প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক মুসলিম নারীদের অবিশ্বাস্য কীর্তি

মুসলিম নারীদের অবিশ্বাস্য কীর্তি

297
0
SHARE
নারী ডেক্স: গত ১৫ বছরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম নারী কাজে যোগ দিয়েছেন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের রিপোর্টে এ তথ্য পাওয়া গেছে। মুসলিম নারীরা কিভাবে একটি নীরব বিপ্লবে যুক্ত হয়েছেন সে কথা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের জেনেভার নির্বাহী কমিটির সদস্য সাদিয়া জাহিদিও এক বইতে উল্লেখ করেছেন। ২০০০ সালে যেখানে ১০ কোটি নারী বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিল, ১৫ বছরে সেই সংখ্যাটি ৫০ শতাংশের চেয়ে বেশি বেড়ে ১৫ কোটি ৫০ লাখে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাদিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপিয়ান দেশগুলোর তুলনায় মুসলিম বিশ্বেই নারীরা বেশি কর্মে যুক্ত হচ্ছেন। তারা এখন পর্যন্ত অব্যবহৃত অর্থনৈতিক সুবিধা এবং বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তি প্রসারের বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া মধ্যবিত্ত শ্রেণির ঐতিহ্য এড়িয়ে গিয়ে তারা দ্বৈত আয়ের দিকে ঝুঁকছেন। এ অবস্থায় স্থানীয় ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বুঝতে পেরেছে, নারী কর্মীরা একটি মার্কেটের চেয়েও বেশি কিছু। ফলে তারা এখন নারী কর্মী নিয়োগে ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করছে।
নারীকর্মীর দেশের দরকার নেই
এই মার্কেটটি একটি প্রবহমান মার্কেট হিসেবে পরিচিত। ইন্দোনেশিয়ার লেডিজেক শুধু নারীদের কাছে মোটরসাইকেল বিক্রয় করে। মিসরের মাম ফুড অফিসকর্মীদের কাছে নারীদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করে। সৌদি আরবের কারিম নারী-চালকদের প্রশিক্ষণ দেয়। মিসরের সামিরা নেগম যানজট ও পরিবহন নিরাপত্তার ব্যাপারে কাজ করে। পাকিস্তানের ডক্টহার প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা উপযুক্ত ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের কাজে যুক্ত করে। মুসলিম নারীদের আয়ের এ পরিমাণটি প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। তাছাড়া নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে যে বিনিয়োগ ছিল তা থেকে ইতোমধ্যে লাভ করা শুরু হয়েছে। মুসলিম দেশগুলো যদি তাদের কর্মক্ষেত্রে নারী পুরুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে তাহলে তাদের জাতীয় আয় ৫.৭ ট্রিলিয়ন বেড়ে যেতে পারে। ম্যাককিনসের বরাত দিয়ে বলা হয়, যদি সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের নারীদের পুরোপুরি কাজে নিয়োগ করে তাহলে ২০২৫ সাল নাগাদ তাদের জিডিপি ৪৭ শতাংশ বেড়ে যাবে।
শিক্ষায়ও নারীরা এগুচ্ছে
বিভিন্ন দেশে নারীরা এমনিতেই শিক্ষায় পুরুষদের চেয়ে এগিয়ে আছে। ইন্দোনেশিয়ায় ১৯৭০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের হার ছিল ২ শতাংশ। এখন সেখানে এ হার ৩৩ শতাংশ। একই সময়ে পুরুষদের হার ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সৌদি আরবে ১০ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের হার ছিল ৩০ শতাংশ, এখন যা ৫০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এ হার মেক্সিকো, চীন, ব্রাজিল ও ভারতের চেয়ে অনেক বেশি।
অন্য দিকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের মতো কোর্সগুলোতে যেখানে সারা বিশ্বেই নারী শিক্ষার্থীর হার কম সেখানে ব্রুনেই ও কুয়েতে এ সংখ্যাটি অনেক বেশি। অন্য যেসব দেশে এসব বিষয়ে ৪০ শতাংশের বেশি নারী শিক্ষার্থী রয়েছে, সেখানে অর্ধেকের বেশি দেশ মুসলিম দেশ। এ মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে তিউনিসিয়া, কাতার, আলজেরিয়া, ওমান, মালয়েশিয়া, জর্ডান, বাহরাইন, আজারবাইজান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি আরবে এসব বিষয়ে রয়েছে নারী শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৮ শতাংশ, ইরানে ৩৪ শতাংশ, যেখানে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এ সংখ্যাটি যথাক্রমে ৩৬ ও ৩০ শতাংশ।
সাদিয়া জাহিদি তার রিপোর্টের শেষপর্যায়ে বলেছেন, মুসলিম নারীদের কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতির বিষয়টি পুরো বিশ্বেই অনুভূত হবে। এতে তাদের দেশের সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা আসবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতেও গতির সঞ্চার হবে।
সূত্র : রয়টার্স