প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক কাতারে সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক, প্রশিক্ষণ নিতে হবে নারীদেরও

কাতারে সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক, প্রশিক্ষণ নিতে হবে নারীদেরও

133
0
SHARE
আন্তজার্তিক ডেক্স: কাতারে প্রত্যেক পুরুষ নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশটির আমির শেইখ তামিম বিন হামাদ আলে সানি এক ডিক্রি জারি করে বলেছেন, ১৮ বছর পূর্ণ হলে অথবা কলেজ জীবন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যেক ছেলে সন্তানকে সামরিক প্রশিক্ষণে পাঠাতে হবে।
আমিরের নির্দেশে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণের মেয়াদ হবে এক বছর। এর মধ্যে চার মাস সরাসরি সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে এবং বাকি আট মাস যেকোনো একটি সরকারি অফিসে কাজ করতে হবে।
কাতারের বিরুদ্ধে নানা ধরণের হুমকি বেড়ে যাওয়ায় এ ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমিরের নির্দেশে বলা হয়েছে, যারা সামরিক প্রশিক্ষণ নেবে না তারা সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পাবে না।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যেক পুরুষ নাগরিক ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত দেশের সৈনিক হিসেবে গণ্য হবে এবং যুদ্ধের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে তাকে সেখানে অংশ নিতে হবে। বর্তমানে কাতারে ২২ লাখ লোক বসবাস করে। এর মধ্যে মাত্র প্রায় সাড়ে তিন লাখ অধিবাসী দেশটির নাগরিক।
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানি নতুন একটি আইনে সই করেছেন যাতে বলা হয়েছে দেশে নারীদেরকেও স্বেচ্ছায় এক বছরের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এ আইনে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের নারীদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ নেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ আইনের আওতায় নারীদের সামরিক প্রশিক্ষণ হবে ‘স্বেচ্ছাসেবামূলক’। কাতারে এই প্রথম নারীরা সরকারি চাকরির বাইরে সামরিক বাহিনীতে ভূমিকা পালনের সুযোগ পাচ্ছেন।
এর আগের আইন অনুসারে, কাতারের যেসব নাগরিক ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তাদের জন্য তিন মাসের সামরিক প্রশিক্ষণ নেয়ার বিধান ছিল। যারা ব্যাচেলর ডিগ্রি নেন নি তাদের জন্য চার মাসের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু নতুন আইন অনুযায়ী, নাগরিকরা যে পর্যায়ের লেখাপড়া শেষ করুক না কেন তাদের জন্য এক বছরের সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কাতারি নাগরিকদের বয়স ১৮ হলেই দুই মাসের মধ্যে সরকারের কাছে রিপোর্ট করতে হবে অন্যথায় সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১৩ হাজার ৭০০ ডলার জরিমানা করা হবে। সৌদি আরব ও তার তিনটি সহযোগী দেশ যখন কাতারের ওপর সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করেছে তখন দোহার সরকার এই আইন করল।