প্রচ্ছদ নজরুল ইসলাম বাসনের কলাম একস্ট্রিমিজম ও বাঙালি কমিউনিটির করণীয়

একস্ট্রিমিজম ও বাঙালি কমিউনিটির করণীয়

678
0
নজরুল ইসলাম বাসন: বাঙালি কমিউনিটিতে এক্সট্রিমইজম একটি আতংক এবং ব্যাধি হিসাবে দেখা দিয়েছে। ইসলামি স্টেইটে বাঙালি তরুন-তরুনীরা যে যাচ্ছে এটি একটি ডিজিজ বা ব্যাধি হিসাবে গন্য করা যায়,এই ব্যাধির উপসর্গ হল বাঙালি তরুন-তরুনীদের ‘আইএস: নামের সংগঠনে যোগ দেয়া। বাঙালি কমিউনিটি এই রোগের সাথে পরিচিত ছিলেন কিন্তু এর প্রকোপ যে কত ভয়াবহ তা জানলেন যখন বেথনালগ্রীনের শামীমা বেগম. খাদিজা সুলতানা এবং আমিরা আব্বাসি সিরিয়া গমন করলেন তখন। এই তরুনীদের সিরিয়া গমনের পর বাঙালি কমিউনিটিতে আতঙ্ক সৃষ্ঠি হয়। এরপর ম্যাঞ্চেস্টার থেকে সালমা ও জাহরা নামে যমজ দুইবোন, ব্রিস্টল থেকে ১৫ বছরের একজন, ২০১৩ সালে গ্লাসগো থেকে ২০ বছর বয়স্ক মহিলা আকসা মাহমুদ আইএস যুবককে বিয়ে করার জন্যে আলেপ্পো গমন করেন।লুটনের একটি পরিবারের ছেলে-বুড়ো-স্ত্রী-কন্যাসহ ৯ সদস্যা বাংলাদেশ থেকে আসার পথে ইসলামিক স্টেটে চলে গেছেন। এই ব্যাপারটা রুপকথার চাইতেও অবিশ্বাস্য। বৃটেনের দৈনিক গার্ডিয়ানের একটি সুত্র থেকে জানা গেছে, ২০১২ সাল থেকে প্রায় ৭শত ব্রিটিশ তরুন-তরুনীদের কে আইএস রিক্রট করেছে। পুলিশের সাবেক চীফ সুপারিনটেনডেন্ট ডাল বাবু এই রিক্রটিং প্রক্রিয়াকে ‘টক্সিক ব্রান্ড হিসাবে অভিহিত করেছেন।
গত ১৯ শে অক্টোবর বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন একস্ট্রিমইজমের বিরুদ্ধে তার সরকারের কর্ম-কৌশল ঘোষনা কওে বলেছেন জাতীয় ভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। যে কোন সরকারি উদ্যেগই সমালোচনার উর্ধ্বে নয় তাই কনজারভেটিভ পার্টির চরমপন্থার বিরুদ্ধে নেয়া ব্যবস্থা সম্পর্কে ভিন্নমত থাকবে অবশ্যই। কিন্তু রাস্ট্র যখন কোন উদ্যেগ নেবে তখন উদাসীন হয়ে থাকার কোন অবকাশ নেই। আর বৃটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির উপর খড়গ নেমে এসেছে, যেসব পরিবারের অল্প-বয়সী ছেলে-মেয়েরা ইসলামিক স্টেইটে যোগ দিয়েছে সেই সব পরিবারের অভিভাবকরা জানেন তাদের উপর কি ঝড় বয়ে যাচ্ছে। অল্প বয়সী ছেলে,মেয়েদেরকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রলুদ্ধ করা হয়ে থাকে এবং তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় যুদ্ধাক্রান্ত এলাকায়। তরুনীরা শয্যাসঙ্গী হিসেবে সংযোজিত হয়ে থাকেন, আর তরুনরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধে নামেন।
সিরিয়া এবং ইরাকে আইএস বা ইসলামি রাস্ট্র নিয়ে আলোচনা করার জন্যে আমার এই লেখা নয় আমার বক্তব্য হল ইসলামি রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্যে তরুনীদেরকে কেন যুদ্ধের ময়দানে যেতে হবে? কেন তাদেরকে সৈনিকদেও শয্যাসঙ্গী হতে হবে? তরুনরা যারা যুদ্ধের ময়দানে গেছেন তারা কোন আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্যে যুদ্ধ করছেন? এসব বোঝার কি তাদের বয়স হয়েছে? বাংলাদেশি পরিবারগুলোতে যে ভাইরাস ছড়ানো হচ্ছে তা বুঝে উঠার আগেই অল্প-বয়সীরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ফেলে। এর কারন হল পরিবারের অন্য সদস্যরা ভাইরাস আক্রান্ত ছেলে মেয়েদের পরিবর্তন বুঝে উঠতে পারেন না। যেসব তরুন-তরুনীরা রেডিক্যালাইজড হয়ে যাচ্ছেন বা চরমপন্থার দিকে ঝুকছেন তাদের মনোজগতে যারা মতবাদ বা আদর্শ ঢুকিয়ে দিচ্ছে তারা অত্যন্ত শক্তিশালি পদ্ধতিতে এই কাজ করে চলেছে।সোশ্যাল মিডিয়া এ ব্যাপারে অত্যন্ত শক্তিশালি ভুমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশি তরুন-তরুনীদের এই বিষবৃক্ষের তল থেকে ফিরিয়ে আনতে হলে স্কুল, কলেজ, মসজিদ, কমিউনিটি সংগঠন এবং স্থানীয় সরকারকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।
যদিও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে কোন সংগঠন এখনও এন্টি-র‌্যাডিকেলাইজেশনের উপর কাজ করছে না আর করলেও তা খুব নজরে আসছে না। তবে বর্তমানে দুটি সংগঠন মুলস্রোতের সাথে কাজ করছে এগুলো হল সারা খানের ইন্সপাইয়ার এই সংগঠন সংশ্লিস্ট সংগঠনগুলোর সাথে কাজ করছে আর একটি সংগঠনের নাম হচ্ছে একটিভ চেইনজ ফাউন্ডেশন- বা এসিএফ-। তারা হোম অফিস – পুলিশ- কাউন্সিল-স্কুলের সাথে কাজ করছে। বাঙালি কমিউনিটিতে এই সংগঠনগুলোর আদলে কোন সংগঠনের তৎপরতা এখন ও নজরে আসেনি।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও গবেষক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here