প্রচ্ছদ বাংলাদেশ নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘উই আর স্টুডেন্ট, নট টেরোরিস্ট’—

নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘উই আর স্টুডেন্ট, নট টেরোরিস্ট’—

245
0
SHARE

ঢাকার বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে **প্রতিটি গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা করছে শিক্ষার্থীরা **স্কুল বন্ধ, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাজপথে **মিরপুরে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা **সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে সার্জেন্টের বাইকে আগুন **পুলিশের গাড়িতে লাইসেন্স রাখার নির্দেশ **শুটিং ফেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিল্পীদের সংহতি


‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘উই আর স্টুডেন্ট, নট টেরোরিস্ট’— এরকম বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড আর কাগজ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দিনভর রাজপথে ছিল হাজারো শিক্ষার্থী। আগেই সারাদেশের স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তারপরও কোন শিক্ষার্থীকেই ঘরে আটকে রাখা যায়নি। স্বত:স্ফুর্তভাবে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর প্রতিটি রাস্তায় নেমে আসে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী বৃষ্টির মধ্যে রাজপথে বসে মিছিল শ্লোগান দিতে থাকে। পাশাপাশি রাস্তায় চলাচল করা প্রতিটি গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করে তবেই ছেড়েছে। যেসব গাড়ি বা চালকের বৈধ কাগজপত্র ছিল না তাদের পুলিশ সার্জেন্টের কাছে নিয়ে মামলা দিতে বাধ্য করেছে এই শিক্ষার্থীরা। তারা সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে।
তবে গতকাল কোন সহিংসতা ছিল না। শুধুমাত্র সায়েন্স ল্যাবটেররি মোড়ে ছাত্রদের সঙ্গে এক সার্জেন্টের তর্কাতর্কির জেরে তার মটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিল ঘুষিতে আহত হয়েছেন ওই সার্জেন্ট। অপরদিকে মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে লাঠি হাতে কিছু যুবক ছাত্রদের নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে। স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। অনেক এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও স্কুল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজপথে বসে ছিলেন। ছিলেন বহু অভিভাবকও। তারা কোমলমতি এসব শিক্ষার্থীকে খাবার-পানি কিনে দিয়েছেন। সাধারণ মানুষও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে বলেছেন, এদের দাবি যৌক্তিক।
গত কয়েকদিনের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সরকার দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গতকাল বৃহস্পতিবার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। স্কুল বন্ধ থাকলেও গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর অন্তত ২৫টি পয়েন্টে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করছে। ফলে গত তিন দিনের মতই গতকাল ঢাকার বিভিন্ন সড়কে পাবলিক পরিবহন রাস্তায় নামাননি মালিকরা। বিআরটিসির কিছু বাস চলাচল করেছে। প্রাইভেট যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করলেও পরিমানে ছিল কিছুটা কম। পায়ে হেঁটে চলা মানুষও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে গেছেন। অনেকেই রাজপথে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেশ কিছু সময় কাটান, সমর্থন দেন।
জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় গত ২৯ জুলাই কুর্মিটোলায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর থেকেই শিক্ষার্থীদের এ বিক্ষোভ চলছে। গত দুই দিনে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে অনান্য শহরেও। গতকাল রাজধানীর বাইরে বহু এলাকায় সড়কে নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগ জায়গায় দুর পাল্লার বাসও চলাচল করেনি। বিক্ষোভে গেলে টিসি দিয়ে দেওয়া হবে- স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এমন এসএমএস পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক। এসব হুমকি আমলে না নিয়েই সকাল ১০টার পর থেকে বিভিন্ন এলাকার ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নামতে থাকে।
