প্রচ্ছদ সাহিত্য পৃথিবীর প্রথম কবি এনহেদুয়ান্না

পৃথিবীর প্রথম কবি এনহেদুয়ান্না

379
0
নূরজাহান শিল্পী : কবিরাই পৃথিবীকে কবিতার চাষে প্রাণময় নান্দনিক করে তোলতে পারেন। কবিতা প্রতিবাদের হাতিয়ার হয়ে মানব কল্যানে আলোকময় ভূমিকা রেখে আসছে শতাব্দীর সিঁড়ি বেয়ে:পৃথিবীর প্রথম কবি এনহেদুয়ান্না। তিনি ছিলেন একজন নারী। নারীর হাতে চাষ হয় পৃথিবীর প্রথম কবিতা।এনহেদুয়ান্না (সুমেরিয়ান) ।সুমেরীয় রাজ্যে বাস করতেন পৃথিবীর প্রথম কবি ।
এনহেদুয়ান্না ছিলেন অসম্ভব মেধাবী এক নারী, যিনি প্রার্থনা সংগীত ও কবিতা লিখতে পারতেন বলে তৎকালীন সমাজ তাঁকে দেবী হিসেবে পূজা করত। তাঁর পিতা সম্রাট সারগন কন্যা এনহেদুয়ান্নাকে রাজ্যের প্রধান পুরোহিতের সম্মানে ভূষিত করেন। এই পদটি মর্যাদা পেত রাজ্যের সবচেয়ে সম্মানিত পদ হিসেবে।
সারগনের মৃত্যুর পরে তাঁর পুত্র রামিস সম্রাট হলেও এনহেদুয়ান্না তাঁর স্বপদে বহাল থাকেন। ২২৮৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে জন্মগ্রহণকারী এই নারীই এযাবৎকালের আবিষ্কৃত প্রথম লেখক বা কবি। তিনি ৪২টি স্তবগান রচনা করেন, যা পরবর্তীকালে ৩৭টি প্রস্তরখণ্ড থেকে উদ্ধার করা হয়।
সুমেরু ভাষার ইনানাই আক্কাদিয়ান ভাষার ইস্তার, পরবর্তীকালে গ্রিকরা যাঁকে আফ্রোদিতি বলে শনাক্ত করে এবং রোমানরা তাঁকে ডাকে ভেনাস বলে, তিনি ছিলেন প্রেমের দেবী। দেবী ইনানার স্তুতি স্তাবকে সমৃদ্ধ এনহেদুয়ান্নার কবিতাগুলোই প্রার্থনাসভা-সংগীতের ভিত্তি নির্মাণ করে। সেই দিক থেকে তিনি ধর্মাবতারের কাজ করেছেন। তাঁর ওপর রাজা সারগনের ছিল পূর্ণ আস্থা
এনহেদুয়ান্নার কাব্যপ্রতিভা তৎকালীন মেসিপটেমিয়ার নারীদের শিক্ষা গ্রহণে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করে এবং রাজবংশের নারীদের কবিতা লিখতে উৎসাহিত করে। একসময় এটা প্রায় অবধারিতই হয়ে ওঠে যে রাজকন্যা ও রাজবধূরা অবশ্যই কবিতা লিখতে জানবেন। যদিও তাঁর সমসাময়িককালে আর তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো নারী কবির সন্ধান পাওয়া যায়নি। এতে এটাও প্রতীয়মান হয় যে  শেলির কথাই ঠিক, কবিতা একটি ঐশ্বরিক বা স্বর্গীয় ব্যাপার। তিনি অবশ্য স্বর্গীয় বলতে বুঝিয়েছেন মানুষের স্বর্গীয় অনুভূতির কথা।
২২৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন পৃথিবীর প্রথম কবি এই মহীয়সী নারী।
এনহেদুয়ান্নার একটি   শ্লোক অনুবাদকৃত উল্লেখ করা হলো ,
আমি তোমার এবং সব সময় তোমারই থাকব
তোমার চেতনা, সমবেদনা আমার প্রতি
তোমার হৃদয় আমার জন্য শীতল হোক, করুণার্দ্র হোক
তোমার কঠিন শাস্তির স্বাদ আমি উপলব্ধি করেছি।
(তৃতীয় লাইনের কিছু অংশ উদ্ধার করা যায়নি। ‘করুণার্দ্র’ শব্দটি যোগ করা হয়েছে চরণকে অর্থবহ করার জন্য। (এনহেদুয়ান্নার শ্লোক: ১২)
আসলে মানুষ মাত্রই তার জীবন একটি উৎকৃষ্ট কবিতা
নিপুন শিল্প ও শিল্পের সত্তা কেউ শব্দে প্রকাশ করে যায়
শিল্পের শাখার যাদুবলে কেউ অন্তরালে
প্রত্যেক সৃষ্টিশীল মানুষের জীবনটাই অমৃত রসের ভরপুরে
সাহিত্যের নিষ্ঠা সুষ্ঠ নির্মল সাহিত্যে প্রাণ পাক জীর্ণ পৃথিবী।