প্রচ্ছদ বাংলাদেশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- কায়সার কেন রাজাকার নয়, মন্ত্রী এনামুল স্বীকার করে গেছেন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- কায়সার কেন রাজাকার নয়, মন্ত্রী এনামুল স্বীকার করে গেছেন

904
0
SHARE

নূর এ এলাহী

হবিগঞ্জের মন্ত্রী এনামুল শহীদ তখন ভীষণ অসুস্থ্য। মৃত্যুর কিছু আগে সাক্ষাত। ব্যক্তিগত জীবনে মন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই বিনম্র এই মানুষটি আমাকে ভীষণ পছন্দ করতেন। যখনই সময় পেতেন সুখ দুঃখের কাহিনী বলতেন। শেখ হাসিনার সরকার গঠণের আগে কেমন করে এবারের মন্ত্রী সভায় স্থান করে নেয়া- সেই শলা পরামর্শও করেছিলেন। বলেছিলাম জিল্লুর রহমান চাচাকে অনুনয় করে বলে দেখেন। শেখ হাসিনা জিল্লুর চাচার অনুরোধ উপেক্ষা করবেননা। যেমন কথা তেমন কাজ, এনামুল তখন পাশ করার সাথে সাথেই সরাসরি ঢাকায় গিয়ে জিল্লুর রহমানের বাসায় হাজির।এক প্রবীন আরেক প্রবীনকে মায়া করেন, খুশ গল্প করেন স্বভাবজাত ভঙ্গিতে।সরকার গঠণের প্রাক্কালে শেখ হাসিনা যখন প্রয়াত জিল্লুর চাচার সাথে দেখা করে ফিরে আসছিলেন, তখন জিল্লুর চাচা বললেন, এক বুড়া জীবনে কিছুই পায়নি, শেষ বয়সে এসে একটু নজর দেয়ার অনুরোধ করেছে। কার কথা বলতেই শেখ হাসিনা বললেন, ও এনামুল শহীদ- উনিতো বাবার সাথেও রাজনীতি করেছেন। সেই থেকে এনামুল শহীদের ভাগ্য খুলে যায়।যে কারণে এনামুল শহীদ আমাকে আরো বেশী পছন্দ করতেন।মন্ত্রী হয়েই নিজের প্রতিপক্ষ হিসেবে যাকে দেখলেন- তিনি আর কেউ নন, সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার ও পরিবার।

কায়সারকে তখনকার সময়ে নির্বাচনে অভাবনীয় ফলাফলে (বিএনপির প্রার্থী কবিরকে বিপুল ভোটে হারিয়ে জয়ী হওয়ায়) জিয়াউর রহমান ডেকে নিয়ে দলে ভিড়িয়েছিলেন।সেই থেকে স্থানীয় নেতা কবিরও ছিলেন কায়সারের উপর নাখোশ।

