প্রচ্ছদ ধর্ম ইসলাম কি বলে? সন্তানের পছন্দে বিয়ে হওয়া উচিত নাকি বাবা মায়ের...

ইসলাম কি বলে? সন্তানের পছন্দে বিয়ে হওয়া উচিত নাকি বাবা মায়ের পছন্দে ?

409
0
আজহার ভূঁইয়া: আপনার জন্য আপনার সন্তান হলো একটি পরীক্ষা। জানেন কেন? বিকজ দে বিলং টু আল্লাহ। পরীক্ষা করার জন্যই আল্লাহ আপনাকে এই সন্তান দিয়েছেন। শুধুমাত্র দেখার জন্য যে আল্লাহ যেভাবে আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন তাদেরকে সেভাবে লালন পালন করছেন নাকি আপনি অথবা আপনার পরিবারের ইচ্ছামতো তাদেরকে বড় করে তুলছেন।
একটু খেয়াল করলে দেখবেন, আপনার শিশুর জন্মের পর থেকে সম্পূর্ণ কন্ট্রোল আল্লাহ আপনাকে দিয়েছে। আপনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, আজকে আপনার সন্তানের মুখ দিয়ে কোন খাবারটি গ্রহণ করবে, আপনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কোন কাপড়টি সে পড়বে, আপনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সন্তানের নামটি কি হবে। সমস্ত কিছু আপনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এমন কি কোন খেলনা দিয়ে সে খেলবে। আল্লাহ বলেছেন ওই সময়টাতে তোমাকে ফুল কন্ট্রোল আমি দিয়েছি কিন্তু আস্তে আস্তে আমি তা তুলে নেবো।
দেখুন, যখন আপনার শিশুটি একটু বড় হতে শুরু করলো, সে আর আপনার পছন্দের খেলনা দিয়ে খেলতে চায়না, তার নিজের পছন্দের খেলনা চায় সে। যখন স্কুলের বয়স হলো আপনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কোন স্কুলে সে পড়বে, কিন্তু একটা সময় আসে সেই ছোট্ট সন্তানটি বলে, না আমি ঐস্কুলে যাবোনা অন্য স্কুলে যেতে চাই। এমন আরো অনেক কিছুই সে তখন নিজের মতো করে চায়। এর মানেই হচ্ছে আল্লাহ আস্তে আস্তে আপনার কাছ থেকে সেই কন্ট্রোল তুলে নিচ্ছেন এবং আপনাকে সেটা দেখিয়ে দিচ্ছেন। ঠিক এমনি করে আস্তে আস্তে
আপনার সন্তান যখন কিশোর বয়সে চলে আসে তখন আপনার কন্ট্রোল অনেকটুকুই কমে যায়।
যখন আপনার সন্তানটির বিয়ের বয়স হয়ে যায়, আল্লাহ বলেছেন তখন আপনার সন্তানের সিদ্ধান্ত হবে সে কাকে বিয়ে করতে চায়, আপনার সিদ্ধান্ত নয়। আপনি তাকে কোনোভাবেই শারীরিক কিংবা মানসিক ভাবে চাপ প্রয়োগ করতে পারবেন না যে আপনার পছন্দের ছেলে অথবা মেয়েকেই যেন বিয়ে করে। কারণ এটা আপনার খুশির জন্য নয় আপনার পছন্দের জন্য নয়। এটি শুধুমাত্র সন্তানের খুশি আর পছন্দের জন্যই।
