প্রচ্ছদ বাংলাদেশ আজাদ, রণজিৎ, এজাজ, বাবলার তান্ডবে লন্ড ভন্ড সিলেটের ইউপি নির্বাচনী ফলাফল

আজাদ, রণজিৎ, এজাজ, বাবলার তান্ডবে লন্ড ভন্ড সিলেটের ইউপি নির্বাচনী ফলাফল

4011
0

(ছবিতে আজাদ ও রঞ্জিত- একজন কাউন্সিলর ও নেতা  অপরজন নেতা)

সিলেট থেকে বিশেষ প্রতিনিধিঃ গত ২২ মার্চ বলা যায়, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সিলেটের ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের  নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে শত শত নারী পুরুষ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কেন্দ্রে সারি বদ্ধভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।জেলা আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ সহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সাধ্যমতো সেই নির্বাচনে জনগনের ভোটাধিকার প্রয়োগে সাহায্য করেন।

দুপুরের কিছু আগে বালুচর ও খাদিম পাড়ার দু-একটি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের কতিপয় নেতা কর্মীরা জোর করে কেন্দ্রে ঢুকে ভোট দেয়ার চেষ্ঠা করলে জনগন ও আইন শৃংখলা বাহিনী বিশেষ করে জেলা আওয়ামীলীগ ও স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীদের প্রতিরোধের মুখে তা আর সম্ভব হয়নি।

বিকেল পর্যন্ত একটানা ভোট হলেও নির্বাচনী ফলাফল গণণায় দেখা দেয় কিছুটা উত্তেজনা।৬টি ইউনিয়নে বিজিবি, পুলিশ আর আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধতার কারণে ফল গণণায় তেমন বাধা সন্ত্রাসীদের দ্বারা টিকেনি।

কিন্তু বাধ সাধে সিলেটের টুলটিকর ইউনিয়ন ও খাদিম পাড়া ইউনিয়নের ফলাফল গণণায়। এই দুই ইউনিয়নেই আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কৃত ও বিদ্রোহী দুই প্রার্থী নির্বাচন করেন। আর এই দুই ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রত্যক্ষ সমর্থন দেন সিলেট যুবলীগের ও শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগের  নেতৃবৃন্দের গ্রুপ। কাউন্সিলর আজাদ, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রঞ্জিত দাস ও শ্রমিক লীগের এজাজ, বাবলার নেতৃত্বে গ্রুপ চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয় এবং প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়, নির্বাচনের আগেই, টুলটিকর ইউনিয়ন ও খাদিম পাড়া ইউনিয়ন- কোন সরকারি প্রশাসন চলবেনা- আজাদ- রঞ্জিত- এজাজ-বাবলা এই দুই ইউনিয়নে যা চাইবে তাই হবে। এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগ আজাদ রঞ্জিত  এজাজ বাবলাকে সামলানোর এবং দলীয় প্রার্থীদের জেতানোর জন্য কাজ করার অনুরোধ করলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠে। আজাদ রঞ্জিত এজাজ বাবলাকে উপর থেকে সমর্থন দেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও একটি ব্যাংকের পরিচালক ডঃ কবির চৌধুরী বলে উপস্থিত অনেকেই এই প্রতিবেদকদের কাছে স্বীকার করেছেন ।

(নীচের ছবিতে এজাজ-শ্রমিকলীগের নেতা)

IMG-20160323-WA0006জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি শফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দীন সিরাজ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাকুর রহমান, আওয়ামীলীগ নেতা শফিউল আলম নাদেল, এমনকি কোন কোন অবস্থায় কামরানও সহ সকল নেতারাই আজাদ রঞ্জিত গ্রুপের হুমকীর মুখে হয়ে পড়েন অসহায় ও জিম্মি। যুবলীগের প্রেসিডিয়ামের দোহাই দিয়ে প্রশাসনকেও আজাদ রঞ্জিত গ্রুপ  করে ফেলে অসহায়। তারপরেও প্রশাসন চেষ্টা করেছে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে। 

টুলটিকর ইউনিয়ন ও খাদিম পাড়া ইউনিয়ন নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, টুলটিকর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল মোসাব্বির ২৪৬ ভোট বেশী পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন, আর খাদিম পাড়া ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বেলাল ২০০০ ভোট বেশী পেয়ে নির্বাচিত হন। সরেজমিনে উপস্থিত থেকে দেখা গেছে, প্রিসাইডিং অফিসার যখন ফলাফল ঘোষণা করতে যাবেন, তখন দেখেন টুলটিকর ইউনিয়নের প্রার্থী কিংবা তার পক্ষের কেউ উপস্থিত না থাকায় তিনি তখন আওয়ামীলীগের প্রার্থী কিংবা এজেন্টকে তলব করেন- কোথায় গেছেন জানার জন্য। এমন সময় দেখা যায়, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের আজাদ রঞ্জিত এজাজ বাবলার নেতৃত্বে দুইশতেরও অধিক মোটর সাইকেল, কয়েকজনের পীঠে হাতে  কালো ব্যাগ  সহ এসে প্রিসাইডিং অফিসারকে ঘেরাও করে, ঝটলার মাঝখান থেকে একজন মাথায় পিস্তল টেকিয়ে ব্যালট পেপার নিজেদের দখলে নিয়ে যায় ও ফলাফল শিট ছিড়ে ফেলে। ঐ একই সময়ে টুলটিকর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের প্রার্থী, জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ সহ কেন্দ্রের দিকে আসার চেষ্ঠা করলে আজাদ রঞ্জিত বাবলার গ্রুপ তাদেরকে ঘেরাও ও অবরুদ্ধ করে রাখে। নেতৃবৃন্দ সহ টুলটিকর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে তখন ডিসির বিশেষ ফোর্স পাহারা দিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেন। আর আজাদ রঞ্জিত বাবলার লোকজন জোর করে ব্যালট পেপারে সিল মেরে নতুন করে ফলাফল গননা করে ২৭৯ ভোট বিদ্রোহী প্রার্থী আলী হোসেনের বাক্সে দেখিয়ে ফলাফল শিটে প্রিসাইডিং অফিসারকে সাইন করে ঘোষণা দিতে বাধ্য করে। জেলা প্রশাসন সহ আইন শৃংখলা বাহিনী তখন ব্যালট ও পূর্ব ঘোষিত ফলাফল শিট এবং প্রিসাইডিং অফিসার ও এজেন্টদের নিরাপত্তা না দিয়ে বরং অসহায় ভাবে অবলোকন করেন। সন্ধ্যার দিকে প্রিসাইডিং অফিসার আওয়ামীলীগের বিজয়ী প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচনে পরাজিত বিদ্রোহী প্রার্থী আলী হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করে প্রাণ নিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করেন।

