প্রচ্ছদ সফল নারী স্বপ্ন পূরণে ঝুঁকি নিতে হবে; মঙ্গলযাত্রী অ্যালিসা কারসন

স্বপ্ন পূরণে ঝুঁকি নিতে হবে; মঙ্গলযাত্রী অ্যালিসা কারসন

211
0
SHARE
সাব্বিন হাসান : বিশ্বে এখন শুধু ‘অ্যালিসা’ নামেই খ্যাত। পুরো নাম অ্যালিসা কারসন। বসবাস যুক্তরাষ্ট্রের লুজিয়ানা শহরে। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই বিশ্ব আলোচনায় এসেছেন সম্ভাব্য প্রথম মঙ্গল নভোচারী হিসেবে। তাও আবার একজন নারী হয়ে। সব পরিসংখ্যান ঠিক থাকলে আগামী ২০৩৩-৩৪ সাল নাগাদ মঙ্গলের উদ্দেশে যাত্রা করা অ্যালিসাই হবেন প্রথম ব্যক্তি। যিনি গড়বেন নতুন মানব ইতিহাস। মঙ্গলের ইতিহাস।
অ্যালিসার গল্পের শুরু ‘নিকলেডন’ নামক এক অ্যানিমেটেড কার্টুনে। এটি দেখেই মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার কঠিন স্বপ্ন দেখে বসেন ১৩ বছরের কিশোরী অ্যালিসা। সঙ্গে যুক্ত হয় বাবার প্রত্যক্ষ উৎসাহ আর প্রেরণা। অবশেষে ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ক্যাম্পে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অ্যালিসা পেয়ে যায় স্বপ্ন পূরণের পথ।

নাসার স্পেস ক্যাম্প প্রশিক্ষণের সঙ্গে নভোচারী হওয়ার অন্যান্য সব ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়েছে অ্যালিসা। নিজেকে দিয়ে অ্যালিসা প্রমাণ করেছে নভোচারী হওয়ার পথে বয়স কোনো বাধা নয়। ইচ্ছাশক্তিই আসল কথা। অদম্য সাহসী এই কিশোরী এবার প্রস্তুতি নিচ্ছে মঙ্গল গ্রহে পা রাখার। সব সমীকরণ ঠিকঠাক থাকলে অ্যালিসাই হতে যাচ্ছেন মঙ্গলের প্রথম মানব। মঙ্গলে যাওয়া প্রসঙ্গে কিশোরী অ্যালিসা জানালেন, এটি এমন একটি স্থান, যেখানে আগে কখনই কেউই যায়নি। তাই আমিই প্রথম এ পদক্ষেপ নিতে চাই।

এ প্রসঙ্গে নাসার মুখপাত্র পল ফোরম্যান জানালেন, অ্যালিসার মতো মানুষকে খুব গুরুত্বের দৃষ্টিতে বিবেচনা করছে নাসা। মঙ্গল মিশনে যাওয়ার জন্য একদিন যে ধরনের নভোচারীর প্রয়োজন হবে অ্যালিসা এখন ঠিক সেই বয়সেই আছেন। সফল একজন নভোচারী হওয়ার সঠিক পদক্ষেপ নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

অ্যালিসার বাবা ব্রেট। তিনিও মেয়ের কঠিন আগ্রহের বিষয়ে সমর্থন জুগিয়ে তাকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন। ২০৩৩ সালে তার মেয়ে মঙ্গল গ্রহে গিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে বলেও তিনি দৃঢ় আশা ব্যক্ত করেন। মেয়ের সঙ্গে মহাকাশ মিশনের সব ধরনের ঝুঁকি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন বলেও তিনি সবাইকে জানান।

