প্রচ্ছদ নজরুল ইসলাম বাসনের কলাম আমান একাডেমি – একটি স্বপ্ন, একটি প্রত্যাশা

আমান একাডেমি – একটি স্বপ্ন, একটি প্রত্যাশা

534
0
SHARE
আমান একাডেমি – একটি স্বপ্ন, একটি প্রত্যাশা। বহুদিন ধরে তিল তিল ভালোবাসায় কাব্য ও সংগীত জগতকে সমৃদ্ধ করার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের স্বপ্ন দেখেছেন ডঃ আমান উল্লাহ অশ্রু ও তাঁর যোগ্য সহধর্মিনী ডঃ আয়েশা খাতুন।
অশ্রু তাঁর পরিব্রাজক জীবনে পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরেছেন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র কাউন্সিলর হিসাবে কাজ করেন। এরপর জাতিসংঘের ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট হিসাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করেন। যদিও তাঁর কাব্যচর্চা শুরু হয় স্কুল জীবন থেকেই। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তা কিছুটা বিস্তৃত হয় তিনটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে। পরবর্তীতে তাঁর ব্যস্ততাময় কর্মজীবনে বিভিন্ন দেশে ঘোরাঘুরিতে সে কাব্যচর্চা ছিল অনেকটাই পাথরচাপা ঝর্ণার মতো। কিন্তু অবসর জীবনের শুরু থেকেই তা আবার বহমান নদীর মতো ফল্গুধারায় প্রবাহিত হতে শুরু করে। তারই ফলশ্রুতিতে ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত কলকাতা ও ঢাকা বইমেলায় মোট ৩২৩ টি বাংলা ও ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এছাড়াও আরও প্রায় দুইশতটি কাব্য গ্রন্থের পান্ডুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায়। একই সঙ্গে তাঁর লিখিত গানের সংখ্যা তিনহাজারেরও অধিক। তিনি লন্ডন বাংলা একাডেমী থেকে “সাহিত্য আচার্য” পদক লাভ করেছেন।
২০০৫ সালের দিকে আমান উল্লাহ অশ্রুর উদ্যোগে কলকাতায় “আমান সাহিত্য ও সঙ্গীত একাডেমি” অশ্রুর গানে সুরারোপ ও সঙ্গীত আয়োজন এবং বই প্রকাশের মাধ্যমে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ১৫ আগস্ট “আমান সাহিত্য ও সঙ্গীত একাডেমি” প্রেস সম্মেলনে একাডেমির কার্যক্রম সবাইকে জানানোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বিখ্যাত সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ রতন সাহার সার্বিক তত্ত্বাবধানে অশ্রুর বিশাল গীতিকবিতার ভান্ডার সুরময় সঙ্গীতের এক মোহময় জগত তৈরি করতে থাকে। প্রকাশ পায় “অশ্রুগীতি”র অডিও এবং ভিডিও এলবাম। বিখ্যাত সব সঙ্গীত শিল্পীদের কন্ঠের সুর মুর্চ্ছনায় শ্রোতা ও দর্শক নন্দিত হয় গানগুলি।
কলকাতায় একাডেমির কার্যক্রমে অশ্রু’র বই প্রকাশ ও সঙ্গীতের মুর্চ্ছনায় যখন সাংস্কৃতিক জগত আন্দোলিত হচ্ছে তখন আমান উল্লাহ অশ্রু ও আয়েশা খাতুনের সরাসরি উদ্যোগে ঢাকায় আমান একাডেমির কাজ শুরু হয়। ২০১০ সালের ৩১ জানুয়ারি একাডেমির উপদেষ্টা ও পরিচালকদের উপস্থিতিতে এক কার্যকরী সভায় একাডেমির ভবিষ্যত কার্যক্রম সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহন ও তা প্রেস রিলিজের মাধ্যমে সবাইকে জানানোর মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক পথ চলা। একাডেমির পরিচালক রহমত উল্লাহ বায়রণ এর পরিশ্রম আর পরিশীলিত তত্ত্বাবধানে ঢাকার শনির আখড়ায় সাততলা একাডেমি ভবন নির্মান সম্পন্ন হয়। পরিকল্পনা করা হয় বাণিজ্যিকভাবে ছয়টি ফ্লোরের ভাড়া থেকে একাডেমি যাতে পরবর্তীতে স্বাধীনভাবে চলতে পারে। এই ভবনের নীচের ফ্লোরে একাডেমি তার কাজ শুরু করে। বর্তমানে নিয়মিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একাডেমি তার কার্যক্রম চালু রেখেছে। ভবিষ্যত পরিকল্পনায় আছে নীচের ফ্লোরে একটি প্রিন্টিং প্রেস ও অত্যাধুনিক সঙ্গীত রেকর্ডিং স্টুডিও প্রতিষ্ঠার যা একাডেমির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করবে।
এই আমান একাডেমির কার্যক্রমের সাথে সংযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট আরও দুটি উদ্যোগ হল – কবিকুঞ্জ এবং আয়েশা সেন্টার। কবিকুঞ্জ হচ্ছে গবেষণা ও সাহিত্য নিকেতন। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানার নয়ানগর গ্রামে প্রাকৃতিক পরিবেশে কবিকুঞ্জ ভবন তৈরি করা হয়েছে। কবিকুঞ্জের নীচতলায় একটি লাইব্রেরী তৈরির কাজ চলছে যেখানে আগ্রহী সাহিত্যমোদীরা পড়ালেখা ও গবেষণা করতে পারবেন। উপর তালায় থাকার সুব্যবস্থা এবং খোলা ছাদে স্থায়ী ছাতার নীচে সভার স্থান রাখা হয়েছে। মেঘনা নদীর কোল ঘেষে বিস্তৃত মাঠ, আকাশ আর গ্রাম্য কাব্যিকময় পরিবেশে অবসর সময় কাটাতে আগ্রহীরা আর সাহিত্য রসিকদের পদচারণায় কবিকুঞ্জ একসময় মুখর হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে আয়েশা সেন্টার হবে মুন্সিগঞ্জ শহরের মধ্যে একটি প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। দুঃস্থ মহিলাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি সামান্য খরচে সারাবছর এখানে বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীত, কবিতা আবৃত্তি ও অংকন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নানা সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠানের কেন্দ্র হিসাবেও এটি ব্যবহৃত হবে। বর্তমানে এই সেন্টারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
আমান একাডেমিকে ঘিরে ডঃ আমান উল্লাহ অশ্রু ও ডঃ আয়েশা খাতুন এর স্বপ্ন ও উদ্যোগ সম্পর্কে সবাইকে জানানো, বাংলাদেশ ও বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী সবার কাছে তাঁদের সৃষ্টিকর্মের সহজ উপস্থাপনা এবং সবাইকে তাঁদের সৃষ্টির জগতে অবগাহনের আমন্ত্রণ জানানো আর একই সঙ্গে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য তাঁদের সৃষ্টিকে সংরক্ষণ করার চিন্তায় এই “আমান একাডেমি” ওয়েবসাইট তৈরির প্রয়াস।
এই ওয়েবসাইট তৈরির উদ্যোগ, সার্বিক সমন্বয় এবং বাস্তবায়নে আছে আমান একাডেমির অন্যতম পরিচালক সাইফুল হক শাফীন। তারই সুষ্ঠু তত্ত্বাবধানে এই ওয়েবসাইটে ডঃ আমান উল্লাহ অশ্রু ও ডঃ আয়েশা খাতুন এর সৃষ্টিকর্ম নিয়ে একটি ই-লাইব্রেরী গড়ে উঠবে এবং “অশ্রুগীতি” চ্যানেলের মাধ্যমে সঙ্গীতের সুধা সবার কাছে উপভোগ্য হবে এটাই প্রত্যাশা।
সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও গবেষক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here