প্রচ্ছদ সফল নারী ওডব্লিউএসডি-এলসেভিয়ার পুরস্কার বিজয়ী ড. তানজিমা হাশেম

ওডব্লিউএসডি-এলসেভিয়ার পুরস্কার বিজয়ী ড. তানজিমা হাশেম

525
0
মো: আবদুস সালিম: চলতি বছর পাঁচ দেশের পাঁচজন নারী গবেষক ওডব্লিউএসডি-এলসোবিয়ার ফাউন্ডেশন পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। দেশ পাঁচটি হলো ইকুয়েডর,্ ইন্দোনেশিয়া, ঘানা, সুদান ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশের কম্পিউটার বিজ্ঞানী তানজিমা হাশেম তাদেরই একজন। তিনি এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন কেমিকৌশল, জ্বালানি ও খনি প্রকৌশল, পরিবেশ প্রকৌশল এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে। তাদের মতো তিনিও এ পুরস্কারের জন্য ঘোষিত হন বাংলাদেশের তরুণদের বিজ্ঞান গবেষণার দেখভাল বা তত্ত্বাবধানের জন্য। এই পুরস্কার দিয়ে থাকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নারী বিজ্ঞানীদের একটি নামকরা সংগঠন ওডব্লিউএসডি।
ড. তানজিমা হাশেম বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। তিনি মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা বা সুরক্ষার ক্ষেত্রে কম্পিউটারনির্ভর একটি পথ বা উপায় বের করেছেন। ড. তানজিমা বলেন, এ রকম একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় মূলত অনলাইনে নানা ধরনের সেবা নেয়ার সময়। স্বাস্থ্য, অভ্যাস, অবস্থান প্রভৃতি বিষয়ে নিজ নিজ বা ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখার ক্ষেত্রে। তিনি আরো বলেন, আমরা কাজের ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হই। আর তা বেশি দেখা দেয় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। আমরা কাজ করেছি এসব সমস্যা সমাধানের জন্য। আমার আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দিয়েছে এ সংক্রান্ত পুরস্কার। ওডব্লিউএসডি বা অর্গানাইজেশন ফর উইমেন ইন সায়েন্স ফর দ্য ডেভেলপিং ওয়ার্ল্ডের প্রধান জেনিফার মসন বলেছেন, ‘এটা বলা যেতে পারে যে, সবার জন্য যেটা অনুপ্রেরণামূলক সেটা হলো পাঁচ নারীর সঙ্কল্প, নিষ্ঠা, উদ্যম ইত্যাদি। আর এসব বিষয় বিশেষভাবে প্রয়োজন উন্নয়নশীল বিশ্বের নারী গবেষকদের জন্য। তাদের কঠোর পরিশ্রম ও সাফল্য অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিকপর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে স্থানীয়ভাবে কঠিন পরিস্থিতি বা অবস্থার মধ্যেও। এদিকে ইলসেইভার ফাউন্ডেশনের পরিচালক ইলান স্কেম বলেছেন, বিকাশমান নানা ক্ষেত্রে কঠিন বাধা মোকাবেলা করছেন বাংলাদেশের সফল কম্পিউটার বিজ্ঞানী তানজিমা হাশেম। তার কাজের মধ্যে রয়েছে সাইবার নিরাপত্তা থেকে শুরু করে মূল্যবান সম্পদের দূষণ দূরীকরণসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তাদের এই অর্জনের উৎসব অনুষ্ঠিত হয় আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স বা অ্যাস নামক প্রতিষ্ঠানে। ঝানু বৈজ্ঞানিকদের একটি প্যানেল অন্য চারজনের মতো ড. তানজিমাকেও বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করেন। এ কৃতিত্ব অর্জনের কারণে তাদের সবাইকে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার পাওয়ার একটি বিষয় নিশ্চিত হয়। অ্যাস-এর ২০১৭ বার্ষিক সভায় যোগদানের সব ভ্রমণভাতাও এতে যোগ হয়। এসব সফলতার পেছনে ওডব্লিউএসডি’র ভূমিকা অনেক বেশি। সংস্থাটি উন্নয়নশীল বিশ্বে নারী প্রকৌশলীদের গবেষণা, প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নতি এবং নেটওয়ার্ক সুযোগ তৈরি করে দেয়। দক্ষিণের প্রসিদ্ধ নারী বৈজ্ঞানিকদের নেতৃত্বে এর প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য রয়েছে। এ সদস্যরা তৃতীয় বিশ্বের এবং আফ্রিকার সাব সাহারান দেশের নারীদের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সহযোগিতা করে। এসব সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে পিএইচডি ফেলোশিপ কর্মসূচিও। সংস্থাটি ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সের অন্তর্ভুক্ত এবং ইটালিভিত্তিক (ট্রায়েস্টির) উন্নয়নশীল বিশ্বে কাজ করে যাচ্ছে। এ দিকে জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সহায়তা দেয় ইলসেইভার ফাউন্ডেশন। এ প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যতথ্য বিষয়ে উন্নয়নশীল দেশে কারিগরি গবেষণা ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়। ২০০৬ সাল থেকে এই ফাউন্ডেশন কয়েক মিলিয়ন ডলারের প্রায় ১০০ অনুদান দিয়েছে। তাদের বেশি নজর থাকে লাভহীন সংস্থাগুলোর প্রতি। অনুদান ছাড়াও এ ফাউন্ডেশন ইলসেইভার কর্মচারীদের প্রচেষ্টাকে বিশেষ সম্মান দিয়ে থাকে। কেননা, এসব কর্মচারী স্থানীয় ও বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। এই ফাউন্ডেশন একটি সমন্বিত ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান যা বৈজ্ঞানিক, কারিগরি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সৃষ্টি ও সেবায় আত্মনিয়োগ করে। এসব সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজের সাথে নানাভাবে জড়িত ড. তানজিমা হাশেম।
২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং সফটওয়্যার প্রকৌশলীতে পিএইচডি অর্জন করেন। ২০০৬ সালে বুয়েট থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং প্রকৌশলীতে এমএসসি পাস করেন। তার গবেষণার আওতা হচ্ছে ডাটাবেস, ডাটা মাইনিং এবং ইনফরমেশন সিস্টেম। আর যেসবে খুবই বেশি আগ্রহী সেগুলো হলোÑ কুয়ারি প্রসেসিং ফর লোকেশন বেজড সার্ভিসেস, ডাটা ম্যানেজমেন্ট ইন দ্য ক্লাইড, কুয়ারি প্রসেসিং ইন সোশ্যাল নেটওয়ার্কস, প্রাইভেসি ইনলোকেশন বেজড অ্যাপ্লিকেশনস, মোবাইল কম্পিউটিং ইত্যাদি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here