এই দুই নাখোশ আর এনামুলের ছেলেকে নিজের উত্তরসূরী করতে বাধা অপসারণের জন্য মরহুম এনামুল শহীদ নিজেই প্রসিকিউশনকে বাধ্য করেছিলেন স্বাক্ষী রেডি করে এমনকি তথ্য প্রমাণ বানিয়ে দিবেন- তবুও কায়সারকে যেন রাজাকার যুদ্ধাপরাধী বানানো হয়। মৃত্যুর আগে এনামুল নিজে সেটা স্বীকার করে আক্ষেপ না করে খেদোক্তি করলেন এই বলে যে, কায়সারকে এমনকরে ফাঁসালাম, যেখান থেকে তাকে বের করে নিয়ে আসার আর কোন রাস্তা নেই, আফসোস ছেলেকে নমিনেশন দেয়া সম্ভব হয়নি। তার আগেই হাসিনা আরো একজন(বর্তমান এমপি )কে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছেন। আমারও যে বয়স, এমন অবস্থায় কায়সারকে ন্যায় বিচার পাওয়ার কোন পথও খোলা রাখিনি।বড় অন্যায় হয়ে গেছে এলাহী।আমি বললাম, শহীদ ভাই, যাই করেন, এতো বড় অন্যায় থেকে মুক্তির জন্য অন্তত নেত্রীর কাছে সব খুলে বলুন। এনামুল মন্ত্রীত্বের লোভে আর রাজাকারের ম্যাকিয়াভ্যালির ধোয়া গায়ে লাগবে- সেই ভয়ে নেত্রীর কাছে খুলে বলেননি কিছুই। অথচ যে কারণে এনামুল শহীদ কায়সারের সাথে এতো অন্যায় করলেন, নিজেও দেখে যেতে পারলেননা এর শেষ কি হতে চলেছে, আর পার্থিব জীবনে ছেলেকেও হবিগঞ্জের নিজের আসনে নিশ্চিত করে যেতে পারেননি।আপাতত এনামুলের দুই মিশনই কায়সারের নিয়তির আগেই ফায়সালা হয়ে গেলো।দুঃখ সেখানেই।

কায়সার ফ্যামিলির বড় ছেলে তানভীর স্থানীয় আওয়ামীলীগের একনিষ্ট নেতা। ছাত্রজীবনে সে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতো। এখন করে আওয়ামীলীগ। কায়সারের ছোট ভাই ফায়সাল করেন বিএনপি।বিগত নির্বাচনে হবিগঞ্জের এই আসনে তানভীর ছিলো শক্ত প্রার্থী। বয়সের কারণে শেখ হাসিনা নিজে তানভীরকে ডেকে বয়োজ্যেষ্ঠ এনামুল শহীদকে এবার সুযোগ দেয়ার আহবান জানালে তানভীর নেত্রীর নির্দেশে এনামুল শহীদের পেছনে কাজ করেন।অথচ এনামুল নির্বাচনে জয়ী হয়ে এবং মন্ত্রীত্ব পেয়েই তানভীর ও কায়সারকে জব্দ করার জন্য সকল ফন্দি ফিকির করেন। মৃত্যু পথ যাত্রী মানুষ সাধারণতঃ মিথ্যা বলেননা। আমি বিশ্বাস করি এনামুল শহীদও মিথ্যে তথ্য দেননি। অকপটে একজনের কাছে হলেও স্বীকার করে গেছেন।

২৫০ জন হত্যা, একজনও স্বাক্ষী জীবিত না থাকা ইত্যাদি বিষয়ে কথা তুললে ঠোটের ফাকে এনামুল চিরাচরিত ভঙ্গিতে হাসলেন। বুঝে গেলাম- প্রসিকিউশনকে সেজন্যেই তিনি বলেছিলেন, কিছুই পাওনি, তাতে কি, সব ব্যবস্থা করে দেবো। কিন্তু কায়সারকে ছাড়া যাবেনা।

আদালতের জিজ্ঞাসা বা সওয়াল জবাব বা কার্যক্রম নিয়ে এখানে কোন বক্তব্য আনছিনা। বরং আজকে প্রচলিত হয়ে গেছে যে ঘটনা- সেই ঘটনার পেছনে যে সত্য ঘটনা রয়েছে, সেটাই শুধু সামনে নিয়ে এলাম।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কায়সার যদি যুদ্ধাপরাধী হয়- চরম শাস্তি দিন।কোন আফসোস নেই। আর যদি সে যুদ্ধাপরাধী না হয়ে থাকে, যদি সাজানো হয়ে থাকে, তাহলে আপনি প্রসিকিউশনকে ডেকে অথবা আপনার নিজস্ব চ্যানেলে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করুন- ন্যায় বিচারের স্বার্থে অন্ততঃ সেটাই করুন।

ফেস বুক থেকে- মতামতের জন্য নারী সম্পাদকীয়ের কোন দায় দায়িত্ব নেই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here