প্রচ্ছদ সফল নারী সফল হতে শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত

সফল হতে শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত

88
0
SHARE
সাব্বিন হাসান : বিশ্ব খ্যাতি স্কারলেট নামে। পুরো নাম স্কারলেট জোহাসনস। জন্ম ২২ নভেম্বর, ১৯৮৪। মূল পরিচিতি হলিউড অভিনেত্রী। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনে একেবারে সামনের কাতারে থেকে এসেছেন নতুন আলোচনায়। ২০১৬ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের জরিপে শীর্ষ আয়ের তারকা নির্বাচিত হয়েছেন এ অভিনেত্রী। নারী ও পুরুষ অভিনয়শিল্পীদের সম্মিলিত আয়ের নিরিখে করা এ তালিকার প্রথমেই উঠে এসেছেন স্কারলেট। এ অর্থে ২০১৬ সাল স্কারলেটের জন্য সৌভাগ্যজনক। ক্যারিয়ারে তুঙ্গে থেকে ১২০ কোটি মার্কিন ডলার ঘরে তুলে বনে যান বছরের শীর্ষ আয়ের তারকা।
হলিউড অভিনেত্রী স্কারলেট ‘আয়রনম্যান-টু’ ছবিতে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তুমুল খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি একাধারে একজন অভিনেত্রী, মডেল এবং কণ্ঠশিল্পী। সবদিক থেকেই জনপ্রিয় বলতে যা বোঝায় তাই স্কারলেট।

মিষ্টি হাসি, লাবণ্যদীপ্ত চেহারা, মায়াবী চোখের জন্য তিনি বিশ্বের কোটি কোটি তরুণের হৃদয় জয় করেছেন আগে থেকেই। আর কাজের পারিশ্রমিকেও ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। বিখ্যাত ‘অ্যাভেঞ্জারস’ ছবির সিক্যুয়ালে অভিনয়ের জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড পারিশ্রমিকে চুক্তি করেছেন। এই পারিশ্রমিক নিয়ে স্কারলেট সর্বকালের সেরা সম্মানীর রেকর্ড গড়েছেন।

‘মারভেলস দ্য অ্যাভেঞ্জারস’ খ্যাত অভিনেত্রী স্কারলেট ১৯৮৪ সালে নিউইয়র্ক সিটির সাধারণ এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। চার ভাইবোনের সবার ছোট স্কারলেট মূলত মায়ের আগ্রহেই রুপালি পর্দায় সামনে আসেন। সেই ছোটবেলায় তিনি মায়ের হাত ধরে বিভিন্ন অডিশনে অংশ নিতেন। মাত্র ৯ বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে ‘ফ্যান্টাসি কমেডি মুভি নর্থে’ অভিনয়ে সুযোগ পান। এরপর একে একে অভিনয় করেন ‘জাস্ট কজ’ (১৯৯৫), ‘ইফ লাকি ফেল ইন’ (১৯৯৬), ‘ম্যানি অ্যান্ড লো’ (১৯৯৬) ছবিগুলোতে।