মঙ্গল গ্রহের কঠিন যাত্রা নিয়ে অ্যালিসা বাবাকে বলেছেন, এ যাত্রায় ঝুঁকিই যদি স্বপ্ন পূরণ করার একমাত্র পথ হয়, তাহলে সে ঝুঁকি নিতে ও প্রস্তুত। এরই মধ্যে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার নানা প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন অ্যালিসা। যুক্তরাষ্ট্রের নাসা স্পেস ক্যাম্পে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। বর্তমান বিশ্বের মহাকাশ বিজ্ঞানে কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে শিখেছেন চীনা, ফরাসি আর স্প্যানিশ ভাষা।

কিশোরী বয়সেই নিজের এমন কঠিন স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে অ্যালিসা বলেছে, আমি অন্য কিছু হওয়ার কথাও ভেবেছি। কিন্তু নভোচারী হওয়ার লক্ষ্য ছিল সবার ওপরে। মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার মিশনে আমার সামনে বাধা হয়ে আসতে পারে এমন কোনো প্রতিবন্ধকতাই আমি রাখিনি।

এরই মধ্যে ১৩ বছরের কিশোরী অ্যালিসার মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার ঘোষণা বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থার নজর কেড়েছে। নেদারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা মার্স-ওয়ান তাকে মঙ্গলে যাওয়ার বিষয়ে প্রেজেনটেশন দেয়ার কথা জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ মার্স-ওয়ান মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠাতে আগ্রহী। তবে তারা শুধু সেখানে মানুষকে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। মঙ্গল থেকে মানুষ ফিরিয়ে আনতে আপাতত তারা কোনো সহযোগিতা করবে না।

নাসা বরাতে অনেক কর্মকর্তা বলছেন, অ্যালিসার মতো দৃঢ় চিত্তের কিশোরী বিরল। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই কঠিন সত্য মেনে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ-এর দিকে এগিয়ে যাওয়া মোটেও সহজ চিন্তা নয়। দারুন মানসিক শক্তি প্রয়োজন হয় এ ধরনের সাহসিকতা দেখানোর। সঠিক পদক্ষেপ, সঠিক ভাবনা, সঠিক প্রশিক্ষণ- এসব বৈশিষ্ট্য গুণে নভোচারী হওয়ার পথেই এগোচ্ছে অ্যালিসা।

নাসার কর্মকর্তা পল ফোরম্যান অ্যালিসার মতো কিশোরীর মধ্যে সাহসিকতা, দৃঢ়তা আর দক্ষতা দেখে মুগ্ধ। কারণ এ বয়সের কিশোর-কিশোরীরা সহসাই এ ধরনের কঠিন চ্যালেঞ্জে কোনোভাবেই আগ্রহী হয় না। কিন্তু অ্যালিসার ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা নির্দেশ করছে। মঙ্গলে গিয়ে আর ফেরা নাও হতে পারে, এমন কঠিন বাস্তবতা জেনেই অ্যালিসা মঙ্গল পথে মানব ইতিহাস গড়তে চলেছে। আসন্ন ২০৩৪ সালে মঙ্গল মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অ্যালিসা। আর বিশ্ববাসী অপেক্ষা করছেন মঙ্গল গ্রহ আবিষ্কারে অজানা হাজারো প্রশ্নের সঠিক জবাব আর তথ্য পাওয়ার জন্যে।

মহাকাশ গবেষকেরা বলছেন, পুরুষ নয়, এবার মঙ্গল গ্রহে নারীর পা-ই প্রথম পড়বে। মঙ্গল অভিযাত্রার ইতিহাসে প্রথম মানব হবেন একজন নারী। এমন খবরে পুরো বিশ্বেই হৈ চৈ পড়ে যায়। বিশ্বের কোটি কোটি সুবিধাবঞ্চিত আর পিছিয়ে থাকা বিশ্বের জন্য কিশোরী অ্যালিসা আজ হয়ে উঠেছেন দৃঢ়তার আইকন। ভাবনা আর কঠিন উদ্যোগে ইতিহাসকে হাতছানি দেয়া যায় তা প্রমাণ করল অ্যালিসা কারসন।