয়ে জমজমাট হবে এবারের ঈদ বাজার।