প্রচ্ছদ সফল নারী সমালোচনা হচ্ছে সফলতার শর্ত

সমালোচনা হচ্ছে সফলতার শর্ত

116
0
SHARE
সাব্বিন হাসান: মাইলি সাইরাস নামেই বিশ্বখ্যাতি। পুরো নাম ডেসটিনি হোপ সাইরাস। জন্ম ১৯৯২ সালের ২৩ নভেম্বর। মার্কিন কণ্ঠশিল্পী, অভিনেত্রী এবং লেখিকা- এই তিন ভুবনেই সুখ্যাতি ছড়িয়েছেন তিনি। ডিজনি চ্যানেল সিরিজের হানা মন্টানায় নাম ভূমিকায় অভিনয় থেকেই খ্যাতির ভুবনে তার পথচলা।
২০০৬ সালে তার প্রথম গানের সিডি প্রকাশিত হয়। তবে সঙ্গীতে পেশাদার গায়িকা হিসেবে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘মিট মাইলি সাইরাস’। এরপর দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ব্রেকআউট’ মুক্তি পায়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজেকে বহুমাত্রিক চরিত্রে ঢেলে গড়েছেন একের পর রেকর্ড। খ্যাতি আর অর্থ দুদিক দিয়েই মাইলি হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য, অতুলনীয়। ২০০৮ সালে বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ জনের তালিকায় নিজের সুস্পষ্ট অস্তিত্বের জানান দেন তিনি। এ ছাড়া ফোর্বস ম্যাগাজিনের ‘সেলিব্রেটি ১০০’ তালিকায় ২০০৮ সালে ২৫০ লাখ ডলার আয়ের জন্য তিনি ৩৫তম স্থান পেয়ে বসেন।

মাইলির বাবা-মা তার নাম দিয়েছিলেন ডেসটিনি হোপ। তাদের আশা ছিল সে জীবন অনেক সাফল্য পাবে। এ জন্য ডাকনাম রাখা হয় ‘মাইলি’। কারণ ছেলেবেলা থেকেই সে সব সময়ই হাসিমুখে থাকত। মাইলি শিক্ষাজীবন শুরু করেন হেরিটেজ মিডল স্কুলে। স্কুলে তিনি চিয়ারলিডার ছিলেন । এরপর অপশনস ফর ইউথ স্কুলে পড়াশোনা। তার একজন গৃহ শিক্ষক আছেন যিনি টিভি শোর সেটে এসে তাকে পড়িয়ে যান। মাইলি তার বাবা-মায়ের খামারবাড়িতে বেড়ে উঠেছেন। অর্থাৎ তার শৈশব কেটেছে ওখানেই। বয়স তখন সবে নয়। তখনই অভিনয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন মাইলি। কানাডার টরোন্টোতে অবস্থিত আর্মস্ট্র অ্যাক্টিং স্টুডিওতে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। অতিথি অভিনেতা হিসেবে কাইলি নামের এক মেয়ের চরিত্রে তার অভিনয়ের প্রথম হাতেখড়ি। জন্মের পর থেকেই ব্যয়বহুল জীবনে অভ্যস্ত মাইলি। তার মতো বিলাসবহুল জীবনযাপন করা অনেক ধনীর পক্ষেও সম্ভব নয়। সফল কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার ও অভিনেত্রী মাইলি সাইরাসের বাবা বিলি সাইরাস ছিলেন বিখ্যাত গায়ক। বিলি সাইরাস তার মেয়েকে শৈশবেই সেলিব্রেটি করে তোলেন। ডিজনি চ্যানেলে কিশোরী মাইলিকে নিয়ে তৈরি করেন বিখ্যাত মিউজিক্যাল কমেডি ‘হান্নাহ মস্তানা’।

