প্রচ্ছদ নারী সংবাদ নয় নারী ও একজন তৃতীয় লিঙ্গের অধিকারকর্মীকে ‘অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা ২০১৭’ প্রদান

নয় নারী ও একজন তৃতীয় লিঙ্গের অধিকারকর্মীকে ‘অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা ২০১৭’ প্রদান

57
0
SHARE
ছবি:ইত্তেফাক
নারী ডেক্স, ঢাকা: ‘অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা ২০১৭’ প্রদান অনুষ্ঠান আজ শনিবার বিকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্টিত হয়েছে। নিজ নিজ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য সমাজের উচ্চপর্যায় থেকে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত ৯ নারী ও একজন তৃতীয় লিঙ্গের অধিকারকর্মীকে এবার অনন্যা শীর্ষদশ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।
দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা  হোসেনের সঞ্চালনায় এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ফারজানা ইসলাম ও সম্মানিত অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। সভাপতিত্ব করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মণি।
এবারের সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন: শিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ড. মোছাম্মাত্ নাজমানারা খানুম, নারী উদ্যোক্তা ফারজানা চৌধুরী, সাংবাদিকতায় নবনীতা চৌধুরী, গ্রামীণ নারীর স্বনির্ভরতায় অটোরিক্সা চালক স্বপ্না রাণী, তৃতীয় লিঙ্গের অধিকারকর্মী নাদিরা খানম, ক্রীড়া সংগঠক মাহফুজা আক্তার কিরণ, সমাজসেবায় নাজিয়া জাবীন, সংগীতে শারমিন সুলতানা সুমি ও খেলাধুলায় মারিয়া মান্ডা।
অনুষ্ঠানে ডা. দিপু মণি বলেন, যে সকল নারী ‘যুদ্ধ’ জয় করে আজ এগিয়ে এসে সমাজে ভূমিকা রাখছে, তাদের সকলের পেছনে একটি গল্প আছে। এই গল্প অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সামনে এনে তাসমিমা হোসেন সমাজে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন।
ভিসি ফারজানা ইসলাম বলেন, শহরে নারীকে সহযোগিতা করার জন্য স্বামী, বাবা, ভাইয়ের হাত এগিয়ে এলেও এখনও প্রান্তিক পর্যায়ে নারীর পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করার মতো কেউ নেই। সম্পূর্ণ প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে গ্রামীণ নারীদের এগিয়ে নিতে সরকারসহ সমাজের সকল পর্যায় থেকে সহযোগিতার আহবান জানান তিনি।
সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের প্রথম নারী ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, আজও রাষ্ট্র নারীবান্ধব হয়নি। সময়ের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে যে নারীরা অবদান রেখে চলেছেন তাদের এই সম্মাননা প্রদানের জন্য তিনি আয়োজকদের সাধুবাদ জানান।
জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে নৃত্যশিল্পী শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করে ‘নৃত্যনন্দন’। সঙ্গীত পরিবেশন করেন ২০১৫ সালের অনন্যা শীর্ষদশ বিজয়ী শিল্পী অণিমা মুক্তি গোমেজ।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সাল থেকে অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিবছর সমাজে বিশেষ ভূমিকা রাখার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ১০ বিশিষ্ট নারীকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। এ যাবত ২৫০ জন অনন্যা নির্বাচিত হয়েছেন। সম্মাননা হিসেবে তাদের একটি সম্মাননা স্মারক, সনদ ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রাপ্ত প্রত্যেক নারীর অবদান নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

ছবি:ইত্তেফাক