প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক জলবায়ূ সম্মেলন শুরুঃমঞ্জুর সাথে মোদীর করমর্দন

জলবায়ূ সম্মেলন শুরুঃমঞ্জুর সাথে মোদীর করমর্দন

463
0
SHARE
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা কমনওয়েলথ-ভুক্ত ছোট, অনগ্রসর দেশগুলিকে ২৫ লক্ষ মার্কিন ডলার দিয়ে সাহায্য করবে ভারত৷ রবিবার মালটার ভ্যালেত্তায় কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে নয়াদিল্লির তরফে এ কথা ঘোষণা করা হয়েছে৷ দূষণমুক্ত, নির্মল বিদ্যুত্শক্তি উৎপাদন এবং গ্রিন-হাউস গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাসে দেশগুলিকে সাহায্য করতেই ভারতের এই উদ্যোগ৷ বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ বলেছেন, “কমনওয়েলথ-এর ৫৩টি দেশের মধ্যে ৩১টি ছোট দেশ রয়েছে, যাদের কাছে ‘ট্রেড ফাইন্যান্স’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷” কম দূষণ হয়, এমন ধরনের যন্ত্রপাতি যাতে এই সব দেশগুলি ক্রয় এবং ব্যবহার করতে পারে, তার জন্যই ভারতের তরফে ২৫ লক্ষ মার্কিন ডলার অর্থসাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে৷ প্রসঙ্গত, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সিঙ্গাপুরের মতো বড় দেশের পাশাপাশি মালদ্বীপ, টোঙ্গার মতো ছোট দ্বীপদেশগুলিও কমনওয়েলথ-এর অন্তর্ভুক্ত৷ শুধু তাই নয়, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গোড়া থেকেই আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ এবং ধনী দেশগুলির ছোট দেশগুলির পাশে দাঁড়ানো উচিত বলে জানিয়ে আসছে ভারত৷
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সোমবার জাতি সংঘের সম্মেলনে যোগ দিতে রবিবার রাতে প্যারিসে পৌঁছেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ বারো দিন ব্যাপী ওই সম্মেলনে মোদি, মার্কিন প্রেসিডেণ্ট বারাক ওবামা, রুশ প্রেসিডেণ্ট পুতিন, চিনের প্রেসিডেণ্ট জিনপিং-সহ সহ প্রায় দেড়শো রাষ্ট্রপ্রধানের যোগ দেওয়ার কথা৷ অংশ নেবেন ১৯৫ দেশের ৪০ হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি৷ দুই সপ্তাহ আগেই প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন ১৩০ জন৷ সেখানেই এবার আয়োজিত হচেছ এই বিশ্ব সম্মেলন৷  তাই নিরাপত্তার দিকে রয়েছে বিশেষ নজর৷ সম্মেলনে বিশ্ব উষ্ণায়নের মতো বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ কোনও পদক্ষেপ যাতে সম্মেলনে গৃহীত হয়, তা নিশ্চিত করতে শহরজুড়ে ইতিমধ্যেই একাধিক মিছিলে শামিল হয়েছেন পরিবেশকর্মী এবং পরিবেশবান্ধব সংগঠনগুলি৷
monju modiঅন্যদিকে সোমবার সম্মেলন শুরু হওয়ার একদিন আগেই জলবায়ু পরিবর্তনে সাফল্য সংক্রান্ত ওইসিডি (অর্গানাইজেশন ফর ইকনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভলপমেণ্ট)-এর একটি রিপোর্টের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভারতের অর্থনৈতিক বিষয়ক সচিব শক্তিকান্ত দাস৷ রিপোর্টের দাবি, ২০২০-র মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনে  প্রতি বছরে দশ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করার যে রোডম্যাপ গৃহীত হয়েছে, তাতে ইতিমধ্যেই অভূতপূর্ব সাফল্য মিলেছে৷ শক্তিকান্ত দাসের মতে, ওইসিডি-র রিপোর্টে সাফল্যকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে৷ ওই রিপোর্ট ‘ভুলে ভরা’ এবং ‘একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়’৷

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের ভাষণ-

সম্মেলনটি সফল হলে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের অধিনে থাকা ১৯৫টি দেশকে নিয়ে প্রথমবারের মত সফল কোন চুক্তি সাক্ষরিত হবে।বিশ্বে উষ্ণতা কমাতে ১৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের লে বুর্জেতে অবস্থান করবেন ৩০ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর। এ সময়ের মধ্যে বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধির হার হ্রাস বিষয়ক একটি সার্বজনীন চুক্তিতে পৌছাবেন তাঁরা।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ আর বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি কোনো পার্থক্য দেখেন না। এই দুটি ইস্যুই বিশ্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি। বিবিসি অনলাইন ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এ কথা জানানো হয়।
বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বিশ্বের ১৯৫টি দেশের আলোচকেরা কপ-২১ নামের এই জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। দু্‌ই সপ্তাহের এই সম্মেলনে ১৪৮টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা যোগ দেওয়ার কথা। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য কার্বন নিঃসরণকারী জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়া।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ বলেন, ‘আমি সন্ত্রাসবাদ আর বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে আলাদা করতে পারি না।’ তিনি বলেন, ‘এই দুটি ইস্যুই বিশ্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সন্ত্রাসবাদ মুক্ত বিশ্ব এবং দুর্যোগ সুরক্ষিত একটি গ্রহ রেখে যেতে চাই।’
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলসহ বিশ্বনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার দুই সপ্তাহ পর সেখানে এই সম্মেলন শুরু হলো। সম্মেলনস্থলকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

climateএবং  স্টার্ন-

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব অস্বীকার করে ২০০৬ সালে একটি বিতর্কিত প্রতিবেদন লিখেছিলেন স্টার্ন। সাত বছর পর তিনিই স্বীকার করেন, সেই বক্তব্য ভুল ছিল। তিনি গুরুতর বিষয়টার অবমূল্যায়ন করেছিলেন। নিকোলাস স্টার্ন ২০১৩ সালে বলেন, পৃথিবী এবং বায়ুমণ্ডল তার প্রত্যাশার চেয়ে কম কার্বন শোষণ করছে। আর ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর নিঃসরণ বেড়েই চলেছে। তার কয়েকটি প্রভাব অভাবনীয় দ্রুত টের পাওয়া যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন রোধ নিয়ে বড় ধরনের উদ্যোগের বিষয়ে সংশয়ের কারণ, যেখানে সরকারি সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন। বিশেষ করে যদি তা মোটরগাড়ি শিল্প বা বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো এবং জনবহুল চীন ও জাপানে মাংস খাওয়া এবং বিদ্যুৎ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র, জ্বালানি তেল ইত্যাদির ব্যবহার কমবে—এমনটা আশা করা কঠিন। তবে এসব দেশে কার্বনমুক্ত বা কম কার্বন নিঃসরণকারী উপকরণের ব্যবহার বাড়তে পারে। যেমন: সৌরবিদ্যুৎ। আফ্রিকা ও এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও এ কথা প্রযোজ্য। সৌরবিদ্যুতের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য সরকারকে খুব বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হবে না। আর এমন অনেক প্রযুক্তি রয়েছে, যেগুলো ব্যবহারের সামর্থ্য করদাতাদের এমনিতেই আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here