প্রচ্ছদ কমিউনিটি সংবাদ না ফেরার দেশে চলে গেলেন কবি আবুল বশর আনসারী

না ফেরার দেশে চলে গেলেন কবি আবুল বশর আনসারী

19
0
SHARE
নারী ডেক্স: ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের কর্মী, সুনামগঞ্জ মহকুমা আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ব্রিটেনের বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রবীন নেতা কবি আবুল বশর আনসারী আর নেই (ইন্না লিল্লাহ ই ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মরনব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকার পর ২৭ নভেম্বর, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটে পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনী হমারটন হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিলো ৯২ বছর। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। মৃত্যুর সময় ছেলেমেয়েরা তাঁর পাশেই উপস্থিত ছিলেন। জনাব আনসারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তার ছেলে আবুল হাসনাত সত্যবাণীকে জানান, তাঁর বাবার নামাজে জানাজার বিষয়ে শীঘ্রই তারা সবাইকে জানাবেন। জনাব আনসারীর মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে সিলেটে তাঁর মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে বলে জানান হাসনাত। আবুল বশর আনসারীর বড় মেয়ে জেনেথ রহমান টাওয়ার হ্যামলেটস বারায় একজন নির্বাচিত কাউন্সিলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কবি আবুল বশর আনসারী ১৯২৭ সালের ১লা জানুয়ারী সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বনগাঁও-এ জন্ম গ্রহন করেন।
তিনি ছিলেন একজন ত্রিকালদর্শী রাজনীতিক, কবি ও লেখক। কংগ্রেস, মুসলিম লীগ হয়ে সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁর ছিলো বর্নাঢ্য রাজনীতির অতীত। কিশোর বয়সে অবিভক্ত ভারতে কংগ্রেসকর্মী হিসেবে রাজনীতির শুরু করেন আবুল বশর আনসারী। মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী কংগ্রেসের এক নেতার ‘সাম্প্রদায়িক’ মন্তব্যের কারনে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে মুসলিম লীগে যোগ দেন।এ প্রসঙ্গে সত্যবাণীকে দেয়া তাঁর মন্তব্য ছিলো- “কেশবপুর জমিদার বাড়ীতে বসতো আমাদের নেতাদের নিয়মিত গোপন বৈঠক। একদিন এই বৈঠকে বাহির থেকে একজন হিন্দু নেতা আসলেন অতিথি হয়ে। স্থানীয় নেতা তাঁর সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলে উত্তরে তিনি বললেন, ‘মুসলমানের ছেলে রাজনীতিতে, ইন্টারেষ্টিংতো’।সেই মুহূর্তেই আমার কংগ্রেস জীবনের ইতি ঘটে। সরাসরি চলে আসি মুসলিম লীগের তৎকালীন স্থানীয় নেতা শরিয়ত উদ্দিনের কাছে। যোগ দেই মুসলিম লীগে।’’
আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এই নেতার স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে দলীয় এমপি হওয়ার মত যথেষ্ট গৌরবোজ্জল অতীত থাকলেও কোন সময়ই এই পদের জন্য লালায়িত ছিলেননা। প্রয়াত জননেতা আব্দুস সামাদ আজাদ ও জগন্নাথপুর-দক্ষিন সুনামগঞ্জের সাবেক এমপি প্রয়াত আব্দুর রইছ এডভোকেটের পক্ষেই সব সময় থেকেছেন সরব। ব্রিটেনে বাঙালী কমিউনিটির আজকের যে সুদৃঢ় অবস্থান এর পেছনেও রয়েছে আবুল বশর আনসারীর বিরাট অবদান। প্রবীন এই রাজনীতিক অকথিত ইতিহাসের এক পান্ডুলিপী। তিনি ইতিহাসের এমন এক তথ্যভান্ডার ছিলেন, যে ভান্ডারে জমা ছিলো অবিভক্ত ভারত ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনেক অকথিত অধ্যায়। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতির অনেক কুটিল সমীকরণের স্বাক্ষী ছিলেন জনাব আনসারী।
আবুল বশর আনসারী তাঁর জীবনের বিরাট একটি অংশ মানব কল্যাণে ব্যয় করেছেন। সিলেট অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষকে তিনি ব্রিটেন আসতে সাহায্য করেন। রুটি রুজির তাগিদে ব্রিটেনগমনেচ্ছুক মানুষের কাছে ঐসময় সিলেট এলাকার আরো কজনের সাথে তিনি হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তী।

কৃতজ্ঞতায়: সত্যবাণী