IMG-20160323-WA0008টুলটিকরে যখন এই অবস্থা চলছিলো তখন আজাদ রঞ্জিত এজাজ বাবলার নির্দেশে আরেকটি গ্রুপ খাদিম পাড়া ইউনিয়নের বিজয়ী প্রার্থী  নজরুল ইসলাম বেলালকে পরাজিত করে বিদ্রোহী প্রার্থী আফসরকে বিজয়ী ঘোষণা করে একই নিয়মে

(ছবিতে বাবলা- যুবলীগের নেতা)

করতে বাধ্য করে প্রিসাইডিং অফিসারদের। এখানেই ওরা থেমে থাকেনি, নজরুল ইসলাম বেলালকে অপমান করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে বলা হয়, হাসিনার মাজারে গিয়ে ভিক্ষা চাইতে। বেলালকে তারা তিন নম্বরে স্থান দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভোটারদের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে, উপস্থিত কেউই  আজাদ রঞ্জিত গ্রুপের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস করেননি। আড়ালে আবডালে তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজাদ রঞ্জিত এজাজ বাবলাকে ইশারা না করলে জেলা আওয়ামীলীগের নেতাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওরা মধ্যযুগীয় কায়দায় দিনে দুপুরে ফিল্মি স্টাইলে কেন্দ্র দখল করে সবার সম্মুখে ভোটারদের ভোট দেয়া ব্যালট পেপার ছিড়ে ফেলে, প্রিসাইডিং অফিসারের মুখ বন্দুক টেকিয়ে নতুন ফলাফল শিট লিখিয়ে সাইন করানোর এতো সাহস পেতোনা।বিজিপি পুলিশ সব অসহায় দর্শক। তারা কাজের কাজ শুধু করেছে, আওয়ামীলীগের নেতাদের নিরাপত্তা দিয়ে বাড়ী পৌছে দিয়েছে- এতেই বুঝা যায় এটা প্রি-প্ল্যান করেই করা হয়েছে। তারা জানে, তাদেরকে কেউ কিছু করবেনা।আর  ইসির এমন কোন সাহস নেই এই দুই ইউনিয়নের দুই কেন্দ্রে যেখানে এমন ফিল্মি তান্ড তারা চালিয়েছে, নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচন দেয়ার।

 

IMG-20160323-WA0009উভয় ইউনিয়নের কোন নেতা কর্মী কেউই সাহস করে প্রকাশ্যে কোন প্রতিক্রিয়া দেখাননি। আর আজাদ রঞ্জিত এজাজ বাবলা কাউকেই কমেন্ট নেয়ার জন্য পাওয়ার সুযোগ হয়নি, কারণ পরিস্থিতি তখন উত্তপ্ত।তাদের কর্মীরা অবশ্য প্রকাশ্যে বলছেন, আজাদ ভাই, রঞ্জিতদা র নির্দেশে তারা করছেন।

আজাদ রঞ্জিতের লোকজন এখানেই থেমে থাকেনি, জেলা আওয়ামীলীগের কোন নেতা কর্মী যাতে মুখ না খুলে্ন সেজন্য হুমকী দিয়েছেন। তাই ভয়ে কেউ মুখ খুলছেননা।এমনকি নির্বাচন কমিশনের ট্র্যাইব্যুনালে গিয়ে অভিযোগও দায়ের করার সাহস পাচ্ছেননা।

সাধারণ নিরীহ জনগনের দাবী প্রধানমন্ত্রীই পারেন, কেবল এদের থামিয়ে দিতে। এই দুই ইউনিয়নের নির্বাচন বাতিল করে দিয়ে নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে। ইসির কাছে সরাসরি নালিশে কোন কাজ হবেনা। সন্ত্রাসীরা ইসিকে হুমকী দিয়ে সব আটকে দিবে। প্রধানমন্ত্রী কি এই দুই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের নিবেদিত প্রাণ ভোটারদের মনের কথা শুনবেন ? না হলে শাহজালালের পূণ্যভুমিতে এমন দুর্দন্ড প্রতাপ আর সন্ত্রাসের জবাবে অলি আওলিয়ার রওজা কথা বলবে- তখন অনেক দেরী হয়ে যাবে।তাই এখনি জনগনের ন্যায় বিচারের ব্যবস্থা করে দিতে হবে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here