‘ম্যানি অ্যান্ড লো’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্পিরিট অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট লিড ফিমেল’ হিসেবে মনোনয়ন পান। এরপর ১৯৯৭ সালে ‘ফল’ এবং ‘হোম অ্যালোন-থ্রি’ ছবিতে অভিনয় করেন। তবে ‘দ্য হর্স হুইসপার’ (১৯৯৮) ছবিতে সফল অভিনয় করে তিনি সমালোচকদের নজর কাড়েন। এই ছবি তাকে ‘শিকাগো ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড ফর মোস্ট প্রমিজিং অ্যাকট্রেস’ পুরস্কার এনে দেয়। ২০০২ সালে তিনি অভিনয়ের সঙ্গে ম্যানহাটনের প্রফেশনাল চিলড্রেনস স্কুল থেকে নাট্যকলার ওপর স্নাতক ডিগ্রি করেন। ২০০৩ সালে ‘সেফিয়া কাপেলোর লস্ট ইন ট্রান্সলেশন’ ছবির মাধ্যমে তিনি বাফটা এবং গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডে মনোনীত হন। ২০১০ সালে তার অভিনীত ‘আয়রন ম্যান-টু’ বক্স অফিসে ঝড় তোলে। একই সঙ্গে এটি বছরের সেরা ব্যবসা সফল ছবি বিবেচিত হয়। চলতি বছরও তার অভিনীত ‘মারভেলস দ্য অ্যাভেঞ্জারস’ সর্বকালের সেরা ব্যবসা সফল ছবির তালিকায় এসে গেছে। ব্যক্তি জীবনে ২০০৮ সালে স্কারলেট কানাডিয়ান অভিনেতা রায়ান রেনল্ডকে বিয়ে করেন। তাদের একমাত্র মেয়ে রোজ। তবে ২০১১ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। স্কারলেট সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘অক্সফামে’র গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বিশ্বব্যাপী কাজ করছেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে স্কারলেটের সঙ্গীতজীবন শুরু হয়। তার প্রথম অ্যালবামের শিরোনাম ‘সামার টাইম’। এরপর তিনি বেশকিছু অ্যালবাম প্রকাশ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘আন এক্সপেক্টেড ড্রিম’, ‘দ্য জিসাস অ্যান্ড ম্যারি চেইন’, ‘অ্যারি হোয়ার আই লে মাই হেড।’ শুধু গান বা অভিনয়ে নন, মডেলিংয়েও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন স্কারলেট। তিনি বহুবার জনপ্রিয় মার্কিন ম্যাগাজিনগুলোর প্রচ্ছদ কন্যা হয়েছেন। বর্তমানে মার্কিন রাজনীতিতে অংশ নেয়াকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন স্কারলেট। ৩২ বছর বয়সী অভিনেত্রী স্কারলেট জানিয়েছেন মেয়ে একটু বড় হলেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন। ট্রাম্পবিরোধী র‌্যালিতে অংশ নিয়ে স্কারলেট বলেছিলেন, আমি যে কোনো বিষয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে চাই। প্রতিবাদের ইস্যুতে আমি জেলে যাওয়াকে সমুচিত মনে করি না। এজন্য যদি নির্বাচনে অংশ নিতে হয় তাও বিবেচনা করব। জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য নির্বাচনে অংশ নেয়াকে আমি একটি বড় সুযোগ বলে মনে করি। যদি আগে থেকে পরিকল্পনা থাকে তাহলে এই ক্ষেত্রে সাফল্য আরও কার্যকর হতে পারে।

নিজের ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, এখন আমি আমার একটি ছোট সংস্করণের পিছে ছুটছি। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে বেশ কয়েকবার গিয়েছি। বৈশ্বিক রাজনীতি কিভাবে কাজ করে তা দেখেছি। একটি ছোট কক্ষে নেয়া সিদ্ধান্ত কিভাবে বিশ্বকে প্রভাবিত করে তা আমি জানি। আমি যে জগতকে চিনি তা থেকে এই জগৎ খুব বেশি আলাদা নয়। নিজেকে শারীরিকভাবে ধরে রাখার জন্য তিনি পরিমিত খাদ্যগ্রহণ ও অবিশ্রান্ত ঘাম ঝরান। তাই কাজ আর চ্যালেঞ্জ নিতে পিছপা হন না স্কারলেট।

জীবনে সফল হতে তিনি তরুণদের পরিশ্রমের কথা বলেছেন। জীবন থাকলে সমালোচনা থাকবেই। কিন্তু কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত সফলতা এসব বাধাকে দমিয়ে দেবে। প্রতিবাদের ভাষা সহিংস নয়, বরং শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত। লক্ষ্য অর্জনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে হবে। তাহলে হতাশা খুব বেশি প্রভাবিত করতে পারবে না। আর নারীদের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা নিয়ে কঠোর পরিশ্রম ছাড়া জীবনে সফল হওয়ার কোনো বিকল্পই নেই বলে মনে করেন স্কারলেট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here