রাজধানীর উত্তরা, মহাখালী, মগবাজার, শাহবাগ, রামপুরা, ফার্মগেইট, মানিক মিয়া এভিনিউ, আসাদগেইট, ধানমন্ডি, মিরপুর রোড, খিলগাঁও, মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা আগের দিনের মতই মিছিল করেছে এবং গাড়ি থামিয়ে চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করছে। পুলিশের ভূমিকায় তাদের এই পরীক্ষা থেকে পুলিশের গাড়িও ছাড় পায়নি। সরকারের উর্ধ্বতন ব্যক্তিদের গাড়ির কাগজও তারা পরীক্ষা করেন। সাত রাস্তার দিক থেকে সচিবালয়ে যাওয়ার সময় মগবাজারে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে পড়ে সরকারি একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়ি। তিনি বেরিয়ে এসে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়গুলো তিনি মন্ত্রিসভায় তুলবেন। তখন হাততালি দিয়ে তাকে যেতে দেয় শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশের পরনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইউনিফর্ম দেখা গেছে। তবে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় অনেকে সাধারণ পোশাকেও এসেছিল। পুলিশের গাড়ি আটকানোর চেষ্টার সময় কারও কারও মুখে কাপড় পেঁচিয়ে রাখতেও দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীদের হাতে দেখা গেছে- ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘উই আর স্টুডেন্ট, নট টেরোরিস্ট’— এরকম বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ও টুকরো কাগজ। রাস্তায় গোল হয়ে বসে সুরে সুরে স্লোগান দিতেও দেখা যায় কাউকে কাউকে। তাদের অনেকে পোশাক ঘামে-বৃষ্টিতে ভিজে একাকার। এদিকে ভ্রুপক্ষেপ নেই, মুুখে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার প্রত্যয়।
সকালে টঙ্গী কলেজগেট এলাকায় ময়মনসিংহ রুটের দু’টি বাস ভাঙচুরের শিকার হয়। মাইলস্টোন কলেজ, উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রমিজউদ্দিন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পড়া শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ের মধ্যে উত্তরা এলাকার রাস্তার দখল নেয়। উত্তরার জসিমউদ্দিন মোড়ে একটি পিক-আপ ভ্যান ভাংচুরের শিকার হলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে খিলক্ষেত আর ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের সামনের রাস্তাও ছিল শিক্ষার্থীদের দখলে। পুরো এলাকা চলে যায় শিক্ষার্থীদের দখলে। কুড়িল বিশ্বরোড, খিলক্ষেত দিয়ে বহু মানুষ তখন হালকা বৃষ্টির মধ্যে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিলেন।
শাহবাগে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করে সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকেই। হাতে হাত বেঁধে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ধীরে ধীরে ছাতা হাতে জমায়েত বাড়তে থাকে। চলতে থাকে স্লোগান। মুন্সী আবদুর রউফ রাইফেলস কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ, নটরডেম কলেজ, ক্যামব্রিয়ান কলেজের পোশাক পরা শিক্ষার্থীদের দেখা যায় শাগবাগে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাইক নিয়ে আসে আন্দোলনকারীরা। সেখানে ঘোষণা দেওয়া হয়— ‘আমরা সিঙ্গেল লাইনে গাড়িগুলো ছাড়ব। গাড়ির লাইসেন্স থাকলে তারপর যেতে দেব।’ ওই সময় শাহাবাগ দিয়ে যাওয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স যারা দেয় তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ঢাকা শহরের সকল যানবাহন হবে পাবলিক। সরকার পরিচালনা করবে সেগুলো। এই আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে।’
ইমপেরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা বেলা সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করতে শুরু করলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মেরুল বাড্ডা  থেকেই যানবাহন ঘুরিয়ে দেয় পুলিশ। খিলগাঁও রেলগেইট থেকে মালিবাগ রেলগেইট পর্যন্ত বাস আটকাতে দেখা যায় খিলগাঁও ন্যাশনাল আইডিয়াল, খিলগাঁও গভার্মমেন্ট বয়েজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের মালিবাগ মোড় থেকে শান্তিনগর মোড় পর্যন্ত জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায় বেলা ১১টার দিকে। ফলে কাকরাইল থেকে শান্তিনগর হয়ে মালিবাগ পর্যন্ত পুরো রাস্তা অচল হয়ে যায়। ফ্লাইওভারের ওপরে গাড়ি আটকে থাকতে  দেখা যায়। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে  বেলা ১২টার দিকে।
