প্রচ্ছদ ধর্ম অভ্যর্থনা জানাই মাহে রমজানকে

অভ্যর্থনা জানাই মাহে রমজানকে

555
0
কুলসুম রশীদ  : শাবানের চাঁদ ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে। আর ক’দিন পরই রমজানের বাঁকা চাঁদের উদয় ঘটবে। রহমত, বরকত ও মুক্তির বারতা নিয়ে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার জন্য আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হবে মাহে রমাদান। আমাদের উচিত বছরের এই সেরা মাসকে স্বাগত সম্ভাষণ জানানো। পরিবারের সদস্যদের রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে এবং সৎ আমলের প্রতি উৎসাহিত করা। ঋতুরাজ বসন্তকে সম্ভাষণ জানানোর জন্য যেমন শীত ঋতু প্রকৃতির মাঝে পুরনো পাতা ঝরিয়ে একটা সাজ সাজ আবহাওয়া সৃষ্টি করে, তেমন এই রজব ও শাবান মাসদ্বয় রমজানে প্রস্তুতির মাস হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে।
রাসূল (সা.) শাবানের বেশিরভাগ সময় রমজানের মতো রোজা, কোরআন তেলাওয়াত, সাদকা, দাওয়াত-তাবলিগ এবং ভালো কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ করার সময় ব্যয় করতে নিরুৎসাহিত করে গেছেন। মহামহিম মালিকে মওলার ভালোবাসা প্রত্যাশায় ইবাদত ও আনুগত্যে ডুবে রমজানুল মোবারককে সম্ভাষণ জানানো যায়। আমাদের আত্মশুদ্ধির জন্য ইসলামের প্রশিক্ষণগুলোর মধ্যে সিয়াম সাধনা অন্যতম। এর মাধ্যমে আমরা পাশবিক শক্তির শৃঙ্খল থেকে মুুক্তি লাভ করতে পারি। এতে রাসূল (সা.)-এর অনুসরণ করে আল্লাহ পাকের সান্নিধ্য লাভ করার একটা বড় সুযোগ থাকে। এ মাসেই নাজিল হয় মানবতার কল্যাণে শাশ্বত বিধান পবিত্র কোরআনুল কারিম।

পরিবারের সদস্যদের রমজানের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে এবং আমলের প্রতি উৎসাহিত করাতে রমজানের আগেই সংসারের ভারী কাজ আগেই সমাপ্ত করে ফেলা দরকার। যাতে ইবাদত-বন্দেগিতে কোনো শারীরিক দুর্বলতাহেতু কোনো রকমের বাধা না আসে। যেমন বাড়িতে কোনো বিশেষ মেহমানের আগমনের আগেই আমরা সব রকমের কর্ম সম্পাদন করে তার সঙ্গে পুরো সময়টা অতিবাহিত করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকি। তেমনি রমজান নামের এ পবিত্র অতিথির আগমনের আগেই পারিপার্শ্বিক পরিচ্ছন্নতাই শুধু নয়, আত্মিক পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন বেশি দরকার। অপকর্ম না করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া অর্থাৎ তওবা করার মাধ্যমে আত্মিক পরিশুদ্ধতা অর্জন করা।

এটিকে সংযমের মাস নামেও আখ্যায়িত করা হয়। এটি শুধু মুখের কথায় ধরে না রেখে অন্তরের একাত্মতা হওয়া। বছরের ১১টি মাসের চেয়ে এ মাসেই মুসলিমরা (আমাদের দেশের) আহার গ্রহণে অতিরিক্ত ব্যয় করে থাকেন। এটি কখনই কাম্য হতে পারে না। উদয় পূর্ণ হলে নফ্স হয় পুষ্ট। আর নফ্সের তাঁবেদারিতে আত্মার উন্নতি রহিত হয়ে যায়। মাত্রাতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণে শরীর বিভিন্ন রকমের লালসায় মত্ত হয়ে যায়। সব রকমের পাপ কর্মে লিপ্ত হতে সহায়তা করে। তাই স্বল্প আহার আধ্যাত্মিক উন্নতির একমাত্র সোপান। এ মাসে ইফতার পার্টি নামক এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন বিগত যুগ থেকে শুরু হয়েছে বিত্তবানদের মধ্যে। এতে করে একত্রে ইফতার করার সওয়াবের চেয়ে একটা প্রতিযোগিতা এবং বিশেষ একটা উদ্দেশ্য পূরণের আশা কাজ করে। অথচ হওয়া উচিত ছিল অসহায়দের সঙ্গে নিয়ে ইফতার করা। পার্টিতে মাত্রাতিরিক্ত ইফতার করার ফলে রমজানের অন্যান্য ইবাদত যেমন তারাবির নামাজ, কিয়ামুল লাইল, তেলাওয়াতে কালামে পাক, জিকির আসকার, আসতাগফির, দোয়া ও দরূদ পাঠে অলসতা জন্মে, ফলে হৃদয় কলুষিত হয়ে যায়।

পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম দেশের দিকে তাকালে দেখতে পাই তারা রমজানের আগে তার প্রস্তুতি নিতে থাকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়। যেমন সব জিনিসের দম কমানো, গরিব পথিকদের মাঝে ইফতার বিলানো। মসজিদে ইফতারের আয়োজনসহ একটা সাজসাজ রব শুরু হয়ে যায় সেসব দেশে। অথচ আমাদের দেশে তার উল্টোটা দেখতে পাই। ফলে নিরন্ন ব্যক্তিদের নাভিশ্বাস উঠে যায় রমজানে। এটি একটি মুসলিম দেশের কাম্য হতে পারে না। এখান থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার এবং জনগণকে একত্রে কাজ করে যেতে হবে। আসুন আমরা এসব অপকর্ম বর্জন করি। রমজানের জন্য শারীরিক, মানসিক এবং পারিপার্শ্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে মাহে রমজানকে অভ্যর্থনা জানাই।

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here