কৈশোরেই অ্যানিমেটেড ফিল্মে কণ্ঠ দিয়ে মাইলি ‘গোল্ডেন গ্লোব’ অ্যাওয়ার্ড পেয়ে যান। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ফোর্বস ম্যাগাজিনের সেরা একশ’ সেলিব্রেটির তালিকায় ১৩ নম্বরে উঠে আসেন মাইলি। সর্বোচ্চ অ্যালবাম বিক্রিতে পপ তারকা মাইলি এখনও বিশ্বসেরাদেরই একজন। লস অ্যাঞ্জেলসে বিশাল বাগানবাড়ি, ফ্লোরিডায় প্রাসাদতুল্য বাড়ি ছাড়াও মার্সিডিস বেঞ্চ, পোরশের মতো বিখ্যাত মডেলের বেশ কটি দামি গাড়ি আছে তার। মাইলি তার নিত্যদিনের বিলাসবহুল জীবন উপভোগ করে চলেছেন। আর আয়ের খাতায় তুলছেন কোটি কোটি ডলার।

ইন্টারনেট ভিডিও চ্যানেল ইউটিউবের হিসাবে ২০১৩ সালে মাইলির মিউজিক ভিডিও সবচেয়ে বেশিবার দেখার রেকর্ড হয়। মার্কিন এ কণ্ঠশিল্পী এবং অভিনেত্রীর রেকিং বল ভিডিও সবচেয়ে বেশি দেখা হয়। মুক্তি পাওয়ার প্রথম দিনেই ১ কোটি ৯৩ লাখ বার দেখা হয় ভিডিওটি। যা ওয়ান ডাইরেকশনের ভিডিও ‘বেস্ট সং এভার’ রেকর্ড ভেঙে ফেলে। শুধু তাই নয়, সবচেয়ে বেশি দেখা ইউটিউব ভিডিওর তালিকায় দ্বিতীয় নামটিও মাইলির দখলে। এ ছাড়া তার মিউজিক ভিডিও ‘উই কান্ট স্টপ’ দেখা হয় ৩১ কোটি বার। সামাজিক বিতর্ক আর সমালোচনার জটিল সমীকরণে কখনই থেমে যায়নি মাইলি। ছোটবেলার সেই স্মাইল থেকে মাইলি হয়ে ওঠায় ভাটা পড়েনি এতটুকু। শ্রম আর মেধায় অপ্রতিরোধ্য মাইলি তাই আজ বিশ্বব্যাপী তরুণ প্রজন্মের কাছে সুপরিচিত আর তুমুুলে জনপ্রিয়। মাইলির কোনো নতুন কাজের কথা এলেই বিশ্বের কোটি কোটি লোক তা দেখার জন্য মুখিয়ে থাকে। দর্শককে বিনোদন দেয়ার জাদুকরি শিল্পে তাই মাইলি নতুন মাত্রা এনেছে। এ কথা খোদ মাইলির সমালোচকদের মুখ থেকেও শোনা যায়। তবে এত সবকিছুর পেছনে প্রতিভা প্রকাশের ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমে মাইলি কিন্তু জয়ী আর সফল। জিততে ভালোবাসেন মাইলি। আর মনকাড়া হাসি দিয়ে করেছেন বিশ্বজয়। বিলাসী জীবনে বড় হলেও মাইলি দারুণ পরিশ্রমী। যার ঘরে এত রেকর্ড আর রেকর্ড ভাঙার হাতছানি তার থেমে থাকার সুযোগ কম।

জীবনে সফলতার জন্য চেষ্টাকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখেন মাইলি। আর সমালোচনাকে উপভোগ করেন। খ্যাতির শীর্ষে উঠতে গেলে এমন সমালোচনাকে স্বাগত জানান মাইলি। কারণ মাইলি বিশ্বাস করেন বাধা তখনই আসে যখন এগিয়ে যাওয়ার প্রবল চেষ্টা সফলতার আভাস দিতে থাকে। ব্যক্তি আর পেশা জীবনকে ভিন্ন আঙ্গিনায় রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্য ভাবেন তিনি। নিজের জীবন আর পেশার মাঝে তাই সুনির্দিষ্ট দুরত্ব থেকে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তরুণ প্রজন্মকে।

কৃতজ্ঞতায়:যুগান্তর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here