সবচেয়ে সুন্দর সমাধান হলো পারস্পরিক বুঝাপড়ার মাধ্যমে কাজটি সমাধান করা। এবং সন্তানদের উচিত হচ্ছে বাবা মায়ের সাথে পরামর্শ করা যে , বাবা এবং মা আমি ওই ছেলেকে বা ওই মেয়েকে বিয়ে করতে চাই আমাকে আপনারা গাইড করেন। মনে রাখবেন আপনি কোনোভাবেই আপনার সন্তানকে বলতে পারবেন না যে তুমি ওই ছেলেকে কিংবা ওই মেয়েকে বিয়ে করতে পারবেনা, তোমাকে আমাদের পছন্দেই বিয়ে করতে হবে। আপনাকে বুঝতে হবে এই সন্তান আপনার সাথে বিলং করতোনা, তারা আল্লাহর সাথে বিলং করতো। সুতরাং রাসূল সা: এর হাদিস অনুসারে, তারা যদি কাউকে বিয়ে করতে চায় তাহেল তাদেরকে দুটি প্রশ্ন করুন যা আল্লাহ আপনাকে করতে বলেছে।
এক নম্বর : ওই মানুষটার দীন (ধর্ম) ঠিক আছে কিনা, ধর্মীয় দিক থেকে সে প্র্যাকটিসিং কিনা।
দুই নম্বর: তাদের চরিত্র ঠিক আছে কিনা।
যদি এই দুটি প্রশ্নের উত্তর হয় হ্যা, তাহলে আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন হ্যা বলার জন্য আর তাদেরকে বলা হে আমার সন্তান আমাদের দোয়া আছে তোমাদের জন্য। আপনিকি জানেন তাহলেই হবে আপনার জান্নাত পাওয়া?
হাদিসে আছে যদি আপনার কন্যা সন্তান হয়, আর আপনি যদি তাদেরকে সঠিকভাবে লালন পালন করেন তাহেল আপনার জান্নাত নিশ্চিত। এই সঠিকভাবে লালন পালন করা মানে কি? এই লালন পালনের মধ্যে যায় তাদের কে সঠিক স্থানে বিয়ে দেয়া। এবং আল্লাহ যেভাবে নির্দেশ দিযেছেন সেভাবে তাদেরকে বড় করা। কারণ, আপনি আপনার কন্যা সন্তানকে লালন পালন করছেন, দীন শিক্ষা দিচ্ছেন, অন্য একজন সেই বেনিফিট নেবার জন্য। আপনার কন্যার গর্ভে জন্ম নেয়া সন্তানরা বেনিফিট নেবার জন্য। এবং এক পর্যায়ে অন্য আরেকজন মানুষের অনেক বেশি কন্ট্রোল থাকবে সেই সেই কন্যা সন্তানের উপর আপনার থেকেও বেশি অধিকার থাকবে তার তখন।
একজন বাবা একজন মা হিসেবে তখনি কেবল আপনি জান্নাত পাবেন। আর এটি কোনো সহজ কাজ নয়।
আপনি যদি আপনার সন্তানকে মানসিক অথবা শারীরিক ভাবে চাপ প্রয়োগ করেন তার পছন্দের মানুষকে রেখে আপনার ভালো লাগা, আপনার ইচ্ছা, আপনার শখ পূরণের জন্য অন্য কাউকে বিয়ে করতে তাহেল আপনি জীবনেও জান্নাত পাবেন না, কারণ আপনিতো আল্লাহর আইনকে মানছেন না, আপনিতো আল্লাহর দেয়া নির্দেশ, রাসূল সা: এর দেয়া উপদেশের পরোয়াই করছেন না।
আসলে আমরা সত্যি আজকে এমন একটি সমাজে বাস করি যেখানে বসে এইগুলো চিন্তা করতে পারিনা যে আজকাল, কেউ সন্তানকে এমন প্রেসার করতে পারে তাদের বিয়ে নিয়ে। তেতো হলেও সত্য যে আমাদের চারপাশে অসংখ মানুষ এমন করে যাচ্ছেন তাদের সন্তানদের সাথে। ঠিকই নিজেকে মুসলিম দাবি করছেন কিন্তু এই সহজ বিষয়গুলোর সময় আর ইসলামকে মানতে চান না। তখন শুধু দেখেন উনাদের নিজেদের ভালো লাগা, নিজেদের শখ পূরণ করতে চান সন্তানদের থেকে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইসলামের সঠিক শিক্ষা নেবার তৌফিক দিন আমিন।