রহিমা খাতুন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা কোনো কথা বলব না। আমাদের কোনো নেতা নাই। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা ন্যায় বিচার চাই।’ মহাখালীর রেলগেইট এলাকায় বিএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। তারা রেল লাইনের দুইপাশে এবং সাতরাস্তা থেকে আমতলী যাওয়ার দুই দিকের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে গাড়ি আটকে চালক ও গাড়ির লাইসেন্স দেখছিলেন। কাগজ দেখাতে না পারলে গাড়ি পাঠাচ্ছিলেন পুলিশের কাছে। অনেক গাড়ির বনেটে বা গায়ে মার্কার কলম দিয়ে তাদের ‘উই ওয়ান্ট জার্স্টিস’ লিখে দিতে দেখা গেছে।
মিরপুরে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ ও যুবকের হামলা
নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকাজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় একদল যুবককেও লাঠি হাতে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হতে দেখা গেছে। বিকাল ৪টার দিকে মিরপুর-১৩ ও ১৪ নম্বরের মধ্যে বিআরটিএ থেকে কাফরুল থানা হয়ে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের গেইট পর্যন্ত সড়কে এই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। সংঘর্ষে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীরা বলেছেন, মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে তাদের মানবন্ধন কর্মসূচি চলছিল। পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার ইয়াসমীন সাইকা পাশা সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কোনো কারণ ছাড়াই কাফরুল থানায় হামলার চেষ্টা করে। পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান ফটক ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। তারা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরে পুলিশ সরিয়ে দেয়।’
সার্জেন্টের উপর হামলা ও মোটরবাইকে আগুন
ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্টের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ধানমন্ডির সায়েন্স ল্যাবরেটরি সিগন্যালে গতকাল দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সার্জেন্ট বায়েজিদ মোটরসাইকেলে চড়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি সিগন্যালে এলে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা তার গতিরোধ করে লাইসেন্স দেখতে চায়। সার্জেন্ট বায়েজিদ তখন উত্তেজিত হয়ে যান। এতে শিক্ষার্থীদের রোষানলে পড়েন তিনি। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সার্জেন্টের ওপরে হামলা হয়। তার মাথা এবং শরীরে কিল-ঘুষি মারা হয়।
আন্দোলনরত ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা না করে হাত  তোলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। তখন তাকে মারতে থাকে কিছু শিক্ষার্থী। তবে অন্য শিক্ষার্থীরা ওই সার্জেন্টকে উদ্ধার করে সায়েন্স ল্যাবরেটরি পুলিশ বক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরাই আবার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে পপুলার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের ওপরে হাত তোলার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত হয়ে ওঠে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা দু’টি বাস ভাঙচুর করে এবং সার্জেন্ট বায়েজিদের সরকারি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিলে সেটি ভষ্মিভূত হয়।
পুলিশের নিউমার্কেট জোনের এএসপি মো. শহীদুজ্জামান বলেন, ‘সার্জেন্ট বায়েজিদ বদলি ডিউটিতে এসেছিল। পথে কী হয়েছে, তা সঠিকভাবে বলতে পারবো না। বায়েজিদ মাথায় আঘাত পেয়েছে।  চিকিত্সকরা এক্সরে আর সিটিস্ক্যান করতে বলেছেন। রিপোর্ট আসার পর বলা যাবে তার আঘাত কতটা গুরুতর।
খাবার নিয়ে অভিভাবকরা রাজপথে
বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিসহ ৯ দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাস্তায় নেমেছেন অনেক অভিভাবকও। দুপুরে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার, পানি, স্যালাইন এবং বিস্কুট বিতরণ করতে দেখা গেছে অনেক অভিভাবককে।
