প্রচ্ছদ সাক্ষাৎকার ‘নিষাদকে বলছি তারেকের গল্প’

‘নিষাদকে বলছি তারেকের গল্প’

493
0
SHARE

অনলাইন ডেস্ক:  ২০১১ সালে এই দিনে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান চলচ্চিত্রনির্মাতা তারেক মাসুদ। স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ ছিলেন তাঁর সব নির্মাণের সঙ্গী। তারেক মাসুদের প্রয়াণের পঞ্চম বার্ষিকীতে ক্যাথরিন মাসুদ কথা বললেন নিজেকে নিয়ে, সন্তানকে নিয়ে, তারেক মাসুদের অসমাপ্ত কাজ নিয়ে। ই-মেইলে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন রাসেল মাহ্‌মুদ


পাঁচ বছর হয়ে গেল। প্রতিদিনের জীবনযাপনে কীভাবে অনুভব করেন তারেক মাসুদকে?
ক্যাথরিন মাসুদ: সব সময় নিজের ভেতরে তাঁর অস্তিত্ব অনুভব করি। কখনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হলে বা কোনো বড় কাজের পরিকল্পনা করতে গেলে মনে হয় আমি তাঁর সঙ্গে আলাপ করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমার চিন্তাশক্তি আগের থেকে অনেক বেড়ে গেছে, যা আগে এমন ছিল না। আমি এখন জীবনের কঠিন সব সিদ্ধান্ত সহজভাবে নিতে পারি। সম্ভবত তারেককে হারানোর পর আমার ভেতরের সংবেদনশীলতা আরও তীব্র হয়েছে। একজন মানুষ যখন দৃষ্টি হারায়, তখন অন্য ইন্দ্রিয়গুলো বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে—ব্যাপারটা অনেকটা সে রকম।
 
তারেক মাসুদ যখন মারা যান, আপনাদের ছেলে নিষাদ বিংহামপুত্রা মাসুদের বয়স ১৩ কি ১৪ মাস। বাবাকে সে কীভাবে জানছে?
ক্যাথরিন মাসুদ: আমার ছেলে নিষাদের যখন মাত্র দুই বছর বয়স, তখন তার বাবাকে নিয়ে আমি একটা বই তৈরি করে দিই। ইয়োর বাবা নামের ওই বইটায় ছিল ছোটদের বইয়ের মতোই ছবি ও ছোট ছোট লেখা। ছিল তার বাবার গল্প, তিনি কী করতেন, কীভাবে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হলো, কীভাবে তিনি মারা গেলেন এবং কীভাবে বাবার আদর সব সময় নিষাদের সঙ্গেই আছে। বইটি আমি তার জন্য বানিয়েছি, যাতে অন্যদের থেকে না শুনে বরং নিজের বাবাকে সে নিজেই আবিষ্কার করতে পারে। এখন নিষাদ বড় হয়েছে, নিজে নিজে অনেক প্রশ্ন করছে। আমি তাকে বাবার গল্পগুলো বলছি। তার সঙ্গে তার বাবার সরাসরি কোনো স্মৃতি নেই। তারপরও ছেলের জীবনে যেন বাবার উপস্থিতি সজীব হয়ে থাকে, সে জন্য তাঁর জীবন ও কাজ সম্পর্কে নিষাদকে জানাচ্ছি।
তারেক মাসুদের অসমাপ্ত কাজগুলো কোন পর্যায়ে?
ক্যাথরিন মাসুদ: তারেক যা রেখে গেছেন, সেগুলো যেন ঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়, যথাযোগ্য সম্মান পায়, সে জন্য ২০১২ সালে ‘তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ গঠন করেছি। তারেকের অনেক স্বপ্ন ছিল। সেসব স্বপ্ন পূরণ করতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি। চলচ্চিত্র, প্রকাশনা, স্মৃতিস্থাপনা—এমন অনেক কাজ করার পরও অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে। এর মধ্যে আছে আমাদের স্বপ্নের চলচ্চিত্র কাগজের ফুলযেটির লোকেশন দেখতে গিয়ে তারেক দুর্ঘটনায় মারা যান।
তারেক মাসুদের নামে পুরস্কার পাওয়া তরুণ নির্মাতারা কেমন করছেন?
ক্যাথরিন মাসুদ: তারেকের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের একটি হচ্ছে তরুণদের কাছে পৌঁছানো ও সৃষ্টিশীল ছবি বানাতে তাঁদের অনুপ্রাণিত করা। এ জন্য ট্রাস্ট কয়েক বছর ধরে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। সবচেয়ে ভালো ছবির জন্য দেওয়া হচ্ছে তারেক মাসুদ তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা পুরস্কার। নির্বাচিত সেরা ছবিগুলোকে আমরা বিভিন্ন উৎসবে পাঠাতে চেষ্টা করছি। পুরস্কারের পঞ্চম বর্ষে সেরা ছবিগুলো নিয়ে ডিভিডি প্রকাশের পরিকল্পনা আছে আমাদের। আমরা গর্বিত যে এভাবে আমরা কিছু মেধাবী তরুণ নির্মাতাকে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। এখানে একটা ব্যাপার বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, এই অঞ্চলে তথ্যচিত্রের অন্যতম বৃহৎ উৎসব ‘ফিল্ম সাউথ এশিয়া’য় তারেক মাসুদ তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন জায়গা করে নিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য অনেক গৌরবের।
সূত্র- প্রথম আলো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here