খাবার ও পানি নিয়ে আসা অভিভাবকদের একজন নার্গিস আক্তার। ধানমন্ডিতে থাকেন তিনি। তার সন্তানও নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় আন্দোলন করছে। তিনি বলেন, ‘শুধু আমার ছেলেই না, আরও অনেক মায়ের সন্তান ন্যায্য দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। আমি তাদের দাবির সঙ্গে একমত। আমি আশা করি, অন্য অভিভাবকরাও তাদের সন্তানের জন্য নিরাপদ সড়ক চান। এই ভ্যাপসা গরমে অসুস্থ হয়েও পড়তে পারে তারা। তাই নিজেই চলে আসলাম। তাদের পানির ব্যবস্থা অন্তত করা গেলো। অন্যদের উচিত্ বাচ্চাদের খাবার দেয়া।’
পুলিশের গাড়িতে লাইসেন্স রাখার নির্দেশ
পুলিশের গাড়িগুলোয় লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে চালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দায়িত্বশীল সূত্র এ খবর জানিয়েছে। শিক্ষার্থীরা গত তিন দিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় গাড়িচালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করে দেখছে। লাইসেন্সবিহীন চালকের গাড়ি আটকে দিচ্ছে তারা। এই পরিস্থিতিতে ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয় থেকে এ নির্দেশনা এল।
শুটিং ফেলে রাস্তায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা
শুটিং ফেলে উত্তরার রাস্তায় বসে পড়েন অভিনয় শিল্পী ও কলাকুশলীরা। পরিচালক-প্রযোজকেরাও ঢাকার রাস্তায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেখে নিজেদের শুটিংয়ে আটকে রাখতে পারছেন না। কিশোর-কিশোরী এসব শিক্ষার্থীর ডাকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে সাড়া দিয়ে তারা রাস্তায় বসে পড়েন। উত্তরায় মাসকট প্লাজার সামনে অবস্থান নেয় পরিচালক, প্রযোজক ও শিল্পীরা।
পরিচালকদের পক্ষে সকাল আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে, এটা আমাদের সবার চাওয়া। এ দেশের সাধারণ জনগণের চাওয়া। দেশের নাগরিক হিসেবে আমরাও এসবের বাস্তবায়ন চাই। আমরা হয়তো রাস্তায় নেমে এত দিন বলতে পারিনি, এই তরুণ শিক্ষার্থীরাই আমাদের করে তা  দেখিয়ে দিয়েছে। এসব শিক্ষার্থীকে স্যালুট।’ অভিনেতা লুত্ফর রহমান জর্জ, রওনক হাসান, মিশু সাব্বির, অভিনেত্রী নাদিয়া আহমেদ, সাবেরী আলম, মনিরা মিঠু, অর্ষা, পরিচালক অরণ্য আনোয়ার, সকাল আহমেদ, সাগর জাহান, চয়নিকা চৌধুরী, সাফায়েত মনসুর রানাসহ অনেকেই সকাল থেকে রাস্তায় বসে ছিলেন। এর আগে বুধবারও শুটিং বন্ধ রেখে উত্তরায় আন্দোলন করতে দেখা যায় সকাল আহমেদ, জাকিয়া বারী মম, নাদিয়া আহমেদ, নওশীন, অর্ষা, তৌসিফ মাহবুবকে। শাহবাগে অংশ নিতে  দেখা যায় জ্যোতিকা জ্যোতি ও নওশাবাকেও।
ঢাকা থেকে আন্তজেলা সড়কপথে বাস বন্ধ
ঢাকা থেকে আন্তজেলা পথে গতকাল সকাল থেকে  কোনো বাস চলেনি। গাবতলী বাস টার্মিনালে বাস চলাচল বন্ধ করে বাস ভাঙচুরের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা। তারা বলছেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে কোনো বাস ছাড়া হচ্ছে না। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আন্তজেলা বাস টার্মিনাল গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী থেকে সকালে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। আবার কোনো বাস এসব টার্মিনালে আসেনি। এতে ঢাকা থেকে প্রায় সব সড়কপথে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দক্ষিণবঙ্গগামী সাতক্ষীরা এক্সপ্রেসের ব্যবস্থাপক বোরহান আহমেদ জানান, নিরাপত্তাহীনতার কারণে কোনো বাস ছাড়া হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।
রেললাইনে অবরোধ
কমলাপুর রেলওয়ের ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী জানিয়েছেন, গতকাল দুপুর সোয়া দুই থেকে চারটা পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মালিবাগ রেলগেইট এলাকায় রেললাইনের উপর অবস্থান নেয়। ফলে চট্টগ্রাম, সিলেট ও জামালপুরগামী তিনটি ট্রেন কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ছেড়ে যেতে বিলম্ব হয়। অপরদিকে বিমানবন্দর রেল স্টেশন মাস্টার মরন  চন্দ্র দাস জানান, এসময় একটি লোকাল ট্রেন মেইল ট্রেন পাচিংয়ের জন্য অপেক্ষা ছিল।

কৃতজ্ঞতায়: ইত্তেফাক